নাৎসি আমলের ছায়া এবং কোলোন সংগ্রহশালা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.05.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

নাৎসি আমলের ছায়া এবং কোলোন সংগ্রহশালা

প্রতিটি দেশের সংগ্রহশালা সেই বিশেষ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে৷ এই ইতিহাস কখনো কখনো বেদনারও৷ আর এই রকমই কালের সাক্ষী দুটি জাদুঘর আমস্টার্ডামের আনে ফাঙ্ক সংগ্রহশালা এবং কোলোনের নাৎসি ডকুমেন্টেশন সেন্টার৷

default

পোস্টারে ইল-ডিই হাউস-এর সংগ্রহশালা

কোলোনে যে বাড়িটিকে বর্তমানে নাৎসি ডকুমেন্টেশন সেন্টারে পরিণত করা হয়েছে তা ছিল ঘড়ি এবং অলঙ্কার ব্যবসায়ী লিওপোল্ড ডাহমেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান৷ ব্যবসায়ী লিওপল্ড ডাহমেনের নামানুসারেই নাৎসি ডকুমেন্টেশন সেন্টারের অপর নাম ইএল-ডিই হাউস৷

১৯৩৪ সালে গেস্টাপো (তত্কালীন জার্মান গোয়েন্দা পুলিশ) এই বাড়িটি ভাড়া নেয় এবং তা হেডকোয়ার্টার্স হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে৷ বাড়িটির নীচের দু'টি তলাকে পরিণত করা হয় কারাগারে৷ কারাবন্দিদের সেখানে তৈরি করতে হতো নিজেদের নির্যাতন কক্ষ৷

Das EL-DE Haus heute

এই বাড়িটি এক সময় ছিল ঘড়ি এবং অলঙ্কার ব্যবসায়ী লিওপোল্ড ডাহমেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

আর বাড়ির উপরের চারটি তলা জুড়ে গেস্টাপো তাদের ব্যবসায়িক কাজ চালাত র্নিবিঘ্নে৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বোমা বর্ষণের ফলে কোলোন শহরের অন্তত নব্বই শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়৷ তবে, ঘটনাচক্রে এই বাড়িটি থেকে যায় অক্ষত অবস্থায়৷ যুদ্ধের সময়ে বাড়ির নীচের কারাগারটি ব্যবহার করা হত বিভিন্ন নথিপত্র রাখার গুদামঘর হিসেবে৷

যুদ্ধের পর এই বাড়িটিই ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন জাতীয় কাউন্সিলের অফিস হিসেবে, যেমন পেনশন বা অবসরভাতা দপ্তর, রেজিস্ট্রি অফিস ইত্যাদি৷ ১৯৮১ সালের ডিসেম্বর মাসে গেস্টাপোর কারাগার মেমোরিয়ালটির উদ্বোধন করা হয়৷ এরপর ১৯৮৮ সালে কোলোন ন্যাশনাল সোশালিজম ডকুমেন্টেশন সেন্টার এই বাড়িটিতেই স্থানান্তরিত করা হয়৷ ১৯৯৭ সালের জুন মাসে বাড়িটি পরিণত হয় সংগ্রহশালায়৷

ইএল-ডিই হাউসের নীচের কারাগারটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় রেখেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে৷ কারাকক্ষগুলোর দেওয়ালে এখনও রয়েছে বন্দিদের বিভিন্ন ভাষায় লেখা ও আঁকা ছবি, যা কিনা সেই সময়ের ভয়াবহতাকে মনে করিয়ে দেয়৷

Gruss EL-DE HAUS Köln Ausstellung Freizeit im Faschismus

গেস্টাপো হাজার হাজার মানুষের নির্বাসন ও হত্যার জন্য দায়ী

রয়েছে বন্দিদের কক্ষ, পয়োনিষ্কাশন সুবিধাসহ স্নানাগার, কারারক্ষীদের কক্ষ ইত্যাদি৷ তবে, নির্যাতন এবং ফাঁসি কক্ষটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷

নাৎসি ডকুমেন্টেশন সেন্টারের গাইড জানান, ‘‘শহরের মাঝখানে অবস্থিত এই বাড়িতে নাৎসি কর্মকান্ড সম্পর্কে কোলোনবাসীর জানা থাকলেও তা তাঁরা হয় উপেক্ষা করতেন বা নাৎসিদের সেই নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানাতেন নীরবে৷ তাছাড়া, বাড়িটি ব্যস্ত রাস্তার উপর হওয়ায় বিভিন্ন সময় বন্দিদের অসহায় আর্তনাদ বা যন্ত্রণার চিৎকার পথচারীদের কানে অবশ্যই আসতো৷ তবে, এই নির্যাতনের সাক্ষী এমন কেউই সে সম্পর্কে কোন ধরণের তথ্য দেননি৷''

সিক্রেট স্টেট পুলিশের কাজই ছিল মানুষের ওপর নজরদারি করা৷ এছাড়া, রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলির সদস্যদের নির্যাতন ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা৷ গেস্টাপো হাজার হাজার মানুষের নির্বাসন ও হত্যার জন্য দায়ী৷ নাৎসি ডকুমেন্টেশন সেন্টারের গাইড বলেন, ‘‘বন্দি থাকাকালীন জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকে মারা গেছেন বলে মনে করা হয়৷ তাছাড়া শোনা যায়, যুদ্ধের শেষের দিকেও ইএল-ডিই-র এই বাড়িতেই কার্যকর করা হয়েছে একাধিক মৃত্যুদন্ড৷ তবে কোন সাক্ষ্য এবং বিশদ তথ্য না থাকায় এর সংখ্যা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়৷''

নাৎসি ডকুমেন্টেশন সেন্টারের অন্য তলাগুলোর প্রথম তলায় রয়েছে লাইব্রেরি এবং আলোচনা ও মিডিয়া প্রেজেন্টেশনের জন্য রয়েছে ইভেন্ট রুম৷ দ্বিতীয় তলা থেকে নাৎসি আমলে কোলোনের ইতিহাস সম্পর্কিত সব তথ্য প্রদর্শন করা হয়ে থাকে৷ লাইব্রেরিতে নাৎসি আমলের বিভিন্ন কাগজপত্র, খবরের কাগজের মূল কপি বা মাইক্রোফিল্ম, বই, স্কুলের টেক্স বই এবং ব্রোশিওর প্রভৃতি রয়েছে৷

নাৎসিদের ক্ষমতাগ্রহণ থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালে তাদের পতন পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই সংগ্রহশালায় রক্ষিত৷ ২০০৬ সালে ‘দ্য বেস্ট হেরিটেজ' পুরস্কার পাওয়া বিভিন্ন দেশের সংগ্রহশালাগুলির মধ্যে নাৎসি ডকুমেন্টেশন সেন্টারটিও অন্তর্ভুক্ত৷

প্রতিবেদন: আসফারা হক

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সংশ্লিষ্ট বিষয়