নিউজিল্যান্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশি | বিশ্ব | DW | 18.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

নিউজিল্যান্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু'টি মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে৷ বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে৷ এর আগে নিহত তিন বাংলাদেশীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল৷

বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টার অকল্যান্ডে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার বরাত দিয়ে নিহতদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷ তারা হলেন: মোজাম্মেল হক, ওমর ফারুক এবং জাকারিয়া ভূঁইয়া৷ ড. আব্দুস সামাদ ও হোসনে আরা আহমদকে এর আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল৷ লাশ হস্তান্তরের জন্য নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত দু'জনের পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছে দেশটির পুলিশ৷ দেশে অবস্থানরত বাকিদের স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানান এই কূটনীতিক৷

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের অন্তত ৫০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন৷  ২৮ বছর বয়সি হামলাকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন টারান্টের বিরুদ্ধে শনিবারই হত্যামামলা দায়ের করা হয়েছে৷ এরই মধ্যে তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে৷ ৫ এপ্রিল আবারও তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে৷

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন

শুক্রবারের হামলা নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনের বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্দার্ন৷ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করতে মন্ত্রীসভা সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি৷ ‘‘ ভয়ংকর এই সন্ত্রাসী  হামলার দশদিনের মধ্যেই আমরা আইন সংশোধনীর ঘোষণা দিব, যা আমাদেরকে আরো নিরাপদ করবে বলে আমার বিশ্বাস৷'' সংবাদ সম্মেলনে জানান জেসিন্ডা আর্ডার্ন৷

এই সময়ের ভেতরে হামলায় যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো কারো কাছে থাকলে তা সমর্পণের আহবান জানিয়েছেন তিনি৷ বলেন ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র মালিকদের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের যে মনোভাব তৈরি হয়েছে তার প্রতি সমর্থন জানাবে৷'' ইতোমধ্যে অনেকে তাঁর এই আহবানে সাড়া দিতে শুরু করেছেন৷ দেশটির একজন কৃষক ও গ্রিন পার্টির প্রার্খী জন হার্ট তার সেমি-কন্ডাক্টর বন্দুক সমর্পণের কথা জানিয়েছেন টুইটারে৷ নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘ট্রেইড মি গ্রুপ' শুক্রবারের ঘটনার পর এ ধরনের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করে দিয়েছে৷

হামলাকারী অস্ত্র কিনেছিল অনলাইনে

হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্ট ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে বৈধভাবে চারটি অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করেন৷ অনলাইন থেকে তিনি সেগুলো কিনেছেন বলে জানিয়েছেন ‘গান সিটি' নামের দোকানের মালিক ডেভিড টিপল৷ কিন্তু হত্যাকাণ্ডে যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো তিনি তার কাছে বিক্রি করেননি বলে দাবি করেন৷ ‘‘এমএসএসএ বা মিলিটারি স্টাইল অটোমেটিক নামের যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি গান সিটি থেকে কেনা নয়৷ এ ক্যাটাগরির আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া গান সিটি তার কাছে কোন এমএসএসএ বিক্রি করেনি৷'' এক সংবাদ এসব কথা বলেন টিপল৷ তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর আইন সংশোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন৷

৫০ লাখ জনগোষ্ঠীর নিউজিল্যান্ডে ১৫ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র আছে৷ রেডিও নিউজিল্যান্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে যত মানুষ দেশটিতে অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন করেছে তার ৯৯ ভাগই অনুমোদন পেয়েছেন৷

ভিডিও সরাচ্ছে ফেসবুক

এদিকে, হামলা চালানোর সময় ফেসবুকে লাইভ করেন ব্রেন্টন৷ পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে৷ শনিবার ফেসবুক জানিয়েছে সারা বিশ্ব থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হামলার ১৫ লাখ ভিডিও তারা সরিয়ে নিয়েছে৷ সেই সঙ্গে এডিট করা সংস্করণগুলোও তারা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে৷ ফেসবুক এবং ইউটিউব জানিয়েছে স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সহিংস কনটেন্ট চিহ্নিত করছে এবং সেগুলো ক্রমান্বয়ে সরিয়ে ফেলছে৷

তবে এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ কমছে না৷ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান লোটো জেড সামাজিক মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপন তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷ একই পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে দেশটির সবচেয়ে বড় ব্যাংক এএসবি ব্যাংক ও কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার একটি ইউনিটও৷ ‘দি অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজিল্যান্ড অ্যাডভার্টাইজারস' এবং ‘দি কমার্শিয়ার কমিউনিক্যাশনস কাউন্সিল' সব বিজ্ঞাপনদাতাদের ফেসবুক এবং অন্যান্য প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন না দেয়ার আহবান জানিয়েছে৷ এক বিবৃতিতে তারা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সাইটগুলো যদি মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যে ভোক্তাদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন দিতে পারে, তাহলে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেন এমন ভিডিওর সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করা হয় না?'' এদিকে, ভিডিও ছড়ানো বন্ধ করতে কাজ করছে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় টেলিযোগাযোগ অপারেটর স্পার্ক এনজেড৷ তারা কয়েক ডজন ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে৷

এফএস/এআই (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন