‌নিগ্রহের লিঙ্গভেদ | বিশ্ব | DW | 12.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌নিগ্রহের লিঙ্গভেদ

এবার কলকাতার এক নামি স্কুলে যৌন নিগ্রহের ঘটনার পর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, মেয়েদের স্কুলে কেন পুরুষ শিক্ষকেরা থাকবেন?‌ কিন্তু নিগৃহিতের যেমন লিঙ্গভেদ হয় না, নিগ্রহকারীরও হয় না৷

default

প্রতীকী ছবি

প্রথমে কলকাতার নামি স্কুল জি ডি বিড়লায় এক নেহাতই শিশু ছাত্রীর যৌন ওপর নিগ্রহের ঘটনা৷ ওই শিশুটিরই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত দুই পুরুষ শিক্ষককে৷ সেই মামলা এখনও চলছে৷ বাচ্চা মেয়েটিকে ওই স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে৷ কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি৷ সদ্য জেলে গিয়ে বিচারকের সামনে শিশুকন্যাটি নির্ভুল শনাক্ত করেছে নিগ্রহের দায়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে৷ ঘটনাচক্রে একই দিনে শহরের মেয়েদের আরেক বিখ্যাত স্কুলে যৌন লাঞ্ছনার ঘটনা সামনে আসে৷ এক্ষেত্রেও অভিযুক্ত এক পুরুষ শিক্ষক৷ ক্ষিপ্ত অভিভাবকরা তাঁকে পাল্টা শারীরিক নিগ্রহের চেষ্টা করেন৷ শেষ পর্যন্ত তাঁকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে৷

অডিও শুনুন 01:57
এখন লাইভ
01:57 মিনিট

‘‘কোনও কারণেই ছাত্রীদের স্পর্শ করবেন না পুরুষ শিক্ষকরা’’

এরপর আগেই ওঠা প্রশ্ন আরও জোরদার হয়– মেয়েদের স্কুলে কেন পুরুষ শিক্ষক থাকবে?‌ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, ওই স্কুলেরই আরেক পুরুষ শিক্ষক কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর পড়াতে চান না৷ কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, তাঁর নিজের পরিবার আছে, সামাজিক সম্মান আছে৷ তিনি সেসব বিপন্ন করতে চান না৷ ওই শিক্ষক এর মধ্যে স্কুলে আসাও বন্ধ করে দিয়েছেন৷ তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে বলেও স্কুল সূত্রে জানা গেছে৷

এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলছে? ডয়চে ভেলে কথা বলেছিল কলকাতার আরেকটি নামি মেয়েদের স্কুলের পুরুষ শিক্ষক জাহিদ হোসেনের সঙ্গে৷ইংরেজিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যেটা জানালেন, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক৷ জি ডি বিড়লা স্কুলের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁদের স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটা বৈঠক হয়৷ তাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোনও কারণেই ছাত্রীদের স্পর্শ করবেন না পুরুষ শিক্ষকরা, যাতে এমন অভিযোগ ওঠার কোনও সুযোগই না তৈরি হয়৷ উদাহরণ হিসেবে জাহিদ বলছেন, ধরা যাক কোনও ছাত্রীর সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানাতে, বা উৎসাহিত করতে তার পিঠ চাপড়ে দেওয়া হয়, তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করা হয়৷ স্কুল বলছে, পুরুষ শিক্ষকরা এটা পুরোপুরি এড়িয়ে যান৷ যা বলার মুখে বলুন৷ এই প্রশ্নে জাহিদের বক্তব্য, যেহেতু নিগ্রহকারীর লিঙ্গভেদ করা যায় না, পুরুষ এবং মহিলা শিক্ষকরাও স্পর্শের ব্যাপারটা পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন, যাতে ছাত্রীরাও ক্রমশ ব্যাপারটায় অভ্যস্ত হয়ে যায়৷

অডিও শুনুন 02:17
এখন লাইভ
02:17 মিনিট

‘‘কোনও অপরাধ প্রমাণিত নয়, নেহাতই অভিযোগ’’

স্কুলে যৌন নিগ্রহের গোটা ঘটনায় সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ কলকাতার এক অত্যন্ত নামী স্কুলের শিক্ষিকা তমালী বসু৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বললেন, কোনও অপরাধ প্রমাণিত নয়, নেহাতই অভিযোগ, তা সত্ত্বেও সংবাদ মাধ্যম যেভাবে সেটা নিয়ে হইহল্লা করছে, বিষয়টাকে ‘কেচ্ছা'র পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তা আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়, কারণ, ‘‘ওরা বুঝতে পারছে না, এর ফলে ছাত্র-শিক্ষক যে ভরসা আর বিশ্বাসের সম্পর্ক, সেটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই অনেক সময় নিজেদের বাবা-মায়ের থেকে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথা বেশি শোনে৷ এই যে নিখাদ ভালোবাসার সম্পর্ক, সেটা আর থাকবে না৷ তাতে সার্বিকভাবে সমাজের ক্ষতি হবে৷'' তমালীর বক্তব্য, সব শিক্ষক এমন নয় যে, তাঁরা কোনও ছাত্র, বা ছাত্রীর যৌন নিগ্রহ করেন৷ বরং এমন বিকৃত মানসিকতার লোকের শতকরা হার খুবই সামান্য৷ বিষয়টাকে সেভাবেই দেখতে হবে৷ দু-একজনের অপরাধের জন্য সারা শিক্ষক সমাজকে দোষী করাটা অনুচিত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়