নিউ ইয়র্ক বোমাবাজির পিছনে আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিনি | বিশ্ব | DW | 20.09.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নিউ ইয়র্ক বোমাবাজির পিছনে আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিনি

আহমদ খান রাহামির জন্ম আফগানিস্তানে, অ্যামেরিকাতে মানুষ৷ গত কয়েক বছরে একাধিকবার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যান রাহামি৷ এমনকি তিনি পাকিস্তানে বিয়ে করেছেন বলেও খবর৷ তবে তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন কিনা, তা জানা যায়নি৷

শনিবার রাতে ম্যানহ্যাটানের চেলসি এলাকায় একটি বোমা ফেটে ২৯ জন মানুষ আহত হন ও কাছাকাছি কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ আরেকটি বোমা রোবোট দিয়ে নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরিত হয়৷ রবিবার এলিজাবেথ ট্রেন স্টেশনের কাছে একটি ব্যাগে পাঁচটি সন্দেহজনক ডিভাইস পাওয়া যায়; ব্যাগটি একটি ট্র্যাশ বিন-এ লুকনো ছিল৷ উভয় ঘটনার পিছনে আহমদ খান রাহামি ও তাঁর সম্ভাব্য সহযোগীরা ছিলেন, বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷

অ্যামেরিকা নিবাসী হরিন্দর বেইনস জাতিতে শিখ৷ নিউ জার্সির লিন্ডেনে তাঁর একটি বার আছে৷ গত সোমবার তিনি দেখেন, বারে ঢোকার দরজায় কোনো এক মাতাল যেন শুয়ে রয়েছে৷ বেইনস তখন বারের উলটো দিকে তাঁর আরেকটি দোকানে বসে ল্যাপটপে নিউজ দেখছিলেন৷ রাহামিকে চিনতে পেরে বেইনস পুলিশকে খবর দেন৷

পুলিশ এলে পর রাহামি একটি হ্যান্ডগান বার করে গুলি চালাতে শুরু করেন, সে গুলি এক পুলিশ কর্মকর্তার বুলেট-প্রুফ ভেস্টে গিয়ে লাগে৷ তারপর রাহামি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন ও পুলিশের গাড়ির দিকে গুলি ছোঁড়েন৷ একটি গুলি এক পুলিশ অফিসারের মুখ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়৷ এরপর পুলিশ কর্মকর্তাদের একাধিক গুলিতে রাহামি ধরাশায়ী হন ও তাঁকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷

আহমদ খান রাহামি তাদের পারিবারিক ‘ফার্স্ট অ্যামেরিকান ফ্রায়েড চিকেন' নামের একটি চিকেন টেকআউট রেস্টুরেন্টের কাউন্টারে কাজ করেছেন ও খদ্দেররা তার শান্ত ও বন্ধুসুলভ আচরণের কথাই বলেছেন৷ তবে কয়েক বছর আগে একটি আফগানিস্তান সফরের পর নাকি রাহামির ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটে, বলেছেন তার এক কৈশোরের বন্ধু৷ রাহামি ‘‘আরো ধর্মপ্রাণ'' হয়ে পড়েন ও ‘‘জাতিসুলভ'' জামাকাপড় পরতে শুরু করেন৷

কে এই রাহামি? এ প্রশ্নের জবাবে বলতে হবে, তিনি একজন নাগরিকত্ব পাওয়া মার্কিনি; কোনো সন্ত্রাসী তালিকায় অথবা ‘নো-ফ্লাই' লিস্টে তার নাম নেই৷ তবে ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে এক আত্মীয়কে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল৷

তারও আগে, ২০১২ সালে ২৮ বছর বয়সি রাহামির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত একটি আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল৷

রাহামিদের রেস্টুরেন্ট রাত দশটার পরেও খুলে রাখার ব্যাপারে প্রতিবেশীদের মধ্যে যথেষ্ট অসন্তোষ ছিল৷ এমনকি রাহামির বাবা ও রাহামিরা দুই ভাই এলিজাবেথ সিটির বিরুদ্ধে ২০১১ সালে মামলা করেন; তাদের বক্তব্য, তারা বিদেশি বলে পুলিশ তাদের জেনেশুনে হয়রানি করছে৷ ২০১২ সাল এই মামলা সমাপ্ত হয় যখন রহামির ভাই মোহাম্মদ খান রাহামি রেস্টুরেন্ট সময়মতো বন্ধ করার পুলিশি প্রচেষ্টায় বাধা দেবার কথা স্বীকার করেন৷

আহমদ খান রাহামির বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যার পাঁচটি প্রচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে৷ বোমাবাজি সংক্রান্ত ফেডারাল অভিযোগ এখনও পর্যন্ত দায়ের করা হয়নি৷

এসি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ, পিটিআই)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন