নির্বাচনি সহিংসতা বাড়ছে, একদিনে ১২ হামলা, আহত ৭৩ | বিশ্ব | DW | 21.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নির্বাচনি সহিংসতা বাড়ছে, একদিনে ১২ হামলা, আহত ৭৩

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে সহিংসতার ঘটনা তত বাড়ছে৷ প্রতিদিনই হামলা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে৷ মনোনয়নপত্র বিক্রির দিন থেকে এইসব সহিংসতার ঘটনা চোখে পড়বার মতো করে বেড়েছে৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শুধু যে ঐক্যফ্রন্ট বনাম মহাজোট বা বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে, তা নয়৷ দলীয় অন্তর্কোন্দলও স্পষ্ট হচ্ছে এসব সহিংসতার ঘটনায়৷ শুধুমাত্র গত ২০ ডিসেম্বরই সারাদেশ ১২টি নির্বাচনি এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ এতে আহত হয়েছে ৭৩ জন৷ এছাড়াও প্রার্থীদের নির্বাচনি কার্যালয়ে বোমা হামলা, পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে৷

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বাড়ছে সহিংসতা

গত ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পরদিনই নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের সংঘর্ষে যুবলীগের এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে৷ মিছিলে হামলার ঘটনায় নোয়াখালীর এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান৷ এছাড়া সে ঘটনায় ৮-১০ জন আহত হয়৷

গত ১২ ডিসেম্বর ১৭ জেলায় সহিংসতার ঘটনায় ১৩১ জন আহত হন৷ রাজশাহী,বাগেরহাট, ফরিদপুর, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নওগাঁ, নোয়াখালী চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, মাগুড়া, নেত্রকোনাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে৷ শেরপুরে মুখোমুখি সংঘাত এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারাও জারি করে৷ চট্টগ্রামে আমির খসরু মাহমুদের গণসংযোগে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘাতের অভিযোগ ওঠে৷  এদিনই ঢাকায় আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটে৷ গত ১৮ ডিসেম্বর ফের আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে৷

প্রার্থী নেতাদের ওপর  হামলা

গত ২ ডিসেম্বর সিলেটের ওসমানিনগরে সাংসদ ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার গাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা৷ এরপর ১১ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে৷

 ১৩ ডিসেম্বর পাবনার সাঁথিয়ায় সদ্য আওয়ামী লীগ ছেড়ে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া পাবনা-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে৷

 ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়৷

১৫ ডিসেম্বর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি সদরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল হোসেনসহ একাধিক নেতাকর্মীকে লক্ষ্য করে ছররা গুলির অভিযোগ তোলা হয় স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে৷ 

একই দিনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-লোহাগাড়া) আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা৷ এ ঘটনায় অলি আহমদের ছেলেসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন৷

১৬ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা হয়৷ সেদিনই চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানার নয়াবাজার এলাকায় চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুড়িং) আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিজয় দিবসের র‌্যালিতে হামলার ঘটনা ঘটে৷

গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামাল মজুমদারের মিরপুরের ৬০ ফুট সড়ক সংলগ্ন মোল্লাপাড়ার নির্বাচনি প্রচার কেন্দ্রে হামলা, বিস্ফোরণ, গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে৷ এ সময়ে কয়েকটি গুলি ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে৷ ওই হামলায় ওয়ার্ড শ্রমিকলীগ নেতা হারুন উর রশিদ আহত হন৷

হামলার শিকার সংখ্যালঘু পরিবার!

নির্বাচনকে সামনে রেখে বরাবরের মতোই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে৷ আজ (শুক্রবার) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় একটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷ ভোরে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিংগিয়া শাহাপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ ঘোষের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের মো. আব্দুল্লাহ নিশ্চিত করেন৷

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন পরিষদের আলমপুর গ্রামে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় শিশির শীলের ৪টি ঘর৷ স্থানীয় পুলিশ ও জনসাধারণ এটিকে নির্বাচনকেন্দ্রিক হামলা বলেই বিবেচনা করছে৷

এছাড়া সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ধুকুরিয়ায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জগদীশ সাহার বাড়িতে বোমা হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে গত ১১ ডিসেম্বর৷

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্কে রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷ বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় যশোরের মালোপাড়ায় যে ব্যাপক হামলা হয়েছিল, এবারও সেরকম কিছুর আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা৷ তবে এসব এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী৷

দুর্ঘটনা!

এই নির্বাচনে সহিংসতার পাশাপাশি মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বাগেরহাটের কচুয়ায় নির্বাচনি প্রচার শেষে ফেরার পথে বাস চাপায় আওয়ামী লীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন৷ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন৷ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের যশোরদি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে৷

বিজ্ঞাপন