নারী নির্যাতনের নতুন রূপ: আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.06.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

নারী নির্যাতনের নতুন রূপ: আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া

মুঠোফোনে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবার ঘটনা বাংলাদেশে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে৷ তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নারী নির্যাতনের যে নতুন কৌশল তৈরি হয়েছে তাকে কীভাবে মোকাবিলা করা যেতে পারে?

বাগেরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাবিয়া সুলতানা সাথী৷ গত মার্চ মাসে জোড় করে তার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় সাথীর সহপাঠীরা৷ ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর অপমান ও মানসিক যাতনা থেকে মুক্তি পেতেই সে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ৷

সাথী শুধু একা নয়৷ ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার শিকার হয়েছেন – স্কুল ছাত্রী থেকে খেটে খাওয়া সাধারণ নারী, কর্মজীবী নারী থেকে শুরু করে গৃহবধু এবং খ্যাতিমান টিভি তারকা৷

কখনো জোর-জবরদস্তি করে ধারণ করা হয়েছে অশ্লীল ছবি৷ আবার কখনো সুসম্পর্ক থাকার সময় আপোশে যে সব ছবি ধারণ করা হয়েছে, পরবর্তীতে সেগুলোকেই ‘ব্ল্যাকমেল' করার হাতিয়ার হিসেবে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেটে৷

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী জানান, ‘‘বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে না দিলে আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নিজের স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেল করেছে স্বামী৷ এই নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে৷'' আর সেই মামলা লড়ছেন সালমা আলী নিজেই৷

মোবাইল ফোনে থাকা ক্যামেরা বা অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নারীকে নির্যাতনের যে সব অভিনব ঘটনা ঘটছে তার শাস্তি বিধানে তেমন কোনো আইন এত দিন ছিল না বাংলাদেশে৷ তবে, এ বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১২ পাশ করেছে সরকার৷ এতে কিছু শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে৷ ফলে, আইনটিকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট সালমা৷

অপরাধের মাত্রাভেদে সর্বোচ্চ দশ বছর কারাদণ্ডসহ অপরাধীদের জন্য বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা আছে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন - ২০১২তে৷ এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগ ছাড়াই রাষ্ট্র তথা আদালত আমলে নিতে পারবে বলে বিধান রয়েছে৷

তবে, ‘‘শুধু আইন করলেই হবে না৷ এটি মানুষকে জানাতে হবে৷ সচেতনতা তৈরি করতে হবে৷ নইলে ফল হবে না'' বলেই মনে করেন তিনি৷

সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি এই আইনের আওতায় এনে কিছু অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘যদি কয়েকজনকে খুব কঠিন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি খুব দ্রুত কার্যকর করা যায় তাহলে এ ধরণের অপরাধীর করার আগে অপরাধীরা শাস্তির ভয় পাবে৷''

আ্যাডভোকেট সালমা আলীর মতে, অপমানের বোঝা টানতে না পেরে বাগেরহাটের যে কিশোরী চিরতরে পালিয়ে গেছে, জীবনকে থেকে তাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না৷ তবে, তাকে যারা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন৷ পাশাপাশি, আর কোনো সাথীকে যেনো অপমানিত হতে না হয়, সেই পরিবেশও তৈরি করতে হবে৷ আর তাঁর মতে, এ জন্য জোর ভূমিকা পালন করতে হবে রাষ্ট্রকেই৷

প্রতিবেদন: আফরোজা সোমা
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন