নারীকে অ্যাথলেট হিসাবে দেখতে পারলেই বৈষম্য দূর হবে | বিশ্ব | DW | 03.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

নারীকে অ্যাথলেট হিসাবে দেখতে পারলেই বৈষম্য দূর হবে

দেশের মেয়েরা এশিয়া কাপ ক্রিকেট জেতার পর এক সাংবাদিক বন্ধু বলে ওঠেন, ‘‘ক্রীড়াসাংবাদিকদেরও বিচার হওয়া উচিত৷ এখন তাঁরা মহিলা ক্রিকেটের বঞ্চনার গল্প বলছেন, না পাওয়ার কথা বলছেন৷ এর আগে তারা কোথায় ছিলেন ?''

সবাই আগে সাফল্যের স্রোতে গা ভাসিয়ে চলছিলেন৷ সাকিব-তামিম-মাশরাফিতে মাতোয়ারা ছিলেন৷ তেলা মাথায় আরো তেল ঢেলে দেশের ‘পুরুষ ক্রিকেট'-কে তৈলাক্ত করছিলেন! তাতে করে তাঁদের শীর্ষারোহন হয় না, কিছু দূর উঠেই তেল চকচকে দল আবার পিছলে পড়ে৷ এই পুরুষ দল এখনো পর্যন্ত কোনো টুর্নামেন্ট জিততে না পারলেও হঠাত্‍ মহিলা ক্রিকেটের জাগরণ হয়েছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট জয়ে৷ তারপর সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে তাঁদের বঞ্চনার গল্প৷ ভালো ব্যাট নেই, ভালো গিয়ার্স নেই, ইত্যাদি ইত্যাদি৷ দেশটা বড় অদ্ভুত! শত অভাব ও বাধা-বিপত্তির মধ্যে আপনাকে আগে প্রতিভার প্রমাণ দিতে হবে, জিতে দেখাতে হবে৷ তারপর পাবেন পাদ-প্রদীপের আলো৷

ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের বেলায় এটা কঠিন সত্যি৷ তুল্যমূল্য বিচারে তাঁরা যতই এগিয়ে থাকুক সব সময় প্রাধান্য পাবেন ছেলে অ্যাথলেটরা৷ তাঁদের ক্যারিয়ার শুরু হবে সংগঠকদের নেতিবাচক ধারণায়৷ মেয়েদেরই এটা বদলাতে হয় পারফর্ম করে৷ এর বড় উদাহরণ এসএ গেমসে সোনাজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা৷ এই কৃতী সাঁতারুকে নিয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল গত এসএ গেমসে৷ ২০১৬ সালে আসাম-গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত গেমসে তাঁকে বাংলাদেশ সাঁতার দলে রাখায় দু-একজন ভীষণ ক্রদ্ধ  হয়েছিলেন৷ তাঁরা চেয়েছিলেন শিলাকে দলের বাইরে রাখতে৷ কিন্তু কোরিয়ান কোচ তাঁকে নিয়ে যান গেমসে৷ শিলা পুলে নেমেছেন, কিছুক্ষণ বাদেই শুরু হবে তাঁর ইভেন্ট৷ হামিদ সরকার নামের ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের পাশে বসেই তাঁর সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে যাচ্ছেন৷ বিদ্রূপের সুরে বলছেন, ‘‘শিলা বুড়িয়ে গেছে৷ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাকে দলে নেওয়া হয়েছে৷ ওর কিছু দেওয়ার ক্ষমতা নেই৷'' মিনিট বিশেক বাদে সেই শিলাই তাঁর ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনা জিতে ওই কর্মকর্তার মুখে ঝামা ঘষে দেন৷ এরপর কর্মকর্তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি সুইমিং পুলের আশেপাশে৷একটি নয়, দু-দু'টো সোনা জিতে সেই গেমসে চমকে দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই সাঁতারু৷

মজার ব্যাপার হলো, সেবার বাংলাদেশ জেতে চারটি সোনা এবং ওই চারটির তিনটির মালিকই দু'জন মহিলা অ্যাথলেট৷ শিলার দুটো স্বর্ণ এবং আরেকটি ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত'র৷ দেশে ফেরার পর তাঁদের নিয়ে সংবর্ধনার হিড়িক পড়ে যায়৷ নারী প্রগতির উত্‍কৃষ্ট উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা হয় দু'জনকে৷ পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের হাতে তুলে দেন ফ্ল্যাটের চাবি৷

কিন্তু সেই বিতর্কিত মন্তব্যকারী হামিদ সরকারের কিছুই হয়নি৷ সংবাদপত্রে প্রকাশিত তার মন্তব্যগুলো সংগ্রহ করে শিলা ফেডারেশনে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি৷ তাতে এটাই প্রমাণিত হয়, ফেডারেশনের বড় কর্তাদের কাছে সোনা জয়ী সাঁতারুর গুরুত্ব বা সম্মান খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ সেজন্যই সাঁতার ফেডারেশনের পরের কমিটিতেও হামিদ সরকার আছেন বহাল তবিয়তে৷ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়ে৷ অন্যদিকে শিলার অলিম্পিক স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে৷ এসএ গেমসের আগে নাম পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে – এ কথা বলে সোনা জয়ী সাঁতারুকে বাদ দেয়া হয় রিও অলিম্পিক গেমসের দল থেকে৷ দু'দিন আগে যিনি ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনে নারী প্রগতির প্রতীক, তাঁর স্বপ্নের টুঁটি চেপে ধরলো সংগঠকরাই!

পিংকি সানোয়ার এখন ফুটবল ছেড়ে অন্য পেশায়৷ টিভিতে ‘স্পোর্টস-শো' উপস্থাপনা করেন৷ তাঁর কাছে ক্রীড়াঙ্গন হলো মেয়েদের বঞ্চনার জায়গা, ‘‘আমি শুধু ফুটবল খেলিনি, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল সবই খেলেছি বিভিন্ন পর্যায়ে৷ এ সব খেলায় ছেলেরা যে রকম গুরুত্ব পায়, মেয়েরা তার কিছুই পায় না৷ কখনো কখনো মনে হয়েছে, মেয়েদের দল রাখতে হয় বলে রাখে৷'' তারপর যোগ করেন নিজের প্রত্যক্ষ তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা, ‘‘২০০৩ সাল থেকে আমি জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে খেলেছি৷ মেয়েদের ফুটবলের জন্য ফিফা থেকে যে অনুদান আসতো, তার সামান্য পরিমাণ হয়তো মহিলা ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় হতো৷ দেশে মহিলা ফুটবল হচ্ছে, এটা ফিফাকে দেখাতে হয় তাই নামকা ওয়াস্তে একটা জাতীয় দল গড়া হয়েছিল৷ দল নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবলে নিশ্চয়ই ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়াসংস্থার ছোট মাঠে তার অনুশীলন হতো না৷''

সেই ২০০৩-০৪-এ অবশ্য বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের শুরুটা হয়েছে অনেক বাধা ডিঙিয়ে৷ মৌলবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে৷ মেয়েরা স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলবে, হাফ-প্যান্ট পরবে, এটা মানতে পারছিল না মৌলবাদীরা৷ এজন্য তাঁরা আন্দোলন এবং মহিলা ফুটবল ঠেকানোর হুমকি দিয়েছিল৷ সেসব উপেক্ষা করেই মেয়েরা ফুটবল খেলেছেন হাফ-প্যান্ট পরে৷ তাতে কোনো সমস্যা হয়নি এবং ধীরে ধীরে সাধারণ মেয়েদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় ফুটবলের দুয়ার৷

যেখানে সামাজিক বাধা এবং কুপমন্ডুকতা বেশি, সেই গ্রাম-গঞ্জের স্কুলে এখন মেয়েদের ফুটবল হয় সাড়ম্বরে৷ মহিলা ফুটবলের ‘বাতিঘর' ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তারা নারী ফুটবলের অগ্রপথিক৷ তাদেরকে মডেল ধরে দেশের অন্যান্য স্কুলও আগ্রহী হয়ে ওঠে মেয়েদের ফুটবলে৷ কলসিন্দুর স্কুলের সাফল্যের রূপকার শিক্ষক মফিজ উল ইসলাম মনে করেন, ‘‘আমাদের এই অঞ্চলে দারিদ্র্য বেশি৷ দু'বেলা দু'মুঠো খাওয়া জোগাড় করাই কঠিন৷ মা-বাবার সঙ্গে মেয়েরাও ক্ষেতে-খামারে কাজ করে৷ তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে খেলায় আনা সহজ হয়েছে, যদিও প্রথমদিকে একটু কঠিন ছিল৷'' তাহলে যেখানে দারিদ্র্যের কষাঘাত বেশি, বেঁচে থাকার অবলম্বন স্বল্প, সেখানে সামাজিক বাধা কিংবা ধর্মীয় গোঁড়ামির শঙ্কা কম৷ তাই সেসব জায়গায় সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে নারী ফুটবল৷ কারণ, ফুটবলে অর্থযোগের সুযোগ আছে৷ এটাই যেন দরিদ্র মা-বাবাকে প্রলুব্ধ করেছে বেশি৷ কিন্তু পরে দেখা গেছে বঞ্চনাও কম নয়৷

জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার পিংকি সানোয়ারের চোখে দেশের মহিলা ফুটবলের উত্তুঙ্গ অবস্থার তুলনায় তাঁদের প্রাপ্তি বড় কম, ‘‘ফিফা মহিলা ফুটবলের জন্য এখন অনেক অনুদান দেয়৷ কিন্তু সেই তুলনায় কী পায় মেয়েরা? দেশে দুর্দান্ত খেলার পরও তাদের লোকাল বাসে তুলে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ দেশকে এমন সম্মান এনে দেওয়ার পরও তারা কি একটা আলাদা গাড়িতে বাড়ি ফেরার সুবিধাটুকু পেতে পারে না ?'' এটা ২০১৬ সালের ঘটনা৷ ঢাকায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ-১৬ মহিলা ফুটবল বাছাই পর্বে ইরান-জর্ডানের মতো দলকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ৷ সুবাদে এশিয়া সেরা জাপান-কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে মূল পর্বে খেলার সুযোগ পায়৷ সেখানে পৌঁছাতে পারেনি মহিলা ফুটবল ঐতিহ্যের দেশ ভারতও৷ বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেই অনূর্ধ-১৬ বছর বয়সি মেয়েদের ময়মনসিংহের বাসে তুলে দিয়েছিল বাড়ি ফিরতে৷ কোনো অভিভাবক ছাড়া! বাসে তারা কয়েকজন যাত্রীর টিকা-টিপ্পনির শিকার হয়৷ ফুটবল খেলার জন্য তাদের শুনতে হয় বাজে কথা৷ এর প্রতিবাদে সংবাদমাধ্যমে নিন্দা-মন্দ হয়েছিল৷ সমালোচনা হয়েছিল অবিবেচক বাফুফের কর্মকাণ্ডের৷ তখন একটা প্রশ্ন উঠেছিল, নিজেদের মেয়ে হলে বাফুফে কর্তারা কি এভাবে বাসে করে একা ছেড়ে দিতেন তাদের? এর উত্তর সবার জানা৷ আসলে ওই দারিদ্র্যের সুযোগ বাফুফেও৷ লোকাল বাসে করে পাঠালে তাদের মা-বাবার প্রশ্ন তোলার মতো শক্তিই যে নেই! অথচ এই মেয়েরা প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশের, তাদের সম্মানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের ফুটবল৷ দুর্ভাগ্য হলো, বাফুফের কাছে এই সম্মান গৌণ৷

মেয়েরা মাঠে খেলেন দেশের গৌরবের জন্য, সেই পর্যন্তই তাঁদের দাম ফেডারেশনের কাছে৷ বাকি সময় তাঁরা অচ্ছ্যুত্‍৷ অথচ তাঁদের সাফল্যকে পুঁজি করে ফেডারেশন কর্তারা ফিফার চেয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন, কিন্তু এই সফল মেয়েদের জন্য তাঁদের দরদ খুব অল্প৷ কর্তারা নেবেন বেশি, দেবেন স্বল্প৷ সমান-সমান চাইতে গেলেই বিপদ৷ চাওয়ার কথা কেউ যেন মুখ ফুটে বলতে না পারে, সেজন্য নারী ফুটবলের ক্যাম্পটা থাকে অবগুণ্ঠিত৷ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক আস্তানার মতো বিধিনিষেধে ঘেরা, সংবাদমাধ্যমের ঢোকার অধিকার নেই সেখানে৷ খেলোয়াড়দেরও অধিকার নেই ফোনে কথা বলার৷

আসলে অধিকারের কথা বলতে গেলে সবাই নাখোশ হয়৷ সাফে সোনাজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা অন্তত তাই মনে করেন, ‘‘অধিকারের কথা বলতে গিয়েই তো আমি অনেকের চক্ষুশূল হয়েছি৷ আমাদের দেশের মেয়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করছে৷ ক্রীড়াঙ্গনে তাঁদের এগোনোর পথ আরো মসৃণ করা উচিত৷ ভালো ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকা উচিত৷ ছেলেদের মতো তাঁদেরও বিদেশে হাই পারফরম্যান্স ট্রেনিংয়ে পাঠানো যায়৷ এসব জায়গায় কিন্তু মেয়েরা পিছিয়ে আছে৷'' এরপর সামগ্রিকতার নিরিখে আশা দেখেন, ‘‘পাঁচ বছর আগের সঙ্গে তুলনা করলে কিন্তু এখনকার অবস্থা ভালো৷ সময় হয়ত মেয়েদের অবস্থান আরো উন্নত করবে ক্রীড়াঙ্গনে৷'' কিন্তু সময় যে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে৷ এখনো মেয়ে কুস্তিগীরদের প্র্যাকটিসের জন্য আলাদা কোনো জায়গা হয়নি৷ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে জিমনেশিয়াম বলতে কোনো বস্তু নেই, এটা মনে পড়লেই ভাবি, কত আলোকবর্ষ পেছনে পড়ে আছে বাংলাদেশ! তাই নিত্যদিনের কুস্তি ট্রেনিং শিরিন সুলতানাকে বিব্রত করে, ‘‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরনো ভবনের নীচতলায় আমাদের ট্রেনিং হয়৷ আর চারদিকে উত্‍সুক জনতা দাঁড়িয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসে৷ এই দৃশ্য দেখে নিজেকে চিড়িয়াখানার জীব মনে হয়৷'' ২০০৯ থেকে এখনো পর্যন্ত শিরিন জাতীয় কুস্তির চ্যাম্পিয়ন, সাফে আছে রূপা৷ শুরুতে তাঁর কুস্তিগীর হওয়াটা আত্মীয়-পরিজনের খুব ভালো লাগেনি, ‘‘শুরুতে অনেকের পছন্দ হয়নি৷ তাতে আমার কিছু যায় আসে না৷ আমি তো বেশ আছি৷ এটা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা৷''

এই দেশের ক্রীড়াঙ্গন আসলে বৈচিত্র্যে ভরা৷ মেয়েরা হাফ-প্যান্ট পরবে, এটা সহ্য হবে না একদলের৷ কেউ কুস্তিগীর কিংবা ভারোত্তোলক হবে, তাতেও কেউ সমস্যা দেখবে৷ এখানে নারীর ভালো লাগা, ভালোবাসার কোনো দাম নেই৷

Sanat Babla, Sportjournalist in Bangladesch (privat)

সনৎ বাবলা, ক্রীড়া সাংবাদিক

আবার মেয়েরা যেখানে প্র্যাকটিস করবে, সেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে না৷ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ওই নীচতলাটা গণ-প্র্যাকটিসের জায়গা৷ কুস্তির পাশাপাশি কারাতে, তায়কোয়ান্দো, জুডো, ভারোত্তোলন সবই হয়৷ এভাবে জোড়াতালি দিয়েই চলছে ক্রীড়াঙ্গন৷ এর মধ্যেও খেলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ছে৷ বঞ্চনা আছে জেনেও তাঁরা আসছেন৷ অবস্থা একটু একটু বদলাচ্ছেও, যেমন বিদেশগামী দলে একজন করে মহিলা কর্মকর্তা রাখার নির্দেশনা জারি হয়েছে৷ এ জন্য তো ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোরও চরিত্র বদলের প্রয়োজন আছে৷ নির্বাহী কমিটিতে মহিলা সংগঠকের উপস্থিতি ধরলে ৫ শতাংশের বেশি হবে না৷ ইতিবাচক পরিবর্তন চাইলে সেটা আরো বাড়াতে হবে৷ দায়িত্ব দিতে হবে দক্ষ মহিলা সংগঠকদেরও৷ তাঁরা অন্তত নারীকে ‘আনাড়ি' ভাববেন না৷ বুঝবেন তাঁদের সামর্থ্য ও চাহিদা৷ সেটা বুঝতে গিয়ে যেন আবার এক চোখা হয়ে না পড়েন৷ বিচার হোকপ্রতিভা দিয়ে, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে৷ নারী-পুরুষে ভেদাভেদ করে নয়৷ এটাই হতে পারে ক্রীড়াঙ্গনে নারীর বঞ্চনা অবসানের একটা উপায়৷

লেখাটি সম্পর্কে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন