নাইন-ইলেভেন: পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান গবেষণায় | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 12.09.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

নাইন-ইলেভেন: পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান গবেষণায়

নাইন-ইলেভেন৷ এই একটি ঘটনা পাল্টে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের অনেক কিছু৷ পরিবর্তন এনেছে অ্যামেরিকার বিজ্ঞান গবেষণায়ও৷

নাইন ইলেভেন ফরেনসিক মেডিসিনে পরিবর্তন এনেছে

নাইন ইলেভেন ফরেনসিক মেডিসিনে পরিবর্তন এনেছে

ইতিবাচক পরিবর্তন

ফরেনসিক মেডিসিন৷ হত্যা মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ৷ তবে ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার পর নিহতদের চিহ্নিত করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই শাখার বেশ ব্যবহার হয়েছে৷ কেননা হামলাস্থল ‘গ্রাউন্ড জিরো' থেকে ঊদ্ধার করা হয়েছিল অনেক হাড়গোড়৷ সেগুলো থেকে মানুষের পরিচয় খুঁজতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের৷ দিনরাত পরিশ্রম করে তারা সেকাজ করেছেন৷ এর ফলে যেটা হয়েছে সেটা হলো, মাটি লেগে থাকা চূর্ণবিচূর্ণ হাড় থেকে কীভাবে মানুষের পরিচয় জানা সম্ভব সে বিষয়টি আরও ভালভালে রপ্ত করতে পেরেছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা৷ এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে কাজে লেগেছে অন্যান্য দেশেও, যেখানে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ যেমন আফ্রিকা, এশিয়া, বসনিয়া, ইরাক ইত্যাদি৷ এছাড়া অনেক দেশ এখন এসব ক্ষেত্রে মার্কিন বিজ্ঞানীদের সহায়তা নিচ্ছে৷

শুধু ফরেনসিক মেডিসিনেই নয়, নাইন-ইলেভেন পরিবর্তন এনেছে আরও অনেক ক্ষেত্রেই৷ যেমন বায়োডিফেন্স, সংক্রামক ব্যাধি, জনস্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা, ভূতত্ত্ব, জ্বালানি ও পরমাণু অস্ত্র ইত্যাদি৷ এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু হয়েছে ‘টেররিজম স্টাডিজ', ‘রিস্ক অ্যানালিসিস' ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশোনাও৷

Superteaser NO FLASH USA Terror New York Anschläge World Trade Center 9/11 2001

এই একটি ঘটনা পাল্টে দিয়েছে বিশ্বের অনেক কিছু

অ্যামেরিকার প্রখ্যাত বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছে৷ যেমন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্ফোরক দ্রব্য কীভাবে আরও ভালভাবে চিহ্নিত করা যায় সে বিষয়ে গবেষণা করতে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে৷ এছাড়া ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন', ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ', জ্বালানি মন্ত্রণালয় - এসব সংস্থাও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণায় বাড়তি অর্থ দিচ্ছে৷

এদিকে নাইন-ইলেভেনের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে ‘ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি' নামের পুরো একটি মন্ত্রণালয়৷ মোট ২২টি কেন্দ্রীয় সংস্থা একসঙ্গে মিলিয়ে ২০০২ সালে এটি গঠন করা হয়, যার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দেখা৷

এরপর থেকে প্রতিবছর বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণায় তাদের অর্থ বরাদ্দ বাড়তে থাকে৷ ২০০৬ সালে সেটা দাঁড়ায় ১৩০ কোটি ডলারে৷ যদিও আর্থিক মন্দার কারণে এ বছর সেটা কমে হয়েছে ৭০ কোটি ডলার৷

কিছু সমস্যা

সব পরিবর্তনই যে ইতিবাচক হয়েছে তা নয়৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই এর ব্যতিক্রম হয়েছে৷ যেমন বায়োমেডিক্যাল৷ এক্ষেত্রে গবেষণায় আনা হয়েছে নতুন কিছু কঠোর নীতি৷ এছাড়া আগের আইনগুলোও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কড়াভাবে৷ ফলে নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে বিজ্ঞানীদের গবেষণা৷ কেননা আগের মতো আর সহজভাবে বায়োলজিক্যাল উপাদান আমদানি বা রপ্তানি করা যাচ্ছে না৷ যেমন প্যাথোজেন জীবাণু৷ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের গবেষণায় এটা প্রয়োজন৷ কিন্তু সন্ত্রাসীরা এই জীবাণু কাজে লাগিয়ে মারণাস্ত্র তৈরি করতে পারে এই ভয়ে, তাদের হাতে যেন প্যাথোজেন যেতে না পারে সেজন্য এর আমদানি-রপ্তানি করা হয়েছে সীমাবদ্ধ৷ এসব কারণে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিখাতের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় ধীরগতি দেখা যাচ্ছে৷

সংক্রামক ব্যাধি গবেষক জেরি জাক্স৷ ক্যানশাস স্টেট ইউনিভার্সিটির এই বিশেষজ্ঞ বলছেন, কড়া নীতির কারণে বায়োমেডিক্যাল ক্ষেত্রের নানা গবেষণা বাতিল হয়ে গেছে৷

আরেকটা বড় সমস্যা হয়েছে, সেটা ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে৷ ফলে বিদেশ থেকে মেধাবীরা যুক্তরাষ্ট্রে সহজে যেতে পারছেন না৷ ফলে দেশটি হারাচ্ছে ভাল গবেষক, আর গবেষক হারাচ্ছেন গবেষণার ভাল সুবিধা৷ এতে আদতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো মানবজাতি৷

‘অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স' এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলবার্ট টিখ বলেন কঠিন ভিসা প্রদান নীতির কারণে ২০০৩ সালে বিদেশি গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া উদ্বেগজনক হারে কমে গিয়েছিল৷ পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা সরকারের কাছে এ ব্যাপারে আপত্তি জানালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়৷

টিখ বলেন নাইন-ইলেভেনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান গবেষণায় অনেকভাবেই পরিবর্তন এনেছে৷ তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ' আগে ছিল একটি উন্মুক্ত ক্যাম্পাস৷ এখন তার চারপাশে বসানো হয়েছে ইস্পাতের বেষ্টনী, যেটাকে টিখ মনে করছেন নাইন-ইলেভেন হামলার প্রত্যক্ষ পরিবর্তন হিসেবে৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক