নিরাপদ আশ্রয়ের পথে এমভি বাংলার সমৃদ্ধির নাবিকেরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 04.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন সংকট

নিরাপদ আশ্রয়ের পথে এমভি বাংলার সমৃদ্ধির নাবিকেরা

ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি' পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ২৮ নাবিক ও প্রকৌশলীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘‘আমরা জাহাজের ২৮ জন নাবিককে একটা সেইফ জোনে নিয়েছি৷ তারা নিরাপদে আছেন এবং তারা তাদের সহকর্মী হাদিসুর রহমানের মরদেহও বহন করছেন৷ আমরা খুব দ্রুততার সাথে তাদের ওয়ারশ নিয়ে আসার চেষ্টা করছি৷’’

‘‘এবং সেটা নিয়ে আসতে পারলে শিপিং মিনিস্ট্রির সঙ্গে আলোচনা করা হবে৷ সম্ভবত সকলকেই, মরদেহসহ, বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো৷  এবং পোল্যান্ডে অবস্থানকালীন সময়ে পোল্যান্ডে হাদিসুরের নামাজে জানাজা করা হবে৷ লেটেস্টটা হলো যে, তারা এখন সকলেই নিরাপদে আছেন৷’’   

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি'ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরে গিয়ে যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়ে৷ বুধবার সন্ধ্যার দিকে জাহাজটিতে রকেট হামলা হয়৷ ক্রুদের চেষ্টায় আগুন নেভানো গেলেও ব্রিজে থাকা জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মৃত্যু হয়৷ জাহাজের বাকি নাবিকদের আকুতি আর পরিবারের উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারছিল না যে কীভাবে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে৷ স্থলপথে আনা হবে, নাকি জাহাজেই থাকবেন তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল৷

Bangladesch | Trauer um Hadisur Rahman der durch russischen Beschuss in der Ukraine ums leben kam

হাদিসুর রহমানের শোকসন্তপ্ত স্বজনেরা

রকেটের আঘাতে জাহাজের মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (নেভিগেশন ব্রিজ) পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ায় এবং প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়৷ 

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় জাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) ড. পীযূষ দত্ত জানান৷ 

ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘জাহাজের মাস্টার জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আমাদের মেইল দিয়েছেন৷’’

হাদিসুর রহমানের মরদেহও তাদের সাথে আছে জানিয়ে বিএসসির উপ মহাব্যবস্থাপক (শিপ পারসোনাল) ক্যাপ্টেন আমির মো. আবু সুফিয়ান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "তাদের জাহাজ থেকে টাগবোটে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের নামানো হয়েছে৷ এরপর তারা কীভাবে যাবেন, সেটা পোল্যান্ডে আমাদের দূতাবাস নির্ধারণ করবে৷”

এ বিষয়ে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন রাতে বিডিনিউজকে বলেন, "নাবিকরা এখন ইউক্রেনে সেইফ হাউজে আছে৷ ইউক্রেন থেকে তাদের বের করা নিয়ে কাজ করছি৷”

ওই বন্দর থেকে মলদোভার দূরত্ব দুইশ কিলোমিটারের বেশি৷ পোল্যান্ডের সবচেয়ে কাছের সীমান্তও অন্তত আটশ কিলোমিটার দূরে৷ এ অবস্থায় বাংলাদেশি নাবিকদের কোন পথে ইউক্রেন থেকে বের করে আনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি রাষ্ট্রদূত৷ 

তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখনও এটা নিয়ে কাজ করছি৷ বুধবার পর্যন্ত পোল্যান্ড সীমান্তে ৫৩২ জন বাংলাদেশিকে রিসিভ করা হয়েছে৷” ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশি কোনো দেশে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছয়শর মত বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন৷ 

বাংলার সমৃদ্ধির নাবিকদের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজকে বলেন, ‘‘তারা বাংকার বা কোনো নিরাপদ স্থানে যাবেন৷ সেখান থেকে মলদোভা বা অন্য সীমান্ত এলাকায় যেখানে সুবিধা হয় নেওয়া হবে৷ কারণ পোল্যান্ডের বর্ডারে বেশ রাশ আছে৷”

রাতে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক ফেসবুক পোস্টে বাংলার সমৃদ্ধির নাবিকদের টাগবোটে সরিয়ে নেওয়ার ছবি প্রকাশ করে বলা হয়, তারা সবাই ‘সেইফ জোনের' পথেই রয়েছেন৷ শুক্রবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হবে৷   

বাংলার সমৃদ্ধির আটকা পড়ার কারণ

এমভি বাংলার সমৃদ্ধির মালিকানা বিএসসির হলেও ডেনিশ কোম্পানি ডেলটা করপোরেশনের অধীনে ভাড়ায় চলছিল৷ গত ২৬ জানুয়ারি মুম্বাই বন্দর থেকে রওনা হয়ে তুরস্কের ইরেগলি হয়ে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি৷

গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের পতাকাবাহী ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজটি৷ তুরস্কের একটি বন্দরে পণ্য খালাস করে ইউক্রেইনের ওলভিয়া বন্দরে পৌঁছায়৷ জাহাজে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ও প্রকৌশলী ছিলেন, যাদের মধ্যে দুজন নারী ক্যাডেট৷ জাহাজটি ২২ ফেব্রুয়ারি বন্দরের আউটার অ্যাংকরেজে ছিল এবং পরদিন ইনার অ্যাংকরেজে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ওই বন্দর থেকে সিমেন্ট ক্লে নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল বাংলার সমৃদ্ধির৷ কিন্তু সেদিন ভোরে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করলে পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যায়৷ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়৷ তাছাড়া নিরাপত্তার কারণে বন্দর ত্যাগের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছিল না বলে মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল৷

বিএসসির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, যেখানে জাহাজটি নোঙ্গর করে হয়েছে সেখান থেকে মূল সাগরে যেতে ৬০ নটিক্যাল মাইল পথ পার হতে হবে এবং সেজন্য স্থানীয় ‘পাইলট শিপ' দরকার, যে নৌযান পথ দেখিয়ে জাহাজটিকে বের করে নেবে৷ কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে তা পাওয়া যাচ্ছিল না৷ তাছাড়া সাগরে মাইন পাতা রয়েছে বলে শোনা যায় ফলে যুদ্ধের মধ্যে সেখান থেকে বের হওয়ার উপায় ছিল না জাহাজটির৷

হামলার পর আতঙ্ক

বুধবার সন্ধ্যায় জাহাজের ব্রিজে একটি রকেট এসে পড়লে বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়৷ জাহাজে থাকা কর্মীরা আগুন নেভাতে পারলেও প্রাণ যায় থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের৷ আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটো টাগবোট পাঠিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ৷ তবে তাতে করে নাবিক  ও ক্রুদের তীরে সরিয়ে নেওয়া হয়নি৷ জাহাজে মোটামুটি মাসখানেকের খাবার আর পানি মজুদ থাকায় আপাতত সেখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়৷ 

সহকর্মীর মৃত্যু আর জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতায় সবার মনে ভর করে জীবন শঙ্কা৷ দেশে পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগের প্রহর গুণতে থাকেন৷ চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক তুহিন বৃহস্পতিবার সকালে বিডিনিউজ বলেন, ‘‘যে কোনে সময় এখানে আবারও মিসাইল পড়তে পারে৷ আমাদের লাইফ থ্রেটের মধ্যে আছে৷” জাহাজের দুই তরুণ ক্যাডেট ফারজানা ইসলাম মৌ এবং ফারিয়াতুল জান্নাত তুলি ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তাদের উদ্ধারের আকুতি জানান৷

উদ্ধারের পথ

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি৷ জাহাজটি বাণিজ্যিক, বন্দরের চ্যানেলে আটকা পড়েছে৷ জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথা হয়েছে৷ আমরা তাদেরকে সাহস যুগিয়েছি৷”

তিনি জানান, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে৷ রাশিয়া ও ইউক্রেন, আইওএম, রেডক্রসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে৷

তখন পর্যন্ত ২৮ জনের জাহাজে থেকে যাওয়ায়ই নিরাপদ বলে মনে করছিল কর্তৃপক্ষ৷ নৌ প্রতিমন্ত্রীও বলেছিলেন, ‘‘চলমান অবস্থায় আতঙ্ক থাকাটাই স্বাভাবিক৷ জাহাজ ত্যাগ ও ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়৷ তবে জাহাজে নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা বেশি৷” 

বিএসসির নির্বাহী পরিচালক পীযূষ দত্ত চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, যুদ্ধের মধ্যে তাদের তীরে সরিয়ে নিতে হলেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন৷

‘‘তীর থেকে যদি নিশ্চয়তা না পাই, তাহলে চট করে তাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে দিতে পারি না৷ আমাদের যারা চেষ্টা করছেন শোরে (তীরে), তাদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেলে আমরা এ ব্যবস্থাটা নেব৷” ওই জাহাজেও যে থাকার উপায় নেই, তা স্পষ্ট হতে বেশি সময় লাগেনি৷

ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে রকেট হামলায় জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির একটি চিত্র পাওয়া যায়৷ নেভিগেশন ব্রিজ, এআইএস, রেডারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে৷ ইঞ্জিনের তাপ-চাপ, পানির গভীরতাসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার মিটারগুলোও ভেঙে গেছে৷

জাহাজে কোনো ‘পাওয়ার সাপ্লাই' নেই,  ইমারজেন্সি জেনারেটর দিয়ে কাজ চলছে বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন জাহাজের এক কর্মী৷ ইউক্রেনে রাত নামার আগেই জাহাজ থেকে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়৷

রাশিয়ার শোক, আশ্বাস

যুদ্ধের মধ্যে কোন পক্ষের ছোড়া রকেটে বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের প্রাণ গেল, সেই দায় কেউ স্বীকার করেনি৷ বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন৷ ইউক্রেনের গণমাধ্যম ওই হামলার জন্য রাশিয়াকেই দায়ী করেছে৷ আর রাশিয়া বলেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

ঢাকার রুশ দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের আটকে পড়া জাহাজটির ‘নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য' রাশিয়া সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে৷

রাশিয়া কী ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে বা দিচ্ছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বিডিনিউজকে বলেন, ‘‘জাহাজের নাবিকরা এখন ইউক্রেনের ভেতরে রয়েছে৷ আমরা দেখতে পাচ্ছি দ্রুত ওই এলাকা রাশিয়ানদের দখলে চলে যাচ্ছে৷”

তিনি আরো বলেন, "রাশিয়ানরা জাহাজে হামলা করেছে এমন কোনো শক্ত প্রমাণ কারও কাছেই নেই৷ রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এবং তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে৷ একটি টার্ম আছে- ‘ফগ অফ ওয়ার' অর্থাৎ যুদ্ধের মধ্যে কে কোন দিক থেকে গোলাগুলি করছে সেটি বোঝা যায় না৷”

বিপদটি কি এড়ানো যেতো?

নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ শুরু হলেও পরিত্যক্ত বাংলার সমৃদ্ধি আপাতত ওলভিয়া বন্দরের ওই এলাকাতেই থাকবে৷ সেখানে মাইন পাতা থাকায় জাহাজটা সেখান থেকে সরানো ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ৷

গত সাড়ে তিন মাস ধরেই ইউক্রেন ঘিরে উত্তেজনা চলছিল এবং সেটা যুদ্ধে গড়ানোর শঙ্কাও ষোল আনাই ছিল৷ তাহলে বাংলার সমৃদ্ধি কেন সেখানে গেল, সেই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল বিএসসি কর্মকর্তা পীযূষ দত্তের কাছে৷  উত্তরে তিনি বলেন, বিএসসির কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে এমভি বাংলার সমৃদ্ধি পরিচালনা করছে ডেনিশ কোম্পানি ডেলটা করপোরেশন৷ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের কথাতেই চলতে হবে৷ 

 ‘‘আমাদের যে চার্টার পার্টি আছে, সে অনুযায়ী ইন্স্যুরাররা যদি ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম নিয়ে কোথাও যাওয়ার পারমিশন দেয়, সেক্ষেত্রে আমাদের চার্টার পার্টি অনুযায়ী সেটা অ্যালাউ করতে হয়৷ আমাদের যেমন লিবিয়াতে বা পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন সময় এরকম পরিস্থিতি হয়৷ সেসব ক্ষেত্রেও ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম নিয়ে চার্টার পার্টি অনুসারে সেগুলো অ্যালাউ করতে হয়৷” বাংলার সমৃদ্ধির আশেপাশে আরও গোটা বিশেক জাহাজ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কনডিশন ফুলফিল করেই সেখানে যাওয়া হয়েছে, কোনো ব্যত্যয় হয়নি৷”

পীযূষ দত্ত বলেন, ‘‘যদি জাহাজ সেখানে যাওয়ার আগেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত, তাহলে ক্যাপ্টেন চাইলে ফিরে আসতে পারতেন৷ কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয় তারা সেখানে পৌঁছানোর পরে৷”

তবে এটা এড়ানো যেত বলেই মনে করছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসাইন৷

বিডিনিউজকে তিনি বলেন, "কয়েক দিন আগে থেকেই বলা হচ্ছিল যুদ্ধ পরিস্থিতি হতে যাচ্ছে৷ তাই যত এগ্রিমেন্টই থাকুক চুক্তি বাতিল করে, তুরস্ক থেকেই জাহাজকে ফেরত আনা যেত৷”

 ‘‘আমরা যতটুকু জেনেছি, ‘‘১৫ ফেব্রুয়ারি সেখানে ওয়ার জোন ঘোষণা করা হয়৷ এরপর কেন জাহাজ সেখানে গেল? নাবিকদের জীবনের কী মূল্য নেই?” বিডিনিউজকে একথা বলেন মেরিনারদের উন্নয়ন সংগঠন ‘অঙ্গীকার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন' এর প্রেসিডেন্ট সিনিয়ার মেরিনার ক্যাপ্টেন আতিক খান৷

এনএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়