নরওয়েতে সেতুর উপর মিউজিয়াম! | অন্বেষণ | DW | 07.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

নরওয়েতে সেতুর উপর মিউজিয়াম!

নদীর উপর সেতু৷ শুধু সেতু নয় – প্রদর্শনীস্থল, মিউজিয়ামের অংশ এবং এক ভাস্কর্যও বটে৷ আকার-আয়তন দেখলে অবাস্তব মনে হবে৷ নরওয়ের এক স্থাপত্য এমনই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে৷

এই মুহূর্তে স্থাপত্য জগতে চর্চার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ‘দ্য টুইস্ট’৷ নরওয়ের ইয়েভনাকার শহরে টুইস্ট গ্যালারিতে একটি প্রদর্শনীস্থলের পাশাপাশি কিস্টেফস মিউজিয়ামের একটি শাখাও রয়েছে৷ তারকা স্থপতি বিয়ার্কে ইঙ্গেলস ভবনটিকে কার্যত অসম্ভবভাবে ৯০ ডিগ্রি হেলিয়ে ডিজাইন করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভেবেছিলাম, শিল্পের মিউজিয়ামটির মধ্য দিয়ে নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া সম্ভব হলে দারুণ হবে৷ নদী পার হওয়ার সময়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়, নদীর উপর দিয়ে দেখা যায়৷ আমরা জগতকে, মানুষের জীবনে, ভবিষ্যতের জন্য এমন কিছু দেবার সুযোগ পাই, যা এখনো তাদের নেই৷ আমার মতে এটাই স্থাপত্যের মূল শক্তি৷’’

ভিডিও দেখুন 04:14

সেতুতে এতকিছু!

ডেনমার্কের এই দক্ষ শিল্পী ঘরে-বাইরে তাঁর স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলেছেন৷ এই কাঠামোর মধ্য দিয়ে যাবার সময় প্রাচীর ধীরে ধীরে মেঝে ও সিলিং হয়ে ওঠে৷ এর বিপরীতটাও ঘটে৷

জনসাধারণের জন্য খুলে দেবার আগেই তাঁর সৃষ্টিকর্ম সাড়া ফেলে দিয়েছিল৷ সবাই এর উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিলেন৷ ডেনমার্কের যুবরাজ ও নরওয়ের রানি সোনিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷

রান্ডসেলভা নদীর উপর ৬০ মিটার দীর্ঘ এই ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে৷ সেটি একাধারে সেতু ও ভাস্কর্য৷ সেইসঙ্গে কিস্টেফস মিউজিয়ামের দুটি অংশের মধ্যেও সংযোগ ঘটাচ্ছে৷ ১৯৯৯ সালে এই ভাস্কর্যকে ঘিরে পার্ক খোলা হয়েছিল৷ আগে সেখানে একটি মিল বা কারখানা ছিল৷ আশেপাশের জঙ্গল থেকে গাছ কেটে চারিদিকে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হতো৷ এখন সেখানে টোনি ক্র্যাগ ও অনীশ কাপুরের মতো শিল্পীদের মাস্টারপিস শোভা পাচ্ছে৷ খ্যাতিমান মানুষদের তালিকায় এখন বিয়ার্কে ইঙ্গেলস-এর নামও যোগ হয়েছে৷ তাঁর মতে, ‘‘কোনো ভবন তৈরি করার সময় সেই পরিসরের মধ্যে নিজের স্বপ্নের জগতের কাছাকাছি কিছু সৃষ্টি করার সুযোগ থাকে৷’’

বিয়ার্কে এঙ্গেলস-এর ডিজাইন অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছে৷ যেমন নিউ ইয়র্ক শহরে এক আকাশচুম্বী অট্টালিকা৷ তিনি কার্যকরী ও টেকসই নক্সার পাশাপাশি উদ্ভাবনী ও কৌতুকের ছোঁয়াও রাখতে চেয়েছিলেন৷ ডেনমার্কের লেগো মিউজামেও এই ভাবনার ছাপ পাওয়া যায়৷

এঙ্গেলস-এর কোম্পানি বিয়ার্কে ইঙ্গেলস গ্রুপ বা ‘বিগ’-এ ৫০০ কর্মী সক্রিয় রয়েছেন৷ বর্তমানে এই কোম্পানি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় টাওয়ারের পরিকল্পনা করছে৷ ইঙ্গেলস বলেন, ‘‘বলতে পারেন স্থপতির অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকে না, কারণ স্থপতিরা তো আর চেক লেখেন না! রাজনৈতিক ক্ষমতাও থাকে না, কারণ আমরা তো নিয়মকানুন তৈরি করি না! কিন্তু আমাদের আইডিয়ার ক্ষমতা রয়েছে৷ যখনই আমরা ভবিষ্যতের জন্য কিছু ডিজাইন করি, তখনই আমরা ভবিষ্যতের জন্য কোনো উপহার দেবার সুযোগ পাই৷’’

ভবিষ্যতে টুইস্ট গ্যালারিতে সাময়িক প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে৷ প্রয়াত ব্রিটিশ কনসেপ্চুয়াল আর্টিস্ট হাওয়ার্ড হজকিন-কে উৎসর্গ করে প্রথম প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হচ্ছে৷ শৈল্পিক ডিজাইন ও তার অন্তর্নিহিত শিল্পকর্মের মধ্যে চলমান সংলাপের জন্য আদর্শ এই উদ্যোগ৷ বিয়ার্কে ইঙ্গেলস বলেন, ‘‘স্থপতি হিসেবে ভবন তৈরি করে উদ্বোধনের দিনে তার চাবি মিউজিয়ামের প্রধানের হাতে তুলে দিতে হয়, এ ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে৷ তারপর আপনি অতিথি হয়ে ওঠেন, তাই তো? তবে আমার মতে, কোনো প্রকল্প শেষ হলে তার প্রকৃত জীবন শুরু হয়৷’’

প্রদর্শনীস্থল, সেতু ও ভাস্কর্য হিসেবে র জীবন সবে শুরু হয়েছে৷ এখনই সেটি অসাধারণ সব কাহিনি শোনাতে শুরু করেছে৷

ও কে ওসমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন