নিউজিল্যান্ড হামলায় নিহত ৬ জনের দাফন | বিশ্ব | DW | 20.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ড হামলায় নিহত ৬ জনের দাফন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলায় নিহতদের শেষকৃত্য শুরু হয়েছে৷ বুধবার ছয়জনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে৷ বাকিদেরও চলতি সপ্তাহের ভেতরই দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে৷

সিরিয়ার ভয়াবহ যুদ্ধের স্মৃতি পেছনে ফেলে এক বাবা তাঁর সন্তানকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন শান্তির এক দেশে৷ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়ার এক বছরের মাথায় ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ' সেই ভূমিতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তাঁরা৷ ৪৪ বছরের সেই খালিদ মোস্তফা আর ১৫ বছরের হামজা মোস্তফাকে দাফনের মধ্য দিয়েই শুরু হল ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের শেষকৃত্য৷

বুধবার সকালে স্বজনরা খাটে করে একে একে মোট ছয়জনের লাশ নিয়ে আসেন ক্রাইস্টচার্চের মেমোরিয়াল পার্কের কবরস্থানে৷ নামাজে জানাযা শেষে তাঁদের নামানো হয় কবরে৷ ‘‘মরদেহ যখন নীচে নামানো হচ্ছিল, সেই মুহূর্তটি ছিল আমার জন্য ভীষণ আবেগের৷'' অকল্যান্ড থেকে শেষকৃত্যে যোগ দিতে এসে বলছিলেন গুলশাদ আলী৷ তাঁর মতো নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমান নারী-পুরুষেরা এসেছেন নিহতদের চিরবিদায় জানাতে৷ বুধবার মোট ছয়জনের মরদেহ কবর দেয়ার মধ্য দিয়েই ক্রাইস্টচার্চ হামলায় নিহতদের শেষকৃত্যের প্রথম পর্ব সমাপ্ত হয়৷ এই ঘটনায় পাকিস্তান, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানের অর্ধশত নাগরিক নিহত হয়েছেন৷ যার মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ তিন বছরের এক সোমালি শিশুও ছিল৷

প্রধানমন্ত্রীর আবেদন

এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এই গণহত্যার ঘটনার পর দ্বিতীয়বারের মতো ক্রাইস্টচার্চ পরিদর্শনে আসেন৷ এ সময় তিনি বলেন, ‘‘একটি পরিবার নিরাপত্তার জন্য এই দেশে এসেছে এবং তাদের এখানে নিরাপদেই থাকা উচিৎ৷'' আগামী শুক্রবার দেশটিতে মুসলমানদের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান তিনি৷ এই আয়োজন জাতীয়ভাবে সম্প্রচার করা হবে৷ নিহতদের স্মরণে পালন করা হবে দুই মিনিটের নীরবতা৷ তিনি বলেন, ‘‘আগামী শুক্রবার যখন মুসলমান সম্প্রদায় মসজিদে ফিরবে তখন তাদেরকে সমর্থন জানাতে হবে৷''

হামলার শিকার দু'টি মসজিদের একটি আল-নূরকে শুক্রবারের জুম্মার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে৷ ৫০ জনের মধ্যে এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে এসেই নিহত হয়েছেন ৪০ জন৷  মসজিদের কাছেই দেশটির মাওরি আদিবাসীরা সম্প্রীতির প্রকাশ হিসেবে তাদের ঐতিহ্যবাহী হাকা নৃত্য প্রদর্শন করে৷ আরেকটি দল সূর্যাস্তের সময় নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সংগীত গাইতে থাকে৷

অস্ট্রেলিয়ার ইমামদের আহ্বান

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ইমাম কাউন্সিল শুক্রবারের জুম্মার নামাযের খুতবায় দেশটির ইমামদের প্রতি ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের ঘটনায়   নিহতদের স্মরণ করার আহ্বান জানিয়েছে৷ বলেছে, ‘‘বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে মুসলমান বা যে কোনো নীরিহ ব্যক্তি হামলার শিকার হলে সেটি সমস্ত মুসলমান এবং সমস্ত মানবজাতির উপরই হামলা৷ এটি শুধু মুসলমান বা নিউজিল্যান্ডের ট্রাজেডি নয়, এটি গোটা মানব সমাজ ও বিশ্বের জন্যই ট্রাজেডি৷ আমাদেরকে বিভক্ত করার জন্য এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়৷ যে পন্থায় বা যে আকারেই হোক না কেন আমরা এমন কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করছি৷ তার বদলে আমরা একতাবদ্ধ ও শক্তিশালী থাকব৷''

আন্তর্জাতিক তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং অস্ট্রেলিয়া, ক্যানাডা ও ব্রিটেনের তদন্তকারীরা শুক্রবারের ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারীর একটি প্রোফাইল তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পুলিশ প্রধান৷ ‘‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি যে এটি আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে'', গণমাধ্যমকে বলেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ৷ দু'টি মসজিদে হামলার পর অভিযুক্ত অস্ট্রেলিয় নাগরিকের তৃতীয় একটি জায়গায় হামলার পরিকল্পনা ছিল বলেও জানান তিনি৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কারণে যা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন বুশ৷

এদিকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ সনাক্ত করা হয়েছে৷ দাফনের জন্য বুধবারের মধ্যে বাকিদের চিহ্নিত করার কাজও শেষ হবে বলেও জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে৷

এদিকে লাশ হস্তান্তরে দেরী হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা৷ এ ব্যাপারে বুশ বলেন, পুলিশকে বিচারের জন্য  মৃত্যুর কারণ ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে হচ্ছে৷ ‘‘হত্যার বিচারের জন্য মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে হবে৷ এটি একটি বিস্তৃত প্রক্রিয়া যা সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে৷‘‘

এই ঘটনায় আহত ২৯ জন এখনও হাসপাতালে রয়েছে, যার মধ্যে আটজনকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে৷

এফএস/ডিজি (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন