নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা কমাতে অভিনব এক প্রতিযোগিতা | বিশ্ব | DW | 04.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা কমাতে অভিনব এক প্রতিযোগিতা

ভারতে নারীদের ওপর সহিংসতাবিরোধী অভিযানের অঙ্গ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নির্মিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফিল্ম প্রতিয়োগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ফারহান আখতার৷ পপুলেশন ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগে প্রায় ১৭০০ ভিডিও জমা পড়েছে৷

ভারতে মহিলাদের মান-মর্যাদা ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে যে নগ্ন ছবিটা চোখে পড়ে, তাতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এই ফিল্ম প্রতিযোগিতার আয়োজন৷ লক্ষ্য ভারতের নারী সমাজের বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান৷ দুই মিনিটের স্বল্প-দৈর্ঘের এই ফিল্ম কনটেস্টকে কেন্দ্র করে চলবে বিচার, শৈল্পিক বিশ্লেষণ, বিতর্ক ও সেমিনার৷ এতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে৷ থিম, #বাসবহতহোগ্যায়া, বাংলায় তর্জমা করলে দাঁড়ায় অনেক হয়েছে, আর নয়৷ এই অভিযানের নেতৃত্বে আছেন মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ফারহান আখতার৷ তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে পপুলেশন ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া৷ পাশে আছেন নামী চলচ্চিত্র পরিচালক-অভিনেতা ফিরোজ আব্বাস খান৷

 দেশের ৬০০ কলেজ থেকে এসেছে ১৭০০ এন্ট্রি৷ ফিল্মের ভাব, ভাবনা ও বার্তা হবে, ‘বাস বহত হো গ্যায়া', অর্থাৎ নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়৷ বিচারকমণ্ডলিতে আছেন, পদ্মশ্রী ডঃ কিরণ কার্নিক, চলচ্চিত্র পরিচালক শেখর কাপুর, অভিনেতা ফিরোজ আব্বাস খান ও  অভিনেত্রী শাবানা আজমি৷ প্রতিযোগিতা শেষ হবে মুম্বাইয়ে এক কনসার্ট দিয়ে৷ ফারহান আখতার মনে করেন, নারীদের ওপর যে হারে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, তাতে মনে হলো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরও কিছু করা জরুরি৷ তবে শঙ্কা ছিল মেনলাইন মিডিয়াগুলিতে সাধারণত বহুচর্চিত নারী সংক্রান্ত ইস্যুগুলিই তুলে ধরা হয়৷ কিন্তু সেসব ছাড়াও নারী সহিংসতার পেছনে আরো বহু নেপথ্য কারণ থাকে, যা চোখের আড়ালেই থেকে যায়৷

পপুলেশন ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার পুনম মূত্রেজা মনে করেন, শিক্ষার্থীরা অবাক করেছেন৷ নেপথ্য ঘটনার সূক্ষ্মতম দিকগুলি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই দুমিনিটের ফিল্মে৷ এতে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের চারপাশে নিত্যদিন মহিলা বা তরুণীদের ওপর যে সহিংস ঘটনা ঘটে চলেছে, সে সম্পর্কে তাঁরা উদাসীন নয় মোটেই, বরং যথেষ্ট সচেতন৷ উপলব্ধি করতে পেরেছেন, নারীদের আপন ভাগ্য জয় করিবার অধিকার বিধাতার হাতে নয়,  এই সমাজের হাতে৷ এই ফিল্ম কনটেস্টে যে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে, তাতে একটা কথা পরিষ্কার যে, বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম চায়, পিতৃতান্ত্রিক সমাজের অচলায়তনে আমূল পরিবর্তন৷ এই বার্তা তাঁরা পৌঁছে দিতে চান আজকের তরুণীদের মধ্যে, যাতে তাঁরা এই সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে, প্রতিবাদের আওয়াজ তুলতে পারে৷ বলতে পারে, নারীকে গায়ের জোরে অধীনস্থ করে রাখা যায় না বা নারী নির্যাতনে পৌরুষত্ব প্রমাণ হয় না৷ নারীকে হতে হবে অগ্নিকন্যা৷ তাই নারীর স্বশক্তিকরণই এই অভিযানের বীজমন্ত্র৷ কারণ, দেখা গেছে, অনেক সময় মেয়েরা লোকলজ্জার ভয়ে কিংবা পরিবারের সম্মান বাঁচাতে, পুলিশ প্রশাসনের সংবেদনশীলতার অভাবে কোর্ট-কাছারি পরিহার করারই পক্ষপাতি৷

 নারীদের ওপর সহিংসাতা অনেকভাবে হয়৷ কখনও হয় এককভাবে, কখনও হয় যৌথভাবে৷ এককভাবে হয় ধর্ষণ, পারিবারিক হিংসা দৈহিক ও মানসিক, যৌন হেনস্থা, কন্যাভ্রুণ হত্যা, গর্ভপাত, অপহরণ, এবং জাতিভেদ প্রথায় ছেলে বা মেয়ে যদি নীচু জাতের হয় বা অন্যধর্মের ছেলেকে ভালবাসে বা বিয়ে করে, সেক্ষেত্রে পরিবারের সম্মান বাঁচানোর নামে তথাকথিত অনার কিলিং, মুসলিম ধর্মে তালাকপ্রথা, ছুন্নত ধরণের মেয়েদের যৌনাঙ্গের হানি করা ইত্যাদি৷ লিঙ্গ-ভিত্তিক এই সহিংসতার অন্যতম কারণ পণপ্রথা৷ বিয়ের পণ মনমতো না পাওয়ার অজুহাতে নববধূকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা, পরপুরুষের প্রতি আসক্তির অভিযোগে গায়ে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া, আত্মহত্যায় বাধ্য করা ইত্যাদি৷

জাতীয় ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট বলছে, ভারতে গত দশ বছরে প্রতি দুই মিনিট অন্তর নারীদের উপর একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটে৷ সেটা হতে পারে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দ্বারা কিংবা পারিবারিক চৌহদ্দির বাইরের লোকেদের দ্বারা৷ সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই ধরণের নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ৷ এটা শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানসহ গোটা উপ-মহাদেশে নারীদের নির্যাতনের একই হাল৷ কথা হচ্ছে, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার প্রবণতা রুখতে কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে গণসচেতনতা জরুরি৷ এই ধরণের ফিল্ম প্রতিযোগিতা সেই লক্ষ্যে এক অভিনব পদক্ষেপ সন্দেহ নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন