নারীদের বিনামূল্যে বাসযাত্রার লক্ষ্য ক্ষমতায়ন না ভোট? | বিশ্ব | DW | 01.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

নারীদের বিনামূল্যে বাসযাত্রার লক্ষ্য ক্ষমতায়ন না ভোট?

দূষণের কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে দিল্লি শহর৷ অবস্থা শোচনীয়৷ এমন সময় গণপরিবহন, নারী ক্ষমতায়ন ও নারী সুরক্ষার লক্ষ্যে নারীদের বিনামূল্যে বাসযাত্রার প্রকল্প চালু করেছে আম আদমি পার্টি সরকার৷ পক্ষে, বিপক্ষে উঠে আসছে নানা যুক্তি৷

Nepal Erdbeben (Getty Images/J. Gratzer)

ফাইল ফটো

এবার ভ্রাতৃদ্বিতীয়া উপলক্ষ্যে দিল্লির নারীদের এক বিশেষ উপহার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ গত ২৯ অক্টোবর থেকে মহিলাদের বাস সফরে আর কোনও অর্থব্যয় হবে না৷ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন তাঁরা৷ শুধু তাই নয়, ওইদিন থেকেই দিল্লির সমস্ত বাসে ‘‌মার্শাল'‌বা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছেন তিনি৷ চারিদিকে সাধুবাদ পড়েছে আম আদমি পার্টির এই সিদ্ধান্তে৷ তবে, গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধীরাও এর নিন্দায় সরব হয়েছেন৷ বিশেষত আপ-‌এর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জনতা পার্টি সরাসরি কেজরিওয়াল সরকারের এই ঘোষণাকে ‘‌নির্বাচনী চমক'‌আখ্যা দিয়েছেন৷

তাঁর সরকারের এই প্রকল্পে নারীরা কতটা উপকৃত হচ্ছেন, খতিয়ে দেখতে নিজেই সরকারি বাসে চড়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী৷ নারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ মোটামুটি সবাই খুশি৷  বাসে উঠলেই নারী যাত্রীদের একটি ‘‌পিঙ্ক টিকিট'‌দেওয়া হচ্ছে৷ ‘‌দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন'‌জানাচ্ছে, প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই ৪.৭৭ লাখ নারী বিনামূল্যে বাস-‌যাত্রার সুবিধা নিয়েছেন৷ রাজধানী শহরে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি বাস রয়েছে৷ প্রতিটি ‘‌পিঙ্ক টিকিট'‌-‌এর জন্য বাস মালিকদের ১০ রুপি হিসেবে ভর্তুকি দেবে দিল্লি সরকার৷

নতুন দিল্লির বাসিন্দা প্রাক্তন আয়কর কমিশনার বনানী ঘোষ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‌‘‌নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি হবে সরকারের এই পদক্ষেপ৷ পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীদের ঘরে আটকে রাখার যে প্রবণতা রয়েছে, তার সঙ্গে লড়াইয়ে গরীব নারীরা তাঁদের পরিবারের ওপর কোনও আর্থিক বোঝা না চাপিয়েই নিজের প্রয়োজনে বিনামূল্যে বাসে চড়ে যাতায়াত করতে পারবেন৷ এর পাশাপাশি পরিবেশের জন্যেও প্রাইভেট গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকে উৎসাহ জোগাবে৷ যতদূর জানি, এরপর আমাদের দেশের অত্যাধুনিক মেট্রোরেলেও মহিলাদের জন্য বাড়তি সুযোগ-‌সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷'‌'‌

প্রশংসা যেমন আছে, একই সারিতে নিন্দাও তেমন আছে৷ আর মাত্র মাস চারেক পর দিল্লি বিধানসভার নির্বাচন৷ অনেকেই বলছেন, কেজরিওয়ালের এ হেন সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নির্বাচনে জেতার কৌশল৷ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দিল্লি বিজেপির সাবেক সভাপতি বিজয় গোয়েলের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট টানতে জনতার মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কেজরিওয়াল৷ তা না হলে ভাইফোঁটা তো প্রতিবছরই হয়ে এসেছে৷ নির্বাচনের মুখে হঠাৎ নারীদের কথা মনে পড়ল কেন?‌

দিল্লির বাঙালি হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্ট অনিরুদ্ধ দে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‌‘‌মহিলাদের আর ভাড়া দিতে হবে না, এটা অদ্ভুত নির্বাচনী চমক৷ ভর্তুকি দিয়ে দিয়ে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করা হচ্ছে৷ দেশের মানুষ কর দেবেন, আর বাসযাত্রীরা সেটা ভোগ করবেন, এটা ভুল নীতি৷ একজন মহিলা সারাজীবন বিনামূল্যে বাসে চড়বেন, এই নিয়ম নামা যায় না৷'‌' নারী সুরক্ষায় বাসে মার্শাল নিয়োগের সিদ্ধান্তকেও ভালো ভাবে দেখছেন না তিনি৷ তাঁর কথায়, ‘‌‌‘‌বাসে মার্শাল নিয়োগ করার খরচ কে দেবে?‌ স্থানীয় থানা ও পুলিশ কি করছে?‌ সরকারের এগুলো ভেবে দেখা উচিত৷'‌'‌

অডিও শুনুন 04:19

‘নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি হবে সরকারের এই পদক্ষেপ’

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে আপাতত দিল্লি সরকার ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে৷ বিরোধীরা যা-‌ই বলুক, সাধারণ মানুষ ও নারীরা বাহবা দিচ্ছে সরকারকে৷ যেমন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড.‌ কল্পনা গুপ্ত সাধুবাদ জানাচ্ছেন৷Audio- ড.‌ কল্পনা গুপ্ত (‌প্রফেসর, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়)‌

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ‘‌‘‌কেজরিওয়ালের হাতে বেশি ক্ষমতা নেই৷ পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে৷ তা সত্ত্বেও সীমিত ক্ষমতা নিয়ে নারী ক্ষমতায়ন, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং নারী সুরক্ষার কথা ভেবে একগুচ্ছ উদ্যোগ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ওঁর এই সদ্‌ভাবনা দিল্লিবাসীর স্বার্থে৷'‌'‌ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘‌‘‌গেল গেল রব উঠেছে রাজনৈতিক মহলে৷ বলা হচ্ছে, কেজরিওয়াল সবকিছু বিনামূল্যে দিচ্ছে৷ কিন্তু, বুঝতে হবে সাধারণ মানুষের দাবি কতটুকু৷ বিরোধী দলগুলির এমন সংকীর্ণ পক্ষপাত থেকে উঠে আসা উচিত৷'‌'‌সরকারি তথ্য বলছে, পরিকাঠামোগত বৈষম্যের কারণে ভারতের রাজধানী শহরে মোট কর্মরত মানুষের মাত্র ১১ শতাংশ মহিলা৷ দিল্লি মেট্রো রেলে মোট যাত্রীর ৩০ শতাংশ যাত্রী নারী৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন