নির্বাচনের ভয়ে সংখ্যালঘুরা | বিশ্ব | DW | 24.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নির্বাচনের ভয়ে সংখ্যালঘুরা

জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়৷ তাই এবার ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তা চান৷ আর সেজন্য ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ৷

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়৷ সমাবেশ হবে দুপুর ১টায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে৷ ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর জাতীয় সমন্বয় কমিটিভুক্ত ২১টি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে এই  মহাসমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে৷ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান৷

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সোমবার ডয়চে ভেলেকে  বলেন, ‘‘সমাবেশে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুরা কী ভাবছে, তাদের দাবিগুলো কী এগুলোকে আমরা রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও জোট  এবং সরকারের কাছে তুলে ধরবো৷''

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কিন্তু আমাদের কাছে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে না৷ এটা আসে বিপর্যয়ের শঙ্কা নিয়ে৷ কারণ, আমরা লক্ষ্য করেছি, অতীতে ৯০-এর পরবর্তী যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, স্থানীয় বা জাতীয় যে নির্বাচনই হোক, শুধুমাত্র ২০০৮-এর সংসদ নির্বাচন ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ শুরু হয় এবং নির্বাচনের পরও অনেক দিন ধরে তা চলে৷ সেই সময়ে আমরা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রের একটা নির্বিকার ভূমিকা সব সময় লক্ষ্য করি৷ এ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আমাদের বক্তব্য তুল ধরবো৷''

অডিও শুনুন 01:26

‘নির্বাচন কিন্তু আমাদের কাছে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে না, আসে বিপর্যয়ের শঙ্কা নিয়ে’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমরা সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশের দাবি তো তুলবোই, আর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দায়মুক্তি সংস্কৃতি অব্যাহত আছে৷ আমরা চাইব, সেখান থেকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি মুক্তি পাক৷''

রবিারের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, হামলা কমে এলেও নির্যাতন-নিপীড়নের ধারা আজও অব্যাহত আছে৷ সারাদেশে উপাসনালয়ে আবারও আক্রমণ শুরু হয়েছে৷ আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাই৷''

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন:

২০০১ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের বরিশাল, বাগেরহাট, পাবনা ও নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায়ব্যাপক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে৷ এরপর থেকে  একযোগে বিভিন্ন সংখ্যালঘু নির্যাতন কিছুটা কমে এলেও তা থামেনি৷ ২০১২ সালের অক্টোবরে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর বড় ধরনের হামলা হয়৷ ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরে হিন্দুদের শতাধিক বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়৷ অন্তত ১০টি মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়৷হিন্দু পল্লিতে নারী-পুরুষকে বেধড়ক পেটানো হয়৷ ২০১৭ সালের নভেম্বরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয় রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপড়া এলাকায়৷ ওই ঘটনার পর সারাদেশে আরো অন্তত পাঁচটি মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে৷

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালের প্রথম তিন মাসেই প্রায় তিনগুণ সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে৷ জানুয়ারি , ফেব্রুয়ারি, মার্চ এই তিন মাসে ৮২৫০টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে৷ এর মধ্যে হত্যা, আহত, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত, গণধর্ষণ, জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও উচ্ছেদের ঘটনা রয়েছে৷ ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ২৬১টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে৷ আর ১৫৬২টি প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন৷ কিন্তু ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত  প্রথম তিন মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর কমপক্ষে ৭৩২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা আগের  বছরের প্রায় তিনগুণ৷ এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৫৬৬ টি,  যা আগের এক বছরের তুলনায় ছয়গুণেরও বেশি৷ এ সময়ে ১০ জন নিহত, ৩৬৬ জন আহত এবং ১০ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন৷ জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে ২টি৷ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন৷ জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৬৫৫টি৷ ২২টি পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হয়ে৷

অডিও শুনুন 02:16

‘আমরা বলি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায়৷ এটা ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব’

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) তাদের প্রতিবেদনে  জানায়, ‘‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে৷'' সংস্থাটি বলছে, ‘‘ভূমি দখলের ক্ষেত্রে  হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা আক্রমনের শিকার হন৷ ২০১৪  সালের জাতীয়  নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বার বার আক্রমনের শিকার হয়েছেন৷

সংখ্যালঘু নির্যাত কেন বন্ধ হয় না

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ না হওয়ার জন্য রাষ্ট্রকেই দায়ী করেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘ মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিলো৷ যারা রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করল, তারা বৌদ্ধ৷ প্রতিক্রিয়ায় দুই-তিনটি ঘটনা ঘটলো৷ বাংলাদেশে কয়েকজন বৌদ্ধ সাধুর ওপর হামলা হলো৷রাষ্ট্র, আমরা চিৎকার করে উঠলাম৷ এরপর গত দেড়-দুই বছরে কিন্তু আমরা বৌদ্ধদের ওপর আর কোনো হামলা ঘটনা ঘটতে দেখিনি৷ আমি বলতে চাই, রাষ্ট্র যদি মিন করে, রাষ্ট্র যদি চায়, বড় মাত্রার কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে না৷ রাষ্ট্রেকে চাইতে হবে৷ এটা সবক্ষেত্রে৷ ''

তিনি বলেন, ‘‘সর্বশেষ রংপুরের ঘটনায় সাত দিন ধরে ক্যাম্পেইন করে তারপর হামলা করা হলো৷ সবাই সব কিছু জানে৷ তারপর হামলার দুই-তিন ঘণ্টা পর এসে প্রশাসন বলে আমরা কিছু জানতাম না৷ তাই বলছি, রাষ্ট্র মিন করে কিনা৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা বলি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায়৷ এটা ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব৷ ক্ষমতা শব্দটি ওদেরকে নষ্ট করে দেয়৷ আমি প্রধানমন্ত্রী হবো, আমি পুলিশ কমিশনার হবো, এটা আমার দায়িত্ব৷ জনগণের কাছ থেকে একজন ভোট নিয়েছেন, আরেকজন বেতন নিয়েছেন৷ এটা ওনাদের দায়িত্ব৷ ওনারা যদি দায়িত্ব পালনকে মিন করেন, সব ঠিক হয়ে যাবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন