নারী শ্রমিকদের নেতৃত্বে আনতে চান রুবানা হক | বিশ্ব | DW | 14.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

নারী শ্রমিকদের নেতৃত্বে আনতে চান রুবানা হক

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা নারীদের নেতৃত্বের জায়গায় তুলে আনতে সংকল্পের কথা জানিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র প্রথম নারী সভাপতি রুবানা হক৷

সম্প্রতি বিজিএমইএ-র নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা৷ ২০ এপ্রিলের মধ্যে বিজিএমইএ-র পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে

৫৫ বছর বয়সি এই নারী এমন এক সময়ে সংগঠনের নেতৃত্বে এলেন, যখন বাংলাদেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ৷ এই খাতে কাজ করছেন ৪০ লাখ শ্রমিক৷ আর এইচঅ্যান্ডএম ও প্রাইমার্কের মতো প্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরি করছে রুবানার প্রতিষ্ঠান৷

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে রুবানা হক বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, যে শিল্পের ৮০ ভাগের অধিক শ্রমিক নারী, নিজেদের স্বার্থ তুলে ধরতে তাঁদেরকে বড় রকমের সুযোগ দেওয়া উচিত৷ অধিকাংশ শ্রমিক নারী হলেও বর্তমানে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের বেশিরভাই পুরুষ৷ এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে৷''

বাংলাদেশের সাড়ে চার হাজার কারখানায় নিজেদেরবেতন ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসহ প্রায় সবক্ষেত্রে পুরুষ ব্যবস্থাপকদের সঙ্গেই দেনদরবার করতে হয় নারী শ্রমিকদের৷ এই অবস্থার পরিবর্তন আনার কথাই বলছেন রুবানা৷

আবার এমন এক সময়ে রুবানা বিজিএমইএ সভাপতি হলেন, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেওয়া কারখানা পরিদর্শন প্রক্রিয়া থাকবে কি, থাকবে না- সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট৷ ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১০০ জন নিহত হওয়ার পর ‘বাংলাদেশ অ্যাকর্ড' নামে এ পরিদর্শন প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল৷

এমতাবস্থায় পোশাক প্রস্তুতকারকদের পক্ষ থেকে কারখানা পরিদর্শন ও পরীক্ষা নিরীক্ষার উপর জোর দিচ্ছেন রুবানা৷ বিজিএমইএ-র সভাপতি পদের দায়িত্বে আসাকে গত দুই দশক ধরে তৈরি পোশাক খাতে নিজের কাজের ধারাবাহিকতা হিসাবেই বর্ণনা করছেন তিনি৷

রুবানা বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নির্বাহী পদে হাতেগোনা কয়েকজন নারীর একজন৷ ‘‘নারীকে অবহেলার চোখে দেখার একটা প্রবণতা আছে, এটাকে পরিবর্তন করতে হবে'', রয়টার্সকে বলেন তিনি৷ ‘‘কিন্তু আমি নারী হিসাবেই এখানে আছি, এবং আমি বিশ্বাস করি- নারীদের চ্যালেঞ্জগুলোকে ভিন্নভাবে দেখা ও তাঁদের প্রতি সমানুভূতিশীল হতে পারব৷''

কবিতার জন্য সার্ক সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া রুবানা কলামও লেখেন৷ তাঁর প্রয়াত স্বামী আনিসুল হক পোশাক খাতের ব্যবসায়ী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন৷

অধিকাংশ শ্রমিক নারী হলেও বর্তমানে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের বেশিরভাই পুরুষ

অধিকাংশ শ্রমিক নারী হলেও বর্তমানে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের বেশিরভাই পুরুষ

রুবানা বলছেন, শিক্ষিত করে নারী শ্রমিকদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করার পাশাপাশি তাঁদেরকে মধ্যম সারির ব্যবস্থাপক পদে আনার কথা ভাবছেন তিনি৷ ‘‘জেন্ডারভিত্তিক নেতৃত্বের কর্মসূচি হাতে নিতে চাই আমি, যার মাধ্যমে নারীরা ক্ষমতায়িত হবেন৷''

গার্মেন্টসে শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা, বাজে চর্চা' হিসাবে উড়িয়ে দেন তিনি৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘বাস্তবে আমাদের ৮০ ভাগ নারী স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে- এটাই বড় কথা৷''

এদিকে, রুবানা হক একটি শীর্ষ পদে আসলেও নারী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কতটা কাজ করতে পারবেন সে বিষয়ে সন্দিহান শ্রমিক অধিকার সংগঠকরা৷ তাঁদের ধারণা, শ্রমিকদের চাইতে মালিকদের স্বার্থই দেখবেন তিনি৷ ‘‘তিনি (রুবানা) নির্বাচিত হয়েছেন এটা ভালো ব্যাপার৷ তবে পুরুষ নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠনে তিনি কতটা প্রভাব রাখতে পারবেন, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই'', রয়টার্সকে বলেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নাজমা আক্তার৷

শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সাবেক এ শিশু শ্রমিক বলেন, ‘‘আমি আশা করি, তিনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং কারখানায় সংঘাতের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবেন৷''

এমবি/জেডএইচ (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন