নিজের তথ্য নিজেই বিক্রি করে টাকা কামানো যায় | অন্বেষণ | DW | 11.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

নিজের তথ্য নিজেই বিক্রি করে টাকা কামানো যায়

গুগল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো ইন্টারনেট কোম্পানির হাতে আমাদের সম্পর্কে যে তথ্য আছে, তা চমকে দেবার মতো৷ সেই তথ্য বিক্রি করে তারা অনেক আয় করে৷ একটি কোম্পানি সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকেই তথ্য কিনে নিচ্ছে৷

ইন্টারনেটে বিচরণ করলে ফেসবুক, গুগল ইত্যাদি পরিষেবায় ব্যক্তিগত তথ্যের পদচিহ্ন থেকেই যায়৷ সেই তথ্য বিক্রি করে বড় বড় কোম্পানিগুলি কোটি কোটি ইউরো আয় করে৷ অথচ ব্যবহারকারী সেই মুনাফার ভাগ পায় না৷

‘বিটস অ্যাবাউট মি' কোম্পানি সরাসরি গ্রাহকদের তথ্য বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে৷ কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টিয়ান কুনৎস বলেন, ‘‘আমাদের কাছে এসে সব করণীয় কাজ করলে বর্তমানে প্রায় ১০০ ইউরো আয় করা যায়৷''

বছরে ১০০ ইউরো আয় করতে হলে তার পোর্টালে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা যায়৷ সবার আগে নিজস্ব তথ্য পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে৷ ইন্টারনেট কোম্পানিগুলি সেই তথ্য সংগ্রহ করে থাকে৷ যেমন কোনো ব্যক্তি কোথায় কেনাকেটা করেছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলি সেই তথ্য ব্যবহারকারীদের নাগালে রাখতে বাধ্য৷ সেই প্রক্রিয়ায় বেশি সময় লাগলেও চলবে না৷ তবে প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পাঁচ মিনিটে মধ্যে গুগলের কাছে সংরক্ষিত সব ব্যক্তিগত তথ্যের হিসেব পাওয়া যায় না, বাস্তবে অনেক বেশি সময় লাগে৷ তারপর অন্যান্য ইন্টারনেট কোম্পানির কাছে রাখা তথ্য হাতে পাওয়ার পালা৷ অর্থাৎ ব্যবহারকারী যেমনটা ভাবে, তার তুলনায় বিষয়টি অনেক কঠিন৷

ভিডিও দেখুন 04:44

নিজের তথ্য বিক্রি করে উপার্জন

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো কোম্পানি আদৌ কেন ‘বিটস অ্যাবাউট মি' কোম্পানির কাছ থেকে তথ্য কিনবে? জার্মানিতে সেই কোম্পানির কাছে এমনকি ১০ হাজার ইউজারও নেই৷ অন্যদিকে ফেসবুকের মতো কোম্পানির কাছে লাখ লাখ মানুষের তথ্য আছে, যা তারা বিক্রিও করে৷ কুনৎসবলেন, ‘‘ব্যবহারকারী হিসেবে গুগলের তুলনায় আমার হাতে অনেক বেশি তথ্য রয়েছে৷ কারণ গুগল, ফেসবুক, ব্যাংকিং, নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই, লয়েলটি কার্ড-সহ যাবতীয় তথ্য তো ব্যবহারকারীর হাতেই রয়েছে! কোনো একটি প্ল্যাটফর্ম এত তথ্য দিতে পারে না৷ পরিমাণ ও মানের নিরিখে তার মূল্য অনেক বেশি৷''

আরও বেশি ইউজার নিজস্ব তথ্য বিক্রি করতে চাইলে সম্ভবত আরও ক্রেতা পাওয়া যাবে৷ সেইসঙ্গে সেই তথ্যের জন্য আরও অর্থও আয় করা যাবে৷ তবে তথ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফ্রেডেরিক রিশটার ইউজারদের আচরণের বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরলেন৷ তথ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফ্রেডেরিক রিশটার মনে করেন, ‘‘সব ইউজার এই সব পরিষেবা সম্পর্কে জানেনই না৷ তাছাড়া এ ক্ষেত্রে আস্থার বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে৷ কোনো নতুন কোম্পানি বাজারে এসে বড় তথ্যের প্ল্যাটফর্ম ও ব্যবহারকারীর মধ্যে মধ্যস্থতার দাবি করে৷ তথ্য বাণিজ্যের মতো জটিল প্রক্রিয়া সত্ত্বেও ডিজিটাল জগতে আস্থা সৃষ্টি করার কাজ অত্যন্ত কঠিন৷''

‘বিটস অ্যাবাউট মি' প্ল্যাটফর্ম সব তথ্য খতিয়ে দেখে এক ব্যবহারকারীকে পাঁচটি অফার দিয়েছে৷ তার মধ্যে নেটফ্লিক্স ব্যবহারের খতিয়ানের জন্য এক ইউরোর অফারও রয়েছে৷

মুনাফার মুখ দেখতে হলে ‘বিটস অ্যাবাউট মি' কোম্পানির আরও ইউজার প্রয়োজন৷ সে ক্ষেত্রে ইউজারদেরও আয়ের নতুন পথ টিকে থাকবে৷ ভিবসন বা ডেটা ওয়ালেটের মতো পোর্টাল আরও কম সাফল্যের মুখ দেখেছে৷

‘বিটস অ্যাবাউট মি' সম্প্রতি বাড়তি পরিষেবার মাধ্যমে আরও গ্রাহক আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে৷ যেমন নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত কার্বন ফুটপ্রিন্ট হিসেব করা যায়৷ অনেকের জীবনযাত্রা অনুকরণ করলে প্রায় দেড়খানা পৃথিবীর প্রয়োজন হবে বলে দাবি করা হচ্ছে৷ ফ্রেডেরিক রিশটার বলেন, ‘‘মানুষের মনে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে৷ ফিটনেস ট্র্যাকারের ক্ষেত্রেই সেটা টের পাওয়া যায়৷ সেখানেও তথ্য বিশ্লেষণ করে জ্ঞান অর্জন করা হয়৷ মানুষের তাতে আগ্রহ রয়েছে৷ আস্থার ভিত্তিতে ও তথ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে সেই প্রচেষ্টা চালালে অনেকেই সম্ভবত আগ্রহ দেখাবে৷''

‘বিটস অ্যাবাউট মি' কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টিয়ান কুনৎস মনে করেন, ‘‘আমরা প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছি৷ পাঁচ মিনিট ধরে ইনস্টাগ্রাম ঘাঁটলেই হলো৷ এই মুহূর্তে এই বিষয়ে আগ্রহী মানুষ সেই কাজের জন্য পাঁচ মিনিট ব্যয় করতে পিছপা হচ্ছেন না৷ সেইটুকু সময় দিতেই হবে৷''

কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে তথ্য বিক্রি সব ক্ষেত্রে তেমন আকর্ষণীয় নয়৷ এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে মাত্র দুই ইউরো আয় হয়৷ তখন মনে হতে পারে, তথ্য নিয়ে বড় বাণিজ্য ভবিষ্যতেও বড় ইন্টারনেট কোম্পানির হাতেই রাখা উচিত৷

মিলটিয়াডেস স্মিট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক