নির্বাচনি ইশতাহারে জনগণের মতামতের কতটা প্রতিফলন ঘটে? | আলাপ | DW | 27.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

নির্বাচনি ইশতাহারে জনগণের মতামতের কতটা প্রতিফলন ঘটে?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন৷ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতাহার তৈরি করে ফেলেছে৷ ইশতাহারে বরাবরই দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা চমক সৃষ্টির চেষ্টা থাকে৷ কিন্তু এতে জনগণের প্রত্যাশার কতটা প্রতিফলন থাকে?

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি ইশতাহার হচ্ছে একটি দল নির্বাচনে জয়লাভ করার পর কী করবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা৷ রাজনৈতিক দলগুলো যেমন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার প্রত্যাশা করে, তেমনি নতুন সরকার ও দলগুলোর কাছেও দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে৷ তাই দেশের মানুষের প্রত্যাশাগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জনগণের নির্বাচনি ইশতাহার' হিসেবে তুলে ধরা উচিত৷

এবার আসা যাক ইশতাহার কোন বিষয়গুলো তুলে ধরে জনগণকে সেই দলের পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী করে তোলা হয়৷ যেমন, ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতাহারে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ৷ সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াতে ইসলামির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা৷ এছাড়া পদ্মাসেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল নির্মাণ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ছিল অন্যতম৷ গত ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সফলতা এবং জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল৷ পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি৷ হয়ত এগুলো নির্মাণ কাজ যাতে শেষ হয়, সেটাই এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রধানভাবে উল্লেখ করবে আওয়ামী লীগ৷ আর ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা যদি বলতে হয়, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সেটা যে কোনো সরকারকেই করতে হতো৷ তাহলে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন কী ঘটল? হ্যাঁ, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কথা বললে বলতে হবে ঘটেছে৷ দেশের নানা খাতে উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যে খাত পোশাক খাতে অনেকটাই পিছিয়েছে বাংলাদেশ৷ এর প্রধান কারণ রানা প্লাজা ধস এবং পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তার নিম্নমান এবং কাজের পরিবেশ৷ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির চিত্রটা প্রকট হয়ে উঠেছে এই ১০ বছরে৷ বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি৷ আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে৷ কিন্তু এসব ইস্যু কখনোই বড় করে স্থান পায়নি প্রধান দলগুলোর নির্বাচনি ইশতাহারে৷ 

গত কয়েক বছরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলো উল্লেখ করলে বলতে হবে, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনের কথা৷ এসব ক্ষেত্রে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে৷ একটি শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাকে আগে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে৷ কিন্তু কোনো দলের নির্বাচনি ইশতাহারে কি এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে? এসব ইশতাহারে কি উল্লেখ থাকছে কোটা বাতিল নয়, বরং কোটা সংস্কারের কথা? উল্লেখ থাকছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করার কথা? নির্বাচনি ইশতাহারে যদি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলই না ঘটে, তাহলে তারা কীসের ভিত্তিতে ভোট দেবেন? দেশকে উন্নত করে তোলা, আর্থিক উন্নতি ঘটানো– এই কথাগুলো অনেকটা ফাঁকা বুলির মতো শোনায়, কেননা, এখানে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলা থাকে না৷ কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নতি করা হবে, এতে কারা লাভবান হবেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কী ধরনের সুবিধা দেয়া হবে যাতে দেশের উন্নয়ন হবে – এগুলোর পরিপূর্ণ বিবরণ থাকে না এবং সে অনুযায়ী কাজও করা হয় না৷

এ বছর মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশই যুবসমাজের অন্তর্ভুক্ত৷ অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি ইশতাহারে যুবসমাজের উন্নয়নে অনেক কিছু করার কথা বললেও পরে ভুলে যায়৷ আমাদের যুবসমাজের একাংশ যে মাদকাসক্তি ও উগ্রবাদে ঝুঁকে পড়ছে, তার অন্যতম কারণ বেকারত্ব৷ কিন্তু সরকার এর সামাজিক প্রতিকার না খুঁজে কেবল বল প্রয়োগে সমাধানের চেষ্টা করছে৷

ইশতাহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে বা হয়নি, তার বিচারের ভার থাকে জনগণের ওপর এবং পরবর্তী নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়৷

চলতি বছরের ৬ই অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক পাঠকদের কাছে জানতে চেয়েছিল নির্বাচনি ইশতাহারে তাদের প্রত্যাশার কথা৷ সেখানে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নির্বাচনি ইশতাহার তুলে ধরেছেন৷

১) আগামী নির্বাচনে সৎ, যোগ্য, কর্মঠ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকব্যবসায়ীসহ কোনো অপরাধীকে বা অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না৷ একইসঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সমর্থন দেওয়া যাবে না৷

২) নতুন সরকারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে৷ দুর্নীতিবাজরা যে দলের বা যত বড় নেতাই হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে৷ যত কঠিন কাজই হোক না কেন, ঋণজালিয়াতি ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের টাকা উদ্ধার করতে হবে এবং একইসঙ্গে দেশের সম্পদ যারা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পাচার করা অর্থ ফেরত এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে৷

৩) সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে৷ 

HA Asien | Amrita Parvez

অমৃতা পারভেজ, ডয়চে ভেলে

৪) স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থাকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে৷

৫) কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে৷

৬) সংঘাত, সংঘর্ষ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে হবে এবং অবাধ,নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে হবে৷

৭) দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে৷

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তীকালে রাজনৈতিক দলসমূহ সচেষ্ট থাকবে এবং দলীয় ইশতাহারে জনগণের প্রত্যাশাগুলোর প্রতিফলন দেখা যাবে, এটাই সবার প্রত্যাশা৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন