নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে আওয়ামী লীগ, বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা বিএনপির | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে আওয়ামী লীগ, বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা বিএনপির

আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে শাসক দল আওয়ামী লীগ৷ আর বিএনপি কাজ করছে বৃহত্তর ঐক্য গঠন নিয়ে৷

এদিকে জাতীয় পার্টিও পিছিয়ে নেই৷ আপাতত কোনো জেটে যেতে চায় না দলটি বরং আগামী নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি দেখানোর কথাই ভাবছে৷

ঘরে-বাইরে নজর আওয়ামী লীগের

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা বসে৷ বৈঠক শুরুর আগে দলটির তিন জন সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট হওয়া গেছে যে, আওয়ামী লীগ আশা করছে তাদের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে৷

তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে কীভাবে নির্বাচন করা হবে তাও তারা এখনই ঠিক করে রাখতে চায়৷ আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা হলো কেউ নির্বাচনে না এলেও যথা সময়ে নির্বাচনের আয়োজন করা এবং কেউ নির্বাচন প্রতিহত করতে চাইলে তা মোকাবিলা করা৷ 

আর সম্ভাব্য এসকল পরিস্থিতি সামলাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যে ইস্যুগুলো রয়েছে তা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে সে কৌশলও তারা বিবেচনা করছে৷

‘নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলের প্রধান শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেবেন’

দুই বছরেরও বেশি সময় পর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে শনিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ আর এই বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা৷ তারা বৈঠক শুরুর আগে শনিবার নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি বৈঠকও করেছেন৷

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) সাখাওয়াত হোসেন  শফিক জানান, ‘‘আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় কাউন্সিলের আগে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে যে কমিটিগুলো এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ সেগুলো নতুন করে গঠন করব৷ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলের প্রধান শেখ হাসিনা আমাদের নির্দেশনা দেবেন৷ তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সারাদেশে কাজ করব৷ নির্বাচনে আমাদের কৌশল কী হবে তাও তিনি আমাদের বলে দেবেন৷’’

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের মূল শক্তিই হলো তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা৷ তারাই নির্বাচনে, প্রচারে, আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা পালন করে৷ এবারও তাই হবে৷ আমরা বা তারা বলে কিছু নেই৷ সবাই মিলেই আওয়ামী লীগ৷’’

নিজেদের দলীয় অবস্থান শক্তিশালী করার পাশfপাশি বিএনপি এবং জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগের বৈঠকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতের নিবন্ধন না থাকলেও তারা তো বিএনপির সাথে আছে৷ আশা করি সবাই নির্বাচনে আসবে৷ কিন্তু কেউ যদি নির্বাচনকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে তাহলে রাজনৈতকিভাবে প্রতিহত করা হবে৷’’

‘আমরা কোনোভাবেই এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না’

সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) আফজাল হোসেন  জানান, ‘‘জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব ইস্যুই আওয়ামী লীগ নজরে রাখছে৷ এগুলো নিয়ে কৌশল নির্ধারণও করা হচ্ছে৷ আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য যা করা দরকার তার সব প্রস্তুতিই আমরা নিচ্ছি৷’’

র‌্যাব ও পুলিশের ছয় কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর আর যাতে নতুন করে কেউ কোনো নিষেধাজ্ঞার মুখে না পড়ে সেদিকেও সতর্ক হচ্ছে আওয়ামী লীগ৷ আর এর জন্য তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রচার জোরদার করছে তারা৷ একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়েও তারা বিভিন্ন মাধ্যমে কথা বলবে বলে জানা গেছে৷

জাতীয় পার্টির সাথে মহাজোট নিয়ে এখনো ভাবছে না আওয়ামী লীগ৷ তবে নির্বাচন এগিয়ে এলে পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে বলে জানান এই নেতারা৷ তবে ১৪ দলীয় জোটকে আরো সক্রিয় করা হচ্ছে৷

বৃহত্তর জোট নয়, ঐক্যের চেষ্টা বিএনপির

এদিকে বৃহত্তর জোট গঠনের ঘোষণা দিলেও এখন জোট নয় বরং বৃহত্তর ঐক্য করতে চায় বিএনপি৷ জাতীয় সরকার নির্বাচনের আগে না পরে এই ইস্যুতে ঐকমত্য না হওয়ায় বিএনপি বৃহত্তর জোটের চিন্তা থেকে সরে এসেছে৷

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘‘এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন- এই মিনিমাম ইস্যুতে আমরা একমত হয়ে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য করার কাজ করছি৷ জোট হবে কী হবে না তা নির্ভর করবে ঐক্য হওয়ার পর৷ আর নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে আন্দোলনে থাকা সব দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে৷’’

জানা গেছে, এই বৃহত্তর ঐক্যে কোনো দল আলাদাভাবে বা ছোট ছোট দল জোট করেও থাকতে পারবে৷ সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি দিয়ে আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করবে তারা৷ ঐক্যের গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হলে বিএনপি বড় কোনো কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে৷

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘‘আমরা তো এমনিতেই চাপের মুখে আছি৷ আন্দোলন-সংগ্রাম করলে চাপ আসবেই৷ নির্বাচনের আগে যদি  চাপ আরো বাড়ে তাহলে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তা মোকাবিলা করব৷ আমরা কোনোভাবেই এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না৷ নির্বাচন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে৷’’

'আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার কাজ শুরু করেছি'

জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায়

জাতীয় পার্টি এখনই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে৷ কোনো জোট থেকে নয় বরং এককভাবে নির্বাচন করতে চায় দলটি৷

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু জানান, ‘‘নির্বাচনের পর মহাজোটের আর কোনো অস্তিত্ব নাই৷ ওটা ছিলো একটি নির্বাচনী জোট৷ আবার এই জোট হবে কি না বা তারা কোন দিকে যাবে--আওয়ামী লীগ না বিএনপি-- তা সময়ই বলে দেবে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ৩০০ আসনেই নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার কাজ শুরু করেছি৷ যেখানে আমাদের ভালো প্রার্থী নাই সেখানে আমরা যোগ্য লোকজন যারা আসতে চান তাদের নিচ্ছি৷’’

সাংগঠনিক কার্যক্রমও জোরদার করেছে দলটি৷ বর্ধিত সভা করে দলটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী জুন মাসের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে, এরপর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা করা হবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে৷ তারপর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে তারা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়