নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স′ নীতি চাই: আয়েশা | আলাপ | DW | 02.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স' নীতি চাই: আয়েশা

বাংলাদেশে নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ প্রয়াত সুফিয়া কামালের সঙ্গে আশির দশক থেকে কাজ করছেন আয়েশা খানম৷ বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি৷

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারী অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আয়েশা খানমের কাছে ২০১৮ সালের প্রত্যাশা জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ নারীদের জন্য কেমন সমাজ, পরিবেশ চান তিনি?

উত্তরে বেশ কয়েকটি বিষয়ের কথা বলেন৷ এর মধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতা দমনে ‘জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ একটি৷ ‘‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে, আমিও তেমনি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী,'' ডয়চে ভেলেকে বলেন আয়েশা খানম৷

২০১৮ সালের শেষে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে৷ সেখানে এক-তৃতীয়াংশ নারী সাংসদ নির্বাচনের দাবিও জানান তিনি৷ ‘‘সংসদে এখনও এক-তৃতীয়াংশ নারী সাংসদ নাই, নারী এখনও রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠে নাই৷ স্থানীয় পর্যায়ে অবশ্য নারীরা আছেন, তবে তাঁদের অনেক সমস্যা আছে, প্রশিক্ষণের অভাব আছে,'' বলেন এই নারী নেত্রী৷

অডিও শুনুন 13:45
এখন লাইভ
13:45 মিনিট

‘শুধু নারী নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে না, সেই সঙ্গে বাড়ছে পাশবিকতা, নির্যাতনের ভয়াবহতা এবং মনুষত্বহীনতাও’

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ২০১৬ সালের তুলনায় ধর্ষণসহ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে বলে নভেম্বরে জানিয়েছিল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ৷ সংস্থার সভাপতি আয়েশা খানম এবার বললেন, শুধু নারী নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে না, সেই সঙ্গে বাড়ছে পাশবিকতা, নির্যাতনের ভয়াবহতা এবং মনুষত্বহীনতাও৷

নারী নির্যাতন বন্ধে অনেকগুলো ভালো আইন থাকলেও সেগুলোর প্রচার ঠিকমত হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি৷ তাছাড়া আইন প্রয়োগেও নানা সমস্যা থাকার কথা জানালেন আয়েশা খানম৷ তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীদের শাস্তি দিতে দেরি হচ্ছে৷ এছাড়া প্রভাবশালীরা আইন প্রয়োগের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকেন৷ এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছেন আয়েশা খানম৷ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিষয়ে পাঠদান, জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশাসন, নীতিনির্ধারক, নাগরিক – এ সবেরও দাবি জানান তিনি৷

ব্রিটিশদের তৈরি সাক্ষ্য আইন ধর্ষিতার জন্য অবমাননাকর মন্তব্য করে সেটি সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন এই নারী নেত্রী৷

ঐ আইনে ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ধর্ষককেধর্ষিত নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ আইনের ১৫৫ (৪) ধারায় বলা আছে: ‘‘কোনো ব্যক্তিকে যখন ধর্ষণ বা বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয়, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারী নারী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা৷'' গত নভেম্বরে ঢাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে আয়েশা খানম বলেছিলেন, ‘‘ধর্ষিতা নয়, ধর্ষণকারীকেই প্রমাণ করতে হবে, সে ধর্ষণ করেনি৷'' এছাড়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা, বর্তমানে তা যে উপায়ে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, তাতেও পরিবর্তন চান এই নারী নেত্রী৷

আয়েশা খানম বলেন, বাংলাদেশে এখন অনেক মেয়ে বাইরে কাজ করছে৷ মেয়েরা পাহাড়ের চূড়ায় উঠছে, শান্তিমিশনে যাচ্ছে, প্যারাসুট জাম্পিং করছে, কঙ্গোতে দু'জন নারী বিমানচালক হিসেবে গিয়েছে – এমন অনেক সফলতা আছে মেয়েদের৷ কিন্তু তারপরও নিরাপত্তা মেয়েদের জন্য একটি বড় সমস্যা, বলেন তিনি৷

সোনার বাংলা গড়তে হলে বিবেকসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা দরকার এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেই দিকেই অগ্রসর হবে বলে প্রত্যাশা আয়েশা খানমের৷

সাক্ষাৎকারটি কেমন লাগলো? এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়