নাগরিকত্ব নির্ধারণই এখন মূল কাজ | বিশ্ব | DW | 31.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

নাগরিকত্ব নির্ধারণই এখন মূল কাজ

ইউরোপের ২৭টি দেশে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে স্ট্যান্ডার্ড অফ প্রসিডিওর (এসওপি) চূড়ান্ত হয়েছে৷ এখন তালিকা অনুযায়ী এঁরা যে বাংলাদেশের নাগরিক, সেটা নিশ্চিত হওয়াই মূল কাজ৷ ডয়চে ভেলেকে জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷

অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দু'দিনের বৈঠক ছিল মঙ্গল ও বুধবার৷ তবে প্রথম দিনের বৈঠকের শেষ পর্যায়েই এসওপি চূড়ান্ত হয়ে যায়৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ (পশ্চিম) অনুবিভাগের মহাপরিচালক খোরশেদ খাস্তগীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এসওপি চূড়ান্ত করেছি৷ তবে এর কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নাই৷ এখন একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবো, যার আওতায় আমাদের প্রথম কাজ হবে তালিকা অনুয়ায়ী ন্যাশনালিটি নিশ্চিত হওয়া৷ তারপরই ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সামনে আসবে৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৪৩৫ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে৷ চলতি বছর আটক হয়েছেন আট হাজার৷ তাঁরা বলছেন,  ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশে এক লাখ অবৈধ বাংলাদেশি আছেন৷ এর আগে এঁদের ফেরত না নিলে বাংলাদেশিদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলেছিল ইইউ৷ সবাংলাদেশও তাঁদের ফেরত আনতে সম্মত হয়৷ তবে কী প্রক্রিয়ায় তাঁদের ফেরত আনা হবে, সেটাই নির্ধারিত হয়েছে ঢাকার এই বৈঠকে৷

অডিও শুনুন 01:57
এখন লাইভ
01:57 মিনিট

‘দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিচেনা করে কাজ করছি আমরা’

খোরশেদ খাস্তগীর বলেন, ‘‘জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আগে থেকেই আমাদের নাগরিকরা আছেন৷ সেটা নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না৷ মূলত লিবিয়া থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ইটালিতে বেশ কিছু বাংলাদেশি অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে৷ সে কারণেই চাপ সৃষ্টি হয়েছে৷ নয়ত এত বেশি চাপ সৃষ্টি হতো না৷''

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘ইইউ-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সালে ৮ হাজার ২০০ জন এবং ২০১৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি ইটালিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন৷'

অন্যদিকে ২০১৬ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং এর মধ্যে ১১ হাজার ৮০০ জনের আবেদন খারিজ করা হয়েছে৷ বাকি ছয় হাজার আবেদনের অধিকাংশ খারিজ হবার সম্ভাবনা আছে৷ খারিজ হওয়া এই আবেদনকারীদের ইউরোপে অবস্থান করার কোনো অধিকার নেই এবং তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের প্রেক্ষিতে এঁদের সবাইকে ফেরত নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে৷

নাগরিকত্ব বা ন্যাশনালিটি নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান খোরশেদ খাস্তগীর৷ এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও নেয়া হবে৷ প্রক্রিয়াটি কেমন হবে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘দেশের অভ্যন্তরে একাধিক মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে৷ নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করার জন্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেস, ইমিগ্রেশন অফিস, পাসপোর্ট অফিসের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে এই এসওপিতে৷''

খোরশেদ খাস্তগীরের কথায়, ‘‘আমরা আমাদের দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিচেনায় রেখে কাজ করছি৷ এটা করতে গিয়ে আমাদের অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে৷ আমরা প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে চেক করে দেখবো৷''

ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো সময়সীমা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি৷ তাই সবকিছু এখনই বলতে পারছি না৷''

২০১৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য ২৭টি দেশে প্রায় দু'লাখ বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন যাঁদের সেখানে থাকার এবং কাজ করার অনুমতি আছে৷ ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যে৷

২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে বৈধভাবে কাজের জন্য ‘ওয়ার্ক পারমিট' বা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য ‘রেসিডেন্সি পারমিট' পেয়েছেন৷

ঢাকায় স্ট্যান্ডার্ড অফ প্রসিডিওর নিয়ে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) কামরুল আহসান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের ডেপুটি ম্যানাজিং ডিরেক্টর পলা পামপোলানি৷

বন্ধু, প্রতিবেদনটি নিয়ে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন