নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন, মন্ত্রীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ | বিশ্ব | DW | 04.11.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন, মন্ত্রীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মাত্র পাঁচদিনের মাথায় আবারো হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে আগুন লাগানো হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুবৃত্তরা আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি-ঘরে হামলাও চালায়৷ পুড়িয়ে দেয় একটি প্রতিমা৷

দুর্বৃত্তরা পাঁচটা বাড়ি এবং একটি মন্দিরে আগুন দেয়৷ আর সেই আগুনেই পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়ে যায় বাড়ি ও মন্দির৷ বলা বাহুল্য, এ সব ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছায়েদুল হকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷

এর আগে গত রবিবার এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে একটি ফেসবুক পোস্টে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে একই এলাকার শতাধিক বাড়ি, ১০টি মন্দির এবং প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়৷ তখন ঐ এলকার সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, ‘‘কিছুই হয়নি, কয়েকটি মন্দিরে ভাঙচুর হয়েছে৷'' সে সময় তিনি আক্রান্ত হিন্দুদের গালাগালও করেন৷

অডিও শুনুন 00:34

‘মন্ত্রীর কথা জানতে চাইলেই তাঁর সহকারী বলেন তিনি ব্যস্ত আছেন'

প্রথম হামলার সময় মন্ত্রী এলকায় না থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে তিনি এলাকায় থাকা অবস্থায়ই হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়৷ এরপরও বার বার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি৷ তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মিজানুর রাহমান জানান, ‘‘তিনি আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন৷ তবে এখন ব্যস্ত আছেন৷''

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার পর নাসিরনগরের নমশুদ্র পাড়া, বণিক পাড়া ও ঠাকুর পাড়ায় পাঁচটি ঘর এবং দাসপাড়ার গোবর্ধন দাসের বাড়িতে থাকা দুর্গামন্দিরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা৷ এ সময় এলাকাবাসী ঘুমাচ্ছিল বলে জানা গেছে৷ ফলে কাউকেই চিনতে পারেননি তাঁরা৷

নমশুদ্র পাড়ার ফুল কিশোর সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘গভীর রাতে আমার বাড়ির একটি গোয়াল ঘরসহ দু'টি ঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা৷''

বণিক পাড়ার পুতুল দেব বলেন, ‘‘হঠাৎ করে রাত তিনটার দিকে দেখি আমাদের বসত ঘরের পাশের ঘরে দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলছে৷ এ অবস্থা দেখে চিৎকার শুরু করলে এলাকার লোকজন ঝাঁপিয়ে পরে আগুন নেভায়৷''

অডিও শুনুন 00:49

‘মন্ত্রী আমাদের মালাউনের বাচ্চা বলে গালাগালি দিয়েছেন’

এদিকে দাসপাড়ার গোবর্ধন দাস জানান, ‘‘আমার বাড়ির একমাত্র দুর্গা মন্দিরটি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা৷ এতে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে৷''

এই ঘটনার পর নাসিরনগরের হিন্দু বসতিতে আবার নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বৃহস্পবিারের রাতের ঘটনা হামলা নয়, কে বা কারা রাতের অন্ধকারে গোয়ালঘরে আগুন দিয়েছে৷ এ সব ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক৷ আমরা অতিরিক্ত ‘ফোর্স' মোতায়েন করেছি৷''

রবিবারের হামলার তদন্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘আমরা কয়েকজনকে আটক করেছি৷ এখন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে৷''

বৃহস্পতিবার রাতে আক্রান্তরা জানান, ‘‘রবিবারের হামলার পর হিন্দু বসতিতে নিরাপত্তার জন্য কিছু পুলিশ ফোর্স দেয়া হলেও বৃহস্পতিবার রাতে আগুন দেয়ার সময় তাদের দেখা যায়নি৷''

নাসিরনগরের এমপি এবং  মৎস্যমন্ত্রী ছায়েদুল হক হিন্দুদের নিরপত্তার উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে বুধবার ডয়চে ভেলের কাছে অভিযোগ করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলির সদস্য কাজল দেবনাথ৷

অডিও শুনুন 01:40

‘মানববন্ধন না করার জন্য একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে আমাদের’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলেন, সাংবাদিকরা বাড়াবাড়ি করছে৷ আমাদের লোকজন গেলে বলেন...‘বাচ্চা'... (মালাউনের বাচ্চা)৷''

তবে মন্ত্রী ছায়েদুল হক শুক্রবার রাতে টেলিফোনে দাবি করেন, ‘‘আমি হিন্দুদের মালাউনের বাচ্চা বলিনি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কতিপয় নেতা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, যারা এটা বলছে তারা প্রমাণ করুক...।’’

এদিকে বারবার হামলার প্রতিবাদে নাসিরনগরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শুক্রবার মানববন্ধন করা হয়৷ পরিষদের সভাপতি আদেশ চন্দ্র দেব ডয়চে ভেলের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘মানববন্ধন না করার জন্য একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ শুধু হুমকি নয় বাধাও দেয়া হয়েছে৷ মন্ত্রীর লোকজন প্রতিবাদ সমাবেশে আসতে বাধা দিয়েছেন৷ মন্ত্রী আমাদের নানা ভাষায় গালাগালও করেছেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘হিন্দু পল্লীতে নিরাপত্তা পর্যাপ্ত নয়৷ শুধু মন্দিরে পুলিশ দেয়া হয়েছে, বসতিতে পুলিশ নাই৷ আর ঊর্ধ্বতন কর্তাদের আনাগোনা বেড়েছে৷''

বন্ধু, আপনাদের মধ্যে কেউ কি ঐ এলাকায় আছেন? জানান আপনার অভিজ্ঞতা, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন