নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে শিখ দাঙ্গার ক্ষত | বিশ্ব | DW | 15.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে শিখ দাঙ্গার ক্ষত

সাধারণ নির্বাচন শেষ পর্যায়ে৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর দলের অন্য নেতারা চুরাশির শিখ‌বিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টানেন বারবার৷‌পাঞ্জাবে ভোটগ্রহণ ১৯ মে৷ পুরোনো ক্ষত উস্কে দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিখ ভোটারদের৷

প্রতিবার নির্বাচনের মুখে শিখ সম্প্রদায়ের ক্ষত উস্কে দেওয়ার রাজনীতি ভারতে নতুন নয়৷ এবারও চুরাশির শিখ‌বিরোধী দাঙ্গার ক্ষত  জাগিয়ে তুলে নির্বাচনি হাওয়া গরম করার চেষ্টা চলেছে৷ এই কাজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল বিজেপি এগিয়ে৷ উদ্দেশ্য বেশ স্পষ্ট৷ শিখদের ভোট কংগ্রেস থেকে দূরে সরানো৷ তাতে কতটা সাফল্য আসবে, প্রমাণ মিলবে আগামী ২৩ মে৷

১৯‌৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজের শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যু হয়৷ তারপর দিল্লি‌সহ গোটা দেশে শিখ‌বিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে৷ প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেই দাঙ্গায়৷ অভিযোগ উঠেছিল, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার পুত্র রাজীব গান্ধীর নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে সেই দাঙ্গা ছড়ানো হয়েছিল৷ সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বহু কংগ্রেস নেতা৷ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেতা, তথা রাহুল গান্ধীর মেন্টর শ্যাম পিত্রোদা বলেছেন, ‘‌‘‌গত পাঁচ বছরে বিজেপি ও  নরেন্দ্র মোদী কী কাজ করেছেন, তার হিসেব দিতে হবে৷ চুরাশির দাঙ্গা হয়েছিল তো হয়েছিল৷''  হিন্দি ভাষায় বলেছিলেন, ‘‘‌হুয়া তো হুয়া৷''‌ এই মন্তব্যে তিনি যেন বিজেপি'‌র হাতে নতুন হাতিয়ার তুলে দিয়েছেন৷‌ বিজপি'র অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেল থেকে একের পর এক টুইট করে দাঙ্গা ইস্যুকে রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে আনা হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ‌সহ তাঁর দলের একাধিক নেতা জনসভা কাঁপাচ্ছেন ৩৫ বছর আগের শিখবিরোধী সেই দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে এনে৷

পঁয়ত্রিশ বছর আগের সেই ভয়ঙ্কর শিখ‌বিরোধী দাঙ্গার স্মৃতি আজও তাজা হয়ে আছে বছর পঁয়ষট্টির খুশবন্ত সিংয়ের স্মৃতিতে৷ দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন এলাকার বাসিন্দা খুশবন্ত ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘‌‘‌কেউ সাজা পায়নি৷ শিখ সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখের৷ রাজনীতি বুঝি না৷ তবে দোষীদের, খুনিদের শাস্তি না হওয়া অবধি আমাদের শান্তি নেই৷'‌'‌

দিল্লির আনন্দলোকের বাসিন্দা সপরিবারে ভোট দিতে বেরিয়েছিলেন৷ এক প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘‌‘দেখুন, ‌রাজীব গান্ধী যদি ভুল করে থাকেন, তার শাস্তি ছেলে রাহুল পাবে কেন? রাজীব তো আর বেঁচে নেই, তাঁকে দোষারোপ করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটদান করা বোকামি৷'‌'‌ তাঁর মতে, জেনে-বুঝে প্রতিবার ভোটের মুখে শিখ সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে৷ ৩৫ বছর আগের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার সময় বছর দশেক বয়স ছিল অমরিন্দরের৷ পথে-‌ঘাটে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করার ছবি আজও স্পষ্ট ভাসে তাঁর চোখে৷ সে সময় একটা বড় টিনের বাক্সে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর কথা শোনাচ্ছিলেন তিনি৷ তাঁর কথায়, ‘‌‘‌দাঙ্গাপীড়িতরা ‘‌ক্ষতিপূরণ'‌ হিসেবে বাড়ি, চাকরি পেয়েছেন৷ তবে অনেকেই তা পাননি৷ ক্ষোভ আছে৷ কংগ্রেসবিরোধী প্রচার আছে৷ তবে যত দিন গড়িয়েছে, সেই ঘটনা ভুলে যেতে চেয়েছে মানুষ৷'‌'

‌‌নয়া দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারার সামনে কথা হচ্ছিল শিখ তরুণ বলবীন্দর সিংয়ের সঙ্গে৷ চুরাশির দাঙ্গা ও লোকসভা নির্বাচন নিয়ে কথা উঠতেই তিনি বললেন, ‘‌‘‌রাজনৈতিক নেতারা বার বার ১৯৮৪-‌র কথা বলেন৷ এই নেতাদের ওপর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷ শিখ ধর্মের মানুষ কংগ্রেসকে ভোট দেবে না৷'‌'‌

‌পাঞ্জাবে অমৃতসরের দুই কলেজ ছাত্র যশদীপ ও কুলদীপ৷ তাঁরা মনে করেন, শ্যাম পিত্রোদার মন্তব্য ন্যক্কারজনক৷ ক্ষমা চাওয়া উচিত৷ কিন্তু, পিত্রোদার জন্য গোটা কংগ্রেস দলকে কাঠগড়ায় তোলা ঠিক হবে না৷ রাহুল গান্ধী পিত্রোদার মন্তব্য খন্ডন করেছেন৷

এত সবের মধ্যেও চুরাশির দাঙ্গা অন্যান্য বারের মতো এবারও পাঞ্জাব ও আশেপাশের রাজ্যে নির্বাচনি ইস্যু হয়ে উঠেছে৷ বিজেপি‌র অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডল থেকে রাজীব গান্ধীর বয়ান‌সহ নানাবতী কমিশনের রিপোর্ট ইত্যাদি টুইট করা হয়েছে৷ এর ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই তিন রাজ্যের ভোটে কংগ্রেস ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে৷ সাংগঠনিক কারণ ও সাধারণ পাটীগণিতের হিসেবে পাঞ্জাব ছাড়া দিল্লি ও হরিয়ানায় কংগ্রেসের তেমন আশাপ্রদ ফল হওয়ার সম্ভাবনা সত্যিই কম৷ কিন্তু রাজীব গান্ধী ও শিখ‌বিরোধী দাঙ্গার স্মৃতির ভূমিকা এতে নগন্য৷

সত্তরোর্ধ জগজিৎ সিং বাদল আবার প্রার্থীদের মধ্যে ‘‌ভালো মানুষ'‌ খুঁজছেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানিয়েছেন, ‘‌‘‌লোকসভা নির্বাচন আসছে৷ পাঞ্জাবের মানুষ তাঁদেরই বেছে নেবে, যাঁরা উনন্নয়নের কথা বলবেন৷ তবে চুরাশির দোষীরা ভোট পাবে না৷ বিজেপি, শিরোমণি অকালি দল, কংগ্রেস হিসেবে নয়, কাজের মানুষরাই ভোট পাবেন৷'‌'‌

নয়া দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালের চিকিৎসক ধরমবীর সিংয়ের কাছে নির্বাচনে চুরাশির দাঙ্গা ইস্যু তুলতেই তেলে-‌বেগুনে জ্বলে উঠলেন৷ উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘‌‘‌কাম কি বাত করো৷ ৫ সালমে কেয়া কিয়া?‌ ওয়াদা নিভায়া?‌ হাম লোগ উস পুরানি বাতো কো ভুলনা চাহতে হ্যায়৷ রাজীব গান্ধীকে সাথ দাঙ্গা কা মুদ্দা খতম হো গ্যায়া৷'‌'‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন