নিউ ইয়র্কের পর কলোরাডোতে হামলা | বিশ্ব | DW | 02.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্কের পর কলোরাডোতে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের ডেনভার শহরে ওয়ালমার্টের একটি দোকানে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন৷ এর একদিন আগেই নিউইয়র্কে ভিড়ের মধ্যে ট্রাক তুলে দেওয়ার ঘটনায় নিহত হন আট জন৷

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে কলোরাডোর ওয়ালমার্টের একটি দোকানের ভেতরে ঢুকে এলোপাথারি গুলি চালাতে থাকে এক বন্দুকধারী৷ ঘটনাস্থলেই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়৷ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরেক নারী৷ তবে পুলিশ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে মনে করছে না৷ কলোরাডো পুলিশের মুখপাত্র ভিক্টর এভিলা জানিয়েছেন, ‘‘ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্য আসলে কী ছিল, সে বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই৷ কিন্তু এটা বলতে পারি, এটা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়৷''

নিহতদের পরিচয় এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ৷ প্রত্যক্ষদর্শী অ্যারন স্টেফেন জানালেন, গোলাগুলির শব্দ শুনে ক্রেতারা ভয়ে কাঁপছিলেন, তাঁরা চিৎকার করছিলেন৷ পাগলের মতো ছোটাছুটি করছিলেন৷ আমি দরজার দিকে দৌড়ে যাই৷'' 

তদন্ত কর্মকর্তারা দোকানের বিভিন্ন ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন৷

নিউ ইয়র্কে ট্রাক হামলা

এদিকে নিউ ইয়র্কের হামলার পেছনে তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের হাত রয়েছে বলে প্রায় নিশ্চিত হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা৷

পুলিশ বলছে, আটক সন্দেহভাজন হামলাকারী ২৯ বছরের সায়ফুল্লো সাইপভ বেশ কয়েক বছর ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল৷ ফেডারেল আইনজীবীরা বলছেন, সায়ফুল্লো সাইপভ ইসলামিক স্টেট-এর কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে তা পালন করেছে৷ তার ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন৷

সায়ফুল্লো'র বিরুদ্ধে আইএসকে নানা ধরণের সাহায্য সহযোগিতা করা এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে৷ এসব অভিযোগ প্রমাণ হলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে৷ বুধবার হুইলচেয়ারে করে তাকে নিউ ইয়র্কের কেন্দ্রীয় আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়৷ হামলার সময় পুলিশ তার পায়ে গুলি চালিয়েছিল৷ 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে ম্যানহাটন এলাকায় প্রথমে পথচারী ও সাইকেল চালকদের ওপর ট্রাক তুলে দেওয়া হয়৷ ট্রাকটি পরে একটি স্কুল বাসকে গিয়ে আঘাত করে৷ এই ঘটনায় আরও ১২ জন গুরুতর আহত হয়৷ পুলিশ সাইফুল্লোকে ধরার সময় সে ‘আল্লাহু আকবর' বলে চিৎকার করতে থাকে৷ তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে হাসপাতাল কক্ষে আইএস-এর পতাকা টাঙানোর কথা বলতে থাকে বার বার৷

হামলকারী কে?

বুধবার পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ২০১০ সালে সায়ফুল্লো উজবেকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে৷ সে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ীভাবে থাকার বৈধতা পেয়েছে৷ গাড়ি ভাড়া দেয় এমন এক কোম্পানি জানিয়েছে, সায়ফুল্লো একসময় উবার চালাতো৷ তার দুইটি মোবাইল ফোনে আইএস-এর পক্ষে প্রচারণা সংক্রান্ত নানা তথ্য পাওয়া গেছে৷ সেখানে কারাগারে বন্দিদের মাথা কেটে ফেলা, গুলি করে হত্যাসহ বেশ কিছু বিভৎস ছবিও আছে৷

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন আর্জেন্টিনার নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর৷ এছাড়া বেলজিয়ামের একজন নারী ও বাকি দু'জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক৷ 

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন