নাইজেরিয়ায় বেআইনি শোধনাগারে বিস্ফোরণ, মৃত ১১০
২৫ এপ্রিল ২০২২
উত্তরপূর্ব নাইজেরিয়ায় বেআইনি তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণে ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার গভীর রাতে এই বিস্ফোরণ হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রিভার্স ও ইমোর মাঝামাঝি জায়গায় এই বেআইনি শোধনাগারটি ছিল।
ওই অঞ্চলে ন্যাশনাল এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট কমিটি(এনইএমএ)-র প্রধান সংবাদসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, প্রথমে ৮০ জন মানুষের মৃত্যুর খবর এসেছিল। পরে গুরুতর আহত অনেকে মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রচুর মানুষ এখনো হাসপাতালে ভর্তি। তাদের শরীরের অনেকটাই পুড়ে গেছে।
মৃতদের মধ্যে যাদের শরীর ভয়ংকরভাবে পুড়ে গেছে, তাদের চেনার কোনো উপায় নেই। তাদের গণকবর দেয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কেন এই বিস্ফোরণ?
বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে অশোধিত তেল পরিশোধনের সময় তা হতে পারে। কারণ, তখন আগুন ব্যবহার করা হয়।
নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল অয়েল স্পিল ডিটেকশন ও রেসপন্স এজেন্সির ডিরেক্টর জেনারেল ইদ্রিস মুসা জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই ঘটনা হলো জতীয় বিপর্যয়। যারা ওই বেআইনি শোধনাগার চালাচ্ছিলেন, তাদের ধরা হবে ও বিচার হবে।
বেআইনি তেল শোধনাগার
নাইজেরিয়ায় প্রতিদিন দুই লাখ ব্যারেল অশোধিত তেল চোরাপথে এই সব বেআইনি শোধনাগারে চলে আসে বলে অভিযোগ। তেল সংস্থার পাইপলাইন থেকে এই অশোধিত তেল চুরি করা হয়। তারপর তা নিয়ে যাওয়া হয় বেআইনি শোধনাগারে। গরিব মানুষেরা এর সঙ্গে যুক্ত।
বেআইনি শোধনাগারগুলি বিভিন্ন খাঁড়ি, জলা জায়গার ধারে গজিয়ে উঠেছে এবং তাতে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা হয়। তাছাড়া এই শোধনাগার সমানে পরিবেশ দূষণ করে যাচ্ছে। এখান থেকে তেল লিকও হয়।
নাইজেরিয়ায় পাইপলাইনে আগুন খুবই সাধারণ ঘটনা। একে তো পাইপলাইনগুলির উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ হয় না, তার উপর সেখান থেকে তেল চুরি হয়। ফলে পরিস্থিতি খুবই খারাপ।
১৯৯৮ সালে পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ফলে এক হাজারের বেশি গ্রামবাসী মারা গেছিলেন। সরকার সবসময়ই দায়টা চোরদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। আর স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, পাইপলাইনের দেখভাল করা হয় না।
নাইজেরিয়ায় প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল অশোধিত তেল উত্তোলন হয়।
জিএইচ/এসজি (এএফপি, ডিপিএ)