নিখুঁত অপারেশন করতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রযুক্তি | অন্বেষণ | DW | 25.02.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভাইরাল ভিডিও

নিখুঁত অপারেশন করতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রযুক্তি

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি শুধু ভিডিও গেম বা মনোরঞ্জনের জন্যই উপযুক্ত নয়, চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগের উদ্যোগ চলছে৷ অপারেশনের আগে অথবা সময় লাইভ থ্রিডি প্রতিচ্ছবির ভিত্তিতে সার্জেন আরও নিরাপদে কাজ করতে পারবেন৷

গত কয়েক বছরে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে৷ এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে৷ বিশেষ করে চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যাচ্ছে৷ জার্মানির ড্রেসডেন শহরে জাতীয় টিউমার রোগ গবেষণা কেন্দ্রের একদল বিশেষজ্ঞ এমন এক সফটওয়্যার তৈরি করেছেন, যার সাহায্যে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে আরও ভালোভাবে রোগীর যকৃতের মধ্যে টিউমার দূর করার পরিকল্পনা করা যায়৷

 এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত শল্যচিকিৎসক ড. ইয়ুর্গেন ভাইৎস বলেন, ‘‘অপারেশনের নিখুঁত পরিকল্পনা একটা বড় সমস্যা৷ ঠিক কী অপারেশন হবে, তা আগে থেকে জানা যায় না৷ অ্যানাটমি বা দেহতত্ত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের ভিত্তিতে আমাকে টিউমার ও বেঁচে থাকার জন্য জরুরি রক্তনালীর অবস্থান জানতে হবে৷ সেইসঙ্গে জানতে হবে, কত পরিমাণ স্বাভাবিক লিভার টিস্যু আমি দূর করতে পারি৷ ভুললে চলবে না, রোগীর শরীরে যকৃতের যে অংশ থেকে যাবে, তা যেন তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে৷ অতিরিক্ত টিস্যু দূর করলে রোগীর ক্ষতি হবে৷''

স্টেফানি স্পাইডেলের তৈরি সফটওয়্যার ভবিষ্যতে পরিকল্পনার সময়ই এই ঝুঁকি যতটা সম্ভব কম রাখতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ কারণ সার্জেন এক ভারচুয়াল মডেলের মধ্যেই নিপূণভাবে রোগীর যকৃৎ বিশ্লেষণ করতে পারবেন৷ ড. ইয়ুর্গেন ভাইৎস বলেন, ‘‘স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যে এই রোগীর যকৃৎ রক্তনালীতে ভরা এবং হলুদ রংয়ের টিউমার মাঝামাঝি জায়গায় রয়েছে৷ এই রক্তনালী অবশ্যই অক্ষত রাখতে হবে৷ অতএব প্রত্যেক মিলিমিটার অংশের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে৷ টিউমারে পৌঁছতে মাত্র ২ মিলিমিটার জায়গা রয়েছে৷ সবকিছু ভালোভাবে দেখে আগে থেকে সব পরিকল্পনা করার এই ক্ষমতা সত্যি এই প্রণালীর বিশাল সুবিধা৷''

যকৃতের থ্রিডি ছবির পাশাপাশি এই ভার্চুয়াল স্পেসে  সিটিস্ক্যানের প্রত্যেকটি স্তর ও রোগের ইতিহাসের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া যায়৷ ভিআর সফটওয়্যার ডেভেলপার ইয়ুলিয়ানে স্পাইডেল বলেন, ‘‘বলতে গেলে এক ভার্চুয়াল হলোডেক পাওয়া যায়৷ এই স্পেসের মধ্যে নড়াচড়া করে প্রয়োজনমতো একাধিক তথ্য পাওয়া সম্ভব৷''

চিকিৎসকরা গবেষণার ক্ষেত্রে এর মধ্যেই এই প্রণালী ব্যবহার করছেন৷ স্টেফানি স্পাইডেল তাঁর গবেষণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন৷ তিনি চান, সার্জেন যেন অপারেশন থিয়েটারেও হলোডেকে পরিকল্পিত অপারেশনের নাগাল পেতে পারেন৷ সে ক্ষেত্রে এক ‘বুদ্ধিমান' ন্যাভিগেশন সিস্টেমের সাহায্যে তিনি সরাসরি এবং নিরাপদে টিউমার দূর করতে পারবেন৷ অগমেন্টেড রিয়ালিটি চশমার সাহায্যে তিনি সেই কাজ করতে পারবেন৷ ইয়ুলিয়ানে স্পাইডেল বলেন, ‘‘এই চশমা অগমেন্টেড রিয়ালিটি দেখায়৷ অর্থাৎ চারিপাশের পরিবেশের পাশাপাশি টিউমার, ভাস্কুলার কাঠামো বা ইন্দ্রিয়ের অবস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দেখা যায়৷ রোগীর শরীরে  কার্যত উঁকি মারা যায়৷''

পুরোটাই লাইভ বা সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়৷ ভার্চুয়াল যকৃৎ যাতে সবসময়ে মূল যকৃতের হুবহু প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে, তা নিশ্চিত করতে ট্র্যাকার-সহ একটি স্টিরিও ক্যামেরা সর্বদা রোগী, সার্জেন ও তাঁর সরঞ্জামের অবস্থানের উপর নজর রাখে৷ ড. ইয়ুর্গেন ভাইৎস বলেন, ‘‘অপারেশনের সময় লাইভ ভিডিওর মতো শরীরের ভেতরের অংশ, রক্তনালী, টিউমারের অবস্থান দেখার সুযোগ সম্ভব করে তুলতে হবে৷ আমাদের এবং শরীরের অংশের নড়াচড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিও বদলে যাবে, অবস্থান নিয়ে কোনো ভুলত্রুটি থাকবে না৷ এটাই হলো স্বপ্ন৷''

এমন স্বপ্ন বাস্তব হতে আরও কিছুকাল সময় লাগবে৷ অপারেশন থিয়েটারে এই ন্যাভিগেশন সিস্টেম প্রয়োগ করতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ তবে ভারচুয়াল রিয়ালিটিরও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন