নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 29.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

‘নিয়ন্ত্রিত' নির্বাচনের অভিযোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে চায় ঐক্যফ্রন্ট৷ ‘নাশকতাচেষ্টার' পালটা অভিযোগ করছে আওয়ামী লীগও৷ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভোটারদের৷

পেশায় ইলেকট্রনিক্স মেকানিক সাহাবুদ্দিন মিয়া ঢাকা ৬ আসনের ভোটার৷ জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরোনো ঢাকার অলিগলিতেই৷ মাঝবয়সী এই মানুষটি এ পর্যন্ত চারবার ভোট দিয়েছেন৷ যে কোনো শঙ্কা পেছনে ফেলে এবারও যাবেন ভোট দিতে, বললেন, তিনি ভয় পান না৷

‘‘ভোট দেয়া আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার৷ এটাতে আর কারো অধিকার নাই৷ আমি খুশি মনে ভোট দেবো'', ডয়চে ভেলেকে বলেন সাহাবুদ্দিন৷

তিনি বলেন, ‘‘কেউ ভয় দেখালে সেটা ভোট হয় না৷ কেউ কেউ ভয়ে নাও যেতে পারেন ভোটকেন্দ্রে৷ কিন্তু যারা আসলেই ভোট দিতে চান তারা যাবেনই৷''

দেশে বিরোধী দল চাপে আছে বলে মনে করেন ৩০ বছর বয়সী আসিফ বিল্লাহ৷ ‘নিয়ন্ত্রিত' এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ করলেও ভোট দিতে যাবেন তিনি৷

ভিডিও দেখুন 00:26

‘যারা আসলেই ভোট দিতে চান তারা যাবেনই’

‘‘আশা করেছিলাম এবারের নির্বাচনটি গণতন্ত্রে যেমন করে হয়, তেমন হবে৷ কিন্তু তা হয়নি,'' বলেন আসিফ৷

তিনি যোগ করেন, ‘‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় আসবে৷ তারা যদি ক্ষমতায় এসে আগের চেয়ে আরেকটু ‘ভালোভাবে' সরকার পরিচালনা করে তাহলে হয়তো ভালো হবে,'' বলেন আসিফ৷ 

রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ৷ সারা দেশে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ ভোট দেবেন৷

এই নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই বিরোধী পক্ষ তাদের ওপর হামলা ও মামলার অভিযোগ দিয়ে আসছে

সহিংসতাও হয়েছে বেশ কিছু৷ এতে ভোটাররা সহিংসতার ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে অনেকেরই৷ তাই সাহাবুদ্দিন ও আসিফের মতো মানুষদের ওপরই আস্থা রাখতে চান ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন৷

বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ভরসার কথা তুলে ধরেন তিনি৷ নিরাপদ সড়ক দাবির ছাত্র আন্দোলনে জনপ্রিয় হওয়া স্লোগান উল্লেখ করে তিনিও বলেন, ‘‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ৷''

ভিডিও দেখুন 00:28

‘আশা ছিল গণতন্ত্রে নির্বাচন যেমন করে হয়, তেমন হবে৷ কিন্তু তা হয়নি৷’

‘সরব না': কামাল

বিকেল চারটায় প্রথমে স্থানীয় সাংবাদিকদের ও পরে বিদেশি গণমাধ্যমের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃ্ত্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা৷

ড. কামাল ঘোষণা দেন যে কোনো উপায়েই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন তারা৷ ‘‘আমরা নিজে থেকে এটা থেকে কোনোভাবে সরে যাব না,'' বলেন তিনি৷

তিনি মনে করেন মানুষ চায় পরিবর্তন৷ ‘‘মানুষকে বলেন কী চাও? ‘পরিবর্তন' শব্দটা তারা জোর গলায় বলে,'' দাবি করেন কামাল৷

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচনে থাকা বা বয়কট করা নিয়ে বিভেদ আছে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘কোনো বিভেদ নেই৷ ঐক্য আরো সুসংহত হয়েছে৷''

তবে ভোটের দিন সরকারি দলীয় কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা ও ভোট জালিয়াতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি৷

অডিও শুনুন 03:24

‘আমরা নিজে থেকে নির্বাচন থেকে সরে যাব না’

নাশকতার শঙ্কা আওয়ামী লীগেরও

এদিকে, আওয়ামী লীগও ভোটের দিন নাশকতার আশঙ্কা করছে৷ শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, ‘‘আমাদের কাছে এমন খবর আছে, বিএনপি-জামাত জোট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে৷ আগামীকাল সারা দেশে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে৷ এমনকি ভুয়া ব্যালট পেপার ও ভুয়া বুথ তৈরি করে ভিডিও বানিয়ে গুজব সৃষ্টি করতে পারে৷''

ঐক্যফ্রন্টের করা ভোট জালিয়াতির অভিযোগকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেন ইমাম৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা হাস্যকর, কেননা ব্যালট বাক্সগুলো নির্বাচন কমিশন থেকে সশস্ত্রবাহিনীর প্রহরায় তাঁরা নিয়ে যাচ্ছেন৷ যেখান থেকে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে আমাদের যাতায়াত তো দূরের কথা, প্রবেশাধিকারই নেই৷''

ইমামের আশঙ্কা, নৌকার ‘গণজোয়ার' দেখে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে বিএনপি জোট৷

তিনি বলেন, ‘‘নোয়াখালীতে বিএনপি প্রার্থী মওদুদ আহমদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আগাম অভিযোগপত্র প্রিন্ট করে রেখেছেন৷''

প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

এদিকে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৮শ' ৬১ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭শ' ৩৩ জন এবং  বাকি ১২৮ জন স্বতন্ত্র৷

আদালতের নির্দেশনায় ধানের শীষের প্রার্থী কমেছে ১৬ জন৷ আওয়ামী লীগ ও শরিকদের মিলিয়ে নৌকার ২৭২ জন প্রার্থী এবং বিপরীতে ধানের শীষের প্রার্থী সংখ্যা ২৮২ জন৷

এরই মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে গেছে সরঞ্জাম৷ রোববার সকাল আটটায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ৷ চলছে বিকেল চারটা পর্যন্ত৷

নির্বাচনে সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের নির্দেশও দিয়েছেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা৷

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীও৷ রাজধানীর আজিমপুরে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন