নির্বাচনের আমেজ নেই, আওয়াজ আছে আন্দোলনের | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নির্বাচনের আমেজ নেই, আওয়াজ আছে আন্দোলনের

ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা৷ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও নির্বাচনী রাজনীতির মাঠে উত্তাপ নেই৷ কোরবানিতে কিছু জনসংযোগ আর মাংস বিতরণ হলেও তাতে নির্বাচনী রাজনীতি জমেনি৷ কিন্তু কেন?

ধারণা করা হচ্ছিলো যে এবার নির্বাচনের আগে সর্বশেষ ঈদে নির্বাচনী রাজনীতি জমে উঠবে৷ আর তা অব্যাহত থাকবে নির্বাচন পর্যন্ত৷ কিন্তু সেরকম কিছু ঘটেনি৷ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে  সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজনীতিবিদরা বরাবরের মতই এলাকায় ছিলেন৷ কিন্তু সেটা তারা সাধারণ নিময়মেই গেছেন৷

কেউ কেউ একটির জায়গায় দু'টি অথবা যিনি দু'টি গরু কোরবানি দিতেন তিনি হয়তো তিনটি দিয়েছেন, তবে তাতে তেমন নির্বাচনী আমেজ ছিল না৷ জনসংযোগ বা ভুড়ি ভোজের আয়োজনেরও তেমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি৷ যদিও শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নামে কোরবানি দিয়েছেন দলীয় নেতারা৷

এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের যার যার এলাকায় ঈদের সময় থাকার নির্দেশ দেন৷ সবাইকে নিয়ে ঈদ করার কথা বলেন৷ বিএনপিও কেন্দ্রীয়ভাবে একই ধরণের নির্দেশনা দিয়েছিল৷ কিন্তু তাতে বাড়তি কোনো প্রভাব পড়েনি৷

স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে না থাকলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন  কী রকম হবে সেটা নিয়ে সংশয় আছে৷ তাই আগেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জনসংযোগ ও ভোটের আশায় নানা খাতে অর্থ খরচে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না৷ তাঁরা আরো অন্তত এক মাস দেখতে চান৷ অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান৷

বিএনপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে কিনা, সে নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ যদিও তারা এখনো বলছেন খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি৷ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিএনপি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাবেনা৷ তাই নির্বাচনের আগে তার মুক্তির জন্য যা যা করণীয় তা দল করছে এবং করবে৷ আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ প্রস্তুতিও চলছে৷ আর আন্তর্জাকিভাবে চাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে৷ আমাদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 08:18

‘আন্তর্জাকিভাবে চাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে’

তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আগামী মাসে ২১ অগাস্টের গ্রেনেড মামলার রায় হবে৷ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন ওই রায়ের পর বিএনপি আরেকটি সংকটে পড়বে৷ এতে বোঝা যায় এই রায়ও পূর্ব নির্ধারিত৷ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে কনভিক্টেড করা হবে৷ যেভাবে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে৷''

নির্বাচন কমিশন আগামী অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা বলেছে৷ আর নির্বাচনকালীন সরকারও ওই মাসেই গঠিত হওয়ার কথা৷ ওই সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আকার হবে ছোট৷ সরকারে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধি নেয়া হতে পারে৷ তবে এই সরকারের প্রধান থাকবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

আহমেদ আজম খান বলেন, ‘‘আমরা চাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার৷ তাই নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু৷ দেশের মানুষের মনে এখনো নির্বাচন নিয়ে সংশয় আছে৷ তারা নিশ্চিত নয় যে নিজেদের ভোট দিতে পারবেন কিনা৷ তাই নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি৷''

নির্বাচন নিয়ে নানা তৎপরতা আছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে৷ ড. কামাল হোসেন এবং বি চৌধুরী একটি জাতীয় ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছেন৷ সেখানে বিএনপি থাকবে বলেই মনে হচ্ছে৷ তবে বিএনপিকে ওই জোটে থাকতে হলে জামায়াতের ব্যাপারে অবস্থান পরিস্কার করতে হবে৷ আর তাদের ওই জাতীয় ঐক্যজোটের নেতৃত্ব কে দেবেন তা এখনো অমীমাংসিত৷ জোট হলেও তাঁরা নির্বাচনসহ কয়েকটি ইস্যুতে আন্দোলনে যাবেন৷

বাম দলগুলোও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামার কথা বলছে৷ অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের পরিধি আরো বাড়ানোর কাজ চলছে৷

আওয়ামী লীগ নির্বাচন নিয়ে আগেই কাজ শুরু করেছে৷ কিন্তু নির্বাচনের আগে বিএনপি কি সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের এবং তাদের শরীকদের রাজনৈতিক তৎপরতা কোন দিকে যায় তা দেখে সরকার এবং আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে৷ নির্বাচনের আগে সরকার দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দিতে চায় না যা নতুন কোনো সংকটের তৈরি করে৷ এজন্য নানা ধরণের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে৷ বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মনিটরিংকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার৷

অডিও শুনুন 04:21

‘দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী’

অবশ্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি মনে করেন, ‘‘কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই দেশের নির্বাচনী রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে৷ দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী৷ তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত৷ সব দল এখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে৷ ফলে দলগুলো যে নির্বাচনী কাজ শুরু করে দিয়েছে তা স্পষ্ট৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘কোনো আন্দোলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না৷ তাকে আইনগতভাবে মুক্তির পথে এগোতে হবে৷ আর ২১ অগাস্টের মামলার রায় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির মধ্যে ভীতি আছে৷ কারণ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইতিহাসের এই জঘন্যতম হামলা হয়েছে৷ হামলার সময় বিএনপি-জমায়াত জোট সরকারে৷ তারা জানে কারা এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত৷ তাই তারা ভীত হবে এটাই স্বাভাবিক৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন হবে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে৷ এ নিয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করলে লাভ হবেনা৷ বিশৃঙ্খলা করলে কি পরিণতি হয় তা গত নির্বাচনে তারা দেখেছে৷''

২০১৪ সালের ৫ জানুযারি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ বাংলাদেশের এই সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন বিএনপি জামায়াত জোট বর্জন করে৷ তাদের ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ ওই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন