নাগরিকপঞ্জিতে খুশি নয় প্রথম মামলাকারী সংস্থাও | বিশ্ব | DW | 19.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

নাগরিকপঞ্জিতে খুশি নয় প্রথম মামলাকারী সংস্থাও

বৈধ নাগরিকের নাম নেই, আর্থিক দুর্নীতি, সফ্‌টঅ্যয়ারে কারচুপি, ভুয়ো সংশাপত্রের রমরমা এবং সর্বোপরি স্বেচ্ছাচারিতা ও নাগরিকদের তোয়াক্কা না করার অভিযোগ রাজ্যের এনআরসি সমন্বয়কের বিরুদ্ধে৷

আসাম নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলল এনআরসি-‌র দাবিতে মামলাকারী প্রথম সংস্থা আসাম পাবলিক ওয়ার্কস (‌‌এপিডব্লু)‌‌৷ চূড়ান্ত তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আবার আদালতের এসেছে তারা৷ একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত রাজ্যের এনআরসি সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতকে বিভ্রান্ত করার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে ওই সংস্থাটি৷ এক দশক ধরে এনআরসি-‌র পক্ষে সওয়াল করা সংস্থাটির অভিযোগ, ‘‌‘‌নাগরিকপঞ্জিতে হিন্দু-‌রাজনীতি করছে বিজেপি৷ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অসমের বাসিন্দারা৷''‌‌

এপিডব্লু-‌র কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য, ‘‌‘‌দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ৫৫ হাজার কর্মীকে কাজে লাগিয়ে ভুলে ভরা নাগরিকপঞ্জি তৈরি করে আসামবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে৷ এর বদলে আসামের কোচ, রাভা, গগৈ, রাজবংশী, কালিতা, বোড়ো, তিওয়া, মিশিং, কারবি এবং দেউরি-‌সহ আরও রয়েকটি পদবিকে যাচাই না করে তালিকায় রেখে ভারত-‌বাংলাদেশের মধ্যে একইরকম পদবীধারীদের নথি যাচাই করলে সহজেই সমস্যা মিটতে পারত৷

কিন্তু, বিজেপি হিন্দু-‌রাজনীতি করতেই ব্যস্ত হয়ে রয়েছে৷'‌‌'‌আসাম পাবলিক ওয়ার্কসের সভাপতি অভিজিৎ শর্মা বলেছেন, ‘‌‘নাগরিকপঞ্জির চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে ৩১ আগষ্ট৷ ওই তালিকা ভুলে ভরা৷ আসামের অনেক বৈধ নাগরিক বাদ পড়েছেন চুড়ান্ত তালিকা থেকে৷ আবার অনেক জেহাদির ঠাঁই হয়েছে৷ এই তালিকা আমরা মেনে নিতে পারছি না৷ আসামবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে৷ আগাগোড়া ‌সুপ্রিমকোর্টকে বিভ্রান্ত করছেন এনআরসির সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা৷ তাঁর কোনও ব্যক্তি স্বার্থ থাকতে পারে৷''‌

প্রতীক হাজেলার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নাগরিকপঞ্জিতে একগুচ্ছ গরমিলের ‘‌প্রমাণ'‌-‌ নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে নতুন করে আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি৷ এপিডব্লুর সভাপতি  এনআরসি-‌তে বিপুল অর্থ তছরুপেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন৷

সংস্থাটি‌র সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি তালুকদার দাবি করছেন, নাগরিকপঞ্জি তৈরিতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ  এক হাজার ৬০০ কোটি কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার তদন্ত করা হোক৷ যে সফটঅয়্যারে নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছে তার দিকেও আঙুল তুলছেন তাঁরা৷ তিনি বলছেন, ‘‌বিশ্বখ্যাত কোনও তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থা দিয়ে নিরীক্ষণ হোক৷ শুধু তাই নয়, সুপ্রিমকোর্টের ঠিক করে দেওয়া প্যানেলে রাজ্যের এনআরসি সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা ও সুপ্রিম কোর্টের মাঝে আর কেউ নেই৷ এর সুযোগ নিয়ে যা খুশি তাই করছেন হাজেলা৷ অসমের প্রতিনিধি রাখা উচিত৷

নতুন করে ১০ জনের নামের তালিকা পেশ করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে৷ যার মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত নির্বাচন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হরিশঙ্কর ব্রহ্ম, গুয়াহাটি হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিপ্লব শর্মা, অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি কনকসেন ডেকা এবং জিএম শ্রীবাস্তব,ইলিয়াস আলি, প্রদীপকুমার ভুঁইয়া, উপমন্যু হাজারিকার মতো -‌সহ বেশ কয়েকজন প্রাক্তন আমলা৷ বলা হচ্ছে, নাএনআরসি-‌তে গ্রহনযোগ্য নথি হিসেবে রেশনকার্ড, প্যানকার্ড, এলআইসি-‌র নথি, জন্মের শংশাপত্র ইত্যাদির বেশিরভাগই ভুয়ো নথি হওয়া সম্ভব৷ কিন্তু, সেগুলি মেনে নিচ্ছে সরকার৷

এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এনআরসি বিষয়ক একগুচ্ছ মারাত্মক অভিযোগে কতটা গুরুত্ব দেন, সেই দিকে নজর সবার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন