নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আবারো রাস্তায় | বিশ্ব | DW | 20.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আবারো রাস্তায়

নিরাপদ সড়কের দাবিতে একবছর না যেতেই শিক্ষার্থীরা আবারো রাস্তায় নেমে এসেছেন৷ তারা নিরাপদ সড়কের দাবি মেটা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন৷

Bangladesch Dhaka - Proteste nachdem zwei Studenten bei Straßenunfällen starben (bdnews24.com)

ফাইল ফটো

এবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন৷ ঢাকার নদ্দার বসুন্ধরা গেট এলাকায় মঙ্গলবার একটি বাস আবরারকে চাপা দিলে তিনি ঘটস্থলেই নিহত হন৷ তিনি সকালে রাস্তা পার হয়ে তাদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরতে চেয়েছিলেন৷

এই ঘটনায় মঙ্গলবারই শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা এলাকায়  প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন৷ বুধবারও বসুন্ধরা এলাকা ছাড়াও ঢাকার ধানমন্ডি ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বাড্ডা, প্রগতি সরণী ও পুরনো ঢাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন৷ তারা একই সঙ্গে  সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজও করেন গতবারের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো৷ যানবাহনের লেন ঠিক করা ছাড়াও তারা কয়েকটি স্থানে গাড়ির কাগজপত্র চেক করেন৷

পুলিশ জানায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের আন্দোলন করছেন৷ তারা পুলিশের সহায়তায় সড়কের একপাশ খালি করে দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছেন৷ তারপরও বুধবার ঢাকায় ব্যাপক ভোগান্তি ও যানচটের সৃষ্টি হয়৷

অডিও শুনুন 03:56

নিহত শিক্ষার্থীর নামে ফ্লাইওভার নির্মাণ করলে হবেনা, চাই জীবনের নিরপত্তা: দেওয়ান রাহাত

আন্দোলনরত বিইউপি-র শিক্ষার্থী দেওয়ান রাহাত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ১১ দফা দাবিকে আন্দোলন করছি৷ এরমধ্যে তিনটি দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি৷ তার মধ্যে প্রথম হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক বাসের ড্রাইভার এবং দায়ীদের দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বিচারের আওয়তায় এনে শাস্তি দেয়া৷ বিচার হতে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে৷ সুপ্রভাত এবং জাবেলে নুরের সকল বাসের রুট পারমিট বাতিল হয়েছে৷ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক এলকায় প্রয়োজনীয় ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডার পাস, ফুটপাথ নির্মাণ ও জেব্রা ক্রসিং দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে এবং তা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে৷''

তিনি জানান, ‘‘আবরার জেব্রা ক্রসিং দিয়েই পার হচ্ছিলেন৷ কিন্তু সেসময় সুপ্রভাত এবং জাবেলে নুরের দু'টি বাস প্রতিযোগিতা করছিল৷ সুপ্রভাতের বাসটি আবরারকে চাপা দেয়৷''

এরইমধ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মেয়রের সঙ্গে বিকেলে বৈঠকে বসেন৷

আরেকজন শিক্ষার্থী সালমান তারেক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এর আগেও আমরা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করেছি৷ তখনো আমাদের নিরপদ সড়কের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু সেই সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি৷ নিরপাদ সড়ক নিশ্চিত হয়নি৷ তাই এবার আমরা আমাদের দাবির বাস্তবায়ন দেখতে চাই৷ আমরা যখন দেখবো সত্যিই আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে, তখন আমরা ঘরে ফিরে যাবো৷ তার আগে নয়৷''

অডিও শুনুন 00:39

আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হলেই আমরা ঘরে ফিরে যাবো তার আগে নয়: সালমান তারেক

মেয়রের ফ্লাইওভার

এদিকে আবরার নিহত হওয়ার দিনই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের সড়কে আবরারের নামে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণা দেন৷ তিনি বলেন, দু'বছরের মধ্যে এটি নির্মাণ হবে৷ বুধবার তিনি সেখানে ভিত্তিপ্রন্তরও স্থাপন করেন৷ এরপর তিনি এবং ডিএমপির কমিশনার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তোপের মুখে পড়েন৷ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তারা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন৷ শিক্ষার্থী দেওয়ান রাহাত বলেন, ‘‘আমরা মেয়রের প্রস্তাবকে প্রত্যাক্ষান করেছি৷ এভাবে একজন মারা গেলেই একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে, তা তো হয় না৷ তিনি কত ফ্লাইওভার নির্মাণ করবেন? আমরা চাই আমাদের জীবনের নিরপত্তা৷''

চালক রিমান্ডে

পুলিশ এরইমধ্যে আবরারকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় সুপ্রভাত বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে৷ বাসটি আটক এবং তার লাইসেন্স ও রুট পারমিটও বাতিল করা হয়েছে৷ কিন্তু মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷

১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

বুধবার হাইকোর্ট শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর পরিবারকে সাত দিনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা খরচ দিতে সুপ্রভাত পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে৷ একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন৷

একই সঙ্গে আবরারের পরিবারকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে৷

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও সরকারের প্রতিশ্রতি

এর আগে গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজিব কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর  সড়ক বাস চাপায় নিহত  হন৷ তখন সারাদেশের শিক্ষার্থীরা নিারপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে তোলেন৷ ঐ আন্দোলনে এক সপ্তাহের জন্য উত্তাল ছিল বাংলাদেশ৷ তখন সরকার নতুন সড়ক আইন পাশ করে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়৷ কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি৷ আর আইনে দাবি অনুয়ায়ী মৃত্যুদণ্ডের ৩০২ ধারার বিধানও সরাসরি রাখা হয়নি৷

দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর তখনকার নৌ-মন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহণ নেতা শাজাহান খান সেটাকে স্বাভাবিত ঘটনা বলে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে হেসে ফেলেন৷ তাতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়৷ সেই শাজাহান খানকে প্রধান করেই গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৫ সদস্যের সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি করা হলে তা সমালোচনার মুখে পড়ে৷

বাসের কারণে দুর্ঘটনা

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিচার্স ইন্সটিটিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬৬টি দুর্ঘটনায় ৬৯৯ জন নিহত এবং ১ হাজার ২২৭ জন আহত হয়েছে৷ এর মধ্যে ৩৫৪টি দুর্ঘটনাই বাসের কারণে ঘটেছে৷ এছাড়া ১৩০টি মোটরসাইকেল, ১১৩টি ট্রাক, ৭৩টি পিকআপ এবং ৫৬টি ব্যক্তিগত গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে৷

অডিও শুনুন 03:56

দুর্ঘটনার কারণ মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ, শিকার যাত্রী ও পথচারী: মোজাম্মেল হক চৌধুরী

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিক মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দুর্ঘটনার কারণ মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ৷ তারা চালকদের দৈনিক ভাড়া ভিত্তিতে বাস দেয়৷ আর চালকরা তাদের দিনের লাভসহ মালিকের লাভ তুলতে রেস শুরু করে৷ যার শিকার হন যাত্রী ও পথচারী৷ তারা সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে এই অনিয়ম করছে৷ আবার কখনো কখনো সরকারকে তারা ব্ল্যাকমেইল করে৷''

তিনি বলেন, ‘‘গতবছর নিরপাদ সড়ক আন্দোলনের পর মালিকরা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তাঁরা আর চুক্তিতে নয়, চালক ও হেল্পারদের মাসিক বেতন দেবেন৷ কিন্তু তাঁরা এটা নিয়েও প্রতারণা করেছেন৷ তাঁরা আসলে মাসিক ইজরায় গেছেন৷ এতে প্রতিদিন বাস প্রতি মালিকের লাভ আরো বেড়ে গেছে৷ আর চালকরা আরো মরিয়া হয়ে রেসে নেমেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘পরিবহণ খাতে নৈরাজ্য চলছে৷ আবরারের আগেও জেব্রা ক্রসিং-এ আরো অনেককে চাপা দেয়া হয়েছে৷ এ দেশে আইন নেই৷ থাকলেও তা কাজে আসে না৷ দায়ীরা শাস্তি পায় না৷ ফলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমছে না৷ আমরা একটি ভালো পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই কাজে দক্ষ এবং অভিজ্ঞদের নিয়ে একটি জাতীয় কামিটি গঠনের কথা বলেছিলাম৷ কিন্তু তা-ও সরকার আমলে নিচ্ছে না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘সরকার তার বিবেচনায় শাহজাহান খানকে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধান বানায়৷ কিন্তু যাদের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন তাদের পরামর্শ নেয় না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন