নির্বাচনের প্রচারণায় বৈপরীত্য | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নির্বাচনের প্রচারণায় বৈপরীত্য

একাদশ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন৷ কিন্তু আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, দেশে এখনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি হয়নি৷

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবই যেন ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে৷

গত দুই সপ্তাহ ধরে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে দলগুলো৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন৷ এবার নির্বাচিত হলে চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি৷ অন্যদিকে, সংসদের বাইরে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি'র কোনো নেতাকে সে ধরনের বড় সমাবেশ করতে দেখা যায়নি৷ খুব ছোট ছোট করে গণসংযোগ করছেন তাঁরা৷ দলটির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে এখন দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ তাঁর এই সাজাকে বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে উল্লেখ করে আসছে সবসময়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিএনপি জানিয়েছে, তাদের অনেক প্রার্থী হুমকির মুখে প্রচারণায় নামতে ভয় পাচ্ছেন৷ ক্ষমতাসীনদের দ্বারা হামলার শিকার হওয়া এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে তাঁরা প্রচারণায় সরব হতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয় এএফপির প্রতিবেদনে৷ বিএনপি'র দাবি, এখন পর্যন্ত তাদের দেড়শ' প্রার্থীর উপর হামলা চালানো হয়েছে, ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় বিএনপি'র কয়েক হাজার কর্মী আহত হয়েছে৷

নির্বাচনি সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রধান দুই দলের ৬ সমর্থক নিহত হয়েছেন৷ সংঘর্ষ এড়াতে তাই বিএনপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে৷ এর মাধ্যমে তারা ১০ কোটি ভোটারের কাছে পৌঁছাতে চাইছে৷ সম্প্রতি বিএনপি'র শীর্ষ নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তরুণ প্রজন্মকে ভোট দেয়ার আবেদন জানিয়ে করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে৷ শুক্রবার রাতে তিন মিনিটের ভিডিওটি ফেসবুকে ছাড়া হয়৷

এছাড়া ভাইরাল হয়েছে একটি কবিতা, যেখানে ক্ষমতাসীন সরকারের সহিংসতা এবং ছাত্র আন্দোলনে হামলার কথা উল্লেখ করে নিন্দা জানানো হয়েছে৷ 

তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগেরও রয়েছে সরব উপস্থিতি৷ আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন গ্রুপ সরকারের উন্নয়নের এবং বিরোধীদের সহিংসতার ছোট ছোট অনেক ভিডিও ফেসবুকে ছেড়েছে৷ সেগুলোর বেশিরভাগেই রয়েছেন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের তারাকারা৷

বিএনপি'র মুখপাত্র সাইরুল কবীর খান এএফপিকে জানান, ‘‘রাষ্ট্রীয় এবং মূল ধারার বেশিরভাগ গণমাধ্যম ক্ষমতাসীনদের কোপের মুখে পড়ার আশংকায় বিরোধীদের প্রচারণা সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে না৷'' তিনি বলেন, বেশিরভাগ চ্যানেলেই আওয়ামী লীগের প্রচারণা সংক্রান্ত নানা বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে৷ এ কারণেই তাঁরা প্রচারণা চালাতে ফেসবুককে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি৷

অশ্লীল ও অযৌক্তিক তথ্য সম্বলিত হওয়ার অভিযোগ এনে কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে বিএনপি'র ওয়েবসাইট ব্লক করে দিয়েছে৷ গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি'র ফেসবুক পাতাটিও ‘ডাউন' বলে দাবি করেছে দলটি৷

ফেসবুক গত সপ্তাহে জানিয়েছিল তারা বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন করে এবং বিরোধীদের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে এমন ৯টি পাতা ও ৬টি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে৷

সুশীল সমাজ এবং অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন করছে এই সরকার৷ পাশাপাশি তাঁরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন৷ মানবজমিন-এর সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এএফপিকে বলেন, ‘‘বিরোধী দলগুলো এত ভয়ে আছে যে তারা মুক্তভাবে প্রচারণা চালাতে পারছে না৷মিডিয়াও শঙ্কায় আছে৷এটাই বাস্তবতা৷''

এপিবি/এসিবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন