নব্যনাৎসি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত কমিটির সম্ভাবনা | বিশ্ব | DW | 12.01.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

নব্যনাৎসি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত কমিটির সম্ভাবনা

জার্মানির সুইকাও’এর যে তিন নব্যনাৎসি ২০০০ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ন’জন বিদেশি-বহিরাগতকে হত্যা করে, গোয়েন্দা বিভাগ তাদের ঠিকমতো চোখে রাখেনি কেন অথবা কি কারণে, তা নিয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গড়া হতে পারে৷

default

সুইকাও’এর তিন নব্য নাৎসি

ন'জন তুর্কি ও গ্রিক দোকানদার ছাড়া এক ২২ বছর বয়সি মহিলা পুলিশ অফিসারকে হত্যা করেছিল এই স্বঘোষিত ‘ন্যাশনাল সোসালিস্ট আন্ডারগ্রাউন্ড' বা নাৎসি গুপ্তপ্রতিরোধ গ্রুপ৷ দু'টি বোমা হামলা এবং দেশ জুড়ে ১৪টি ব্যাংক ডাকাতির জন্যও তারা দায়ী বলে প্রকাশ৷ বলতে কি, একটি বিস্ফোরণের পর তিনজনের এই খুনির দলটির দু'জনকে মৃত অবস্থায় খুঁজে না পাওয়া গেলে, এবং আরো বড় কথা, দলের একমাত্র মহিলা সদস্য নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ না করলে, তাদের কার্যকলাপ যে আরো কতোদিন ধরে চলত, তা বলা শক্ত৷

অথচ মেকলেনবুর্গ, থুরিংগিয়া কি স্যাক্সনি, জার্মানির সব রাজ্যেই গোয়েন্দা বিভাগ আছে৷ চরম দক্ষিণপন্থিদের উপর নজর রাখাটা তাদের কাজ৷ নব্যনাৎসি দল ও সংগঠনগুলিতে তারা চর ঢুকিয়ে থাকে৷ অন্যান্য ফেডারেল প্রতিষ্ঠান থেকেও তাদের কাছে অপরাধী এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের গতিবিধি সম্পর্কে খবরাখবর আসে৷ বিগত দশ বছরে সুইকাও'এর খুনি দলটিরও তারা একাধিকবার হদিশ পেয়েছে৷ অথচ শেষমেষ কিছুই করা হয়নি৷ এটা কি করে সম্ভব?

তবে কি সত্যিই জার্মান আইন কিংবা গোয়েন্দা বিভাগ ‘ডান চোখে অন্ধ', অর্থাৎ দক্ষিণপন্থি সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে চোখ বুজে থেকেছে? বিভিন্ন জার্মান পত্রপত্রিকায় সেই অভিযোগই ধ্বনিত হয়েছে৷ রাজ্য বিধানসভা এবং সংসদ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গড়ে বস্তুত সেই অভিযোগের সত্যতাই তলিয়ে দেখা হবে৷ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত পাকা হতে পারে৷

কিন্তু এটা হল সুইকাও'এর নব্যনাৎসিদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তরফে কি ভুলভ্রান্তি হয়েছে বা হয়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে তদন্ত৷ আরো বড় প্রশ্ন হল, চরম দক্ষিণপন্থিদের তরফ থেকে এ'ধরণের সন্ত্রাস রোখার কি পন্থা৷ সেক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার ও রাজ্যগুলি মিলে একটি প্রতিরোধ কেন্দ্র সৃষ্টি করতে চলেছেন, যা আজ শুক্রবার কাজ শুরু করবে৷

উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কেন্দ্র কিন্তু অনেকদিন ধরেই আছে৷ জার্মান আইন অনুযায়ী পুলিশ এবং গোয়েন্দা কি গুপ্তচর বিভাগ পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে বা তথ্যের আদানপ্রদান করতে পারে না৷ প্রতিরোধ কেন্দ্রের মাধ্যমে ইসলামি সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে সে প্রতিবন্ধক তুলে নেওয়া হয়েছে৷ এবার নব্যনাৎসিদের উপর নজরদারিতেও যাবতীয় তথ্য একত্রিত করা সম্ভব হবে৷

Thema Zwickauer Terrorzelle rechtsextremistischer Terror in Deutschland

সুইকাও’এর নব্য নাৎসিদের ভিডিও

জার্মানিতে ইসলামি সন্ত্রাস রোখার জন্য আছে একটি সন্ত্রাস বিরোধী তথ্যভাণ্ডার, এবং একটি প্রতিরোধ কেন্দ্র৷ দক্ষিণপন্থি সন্ত্রাস রোখার জন্যও ঠিক ঐ দুটি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ ফেডারাল অপরাধ দপ্তরের প্রধান ইয়র্গ সিয়ের্কে'র ভাষ্যে:

‘‘আমরা বিভিন্ন বিভাগ থেকে তদন্তের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে চাই৷ জার্মানিতে দক্ষিণপন্থি সন্ত্রাসবাদের সন্দেহ থাকলে মামলা দায়ের করতে চাই৷ এক ধরণের স্পেশাল স্কোয়াড, যাদের সাথে সাথে কাজে লাগানো যেতে পারবে৷''

গুপ্তচর বিভাগ সংক্রান্ত ফেডারাল দপ্তরের হাইঞ্জ ফ্রোম বলেন:

‘‘রাজ্যরাই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা আমাদের কোন ধরণের তথ্য পাঠাতে চায়৷ এমন ধরণের তথ্য, যা আমাদের কাজে লাগবে বলে তাদের বিশ্বাস৷ আইনে সেরকমই রয়েছে৷''

সবুজ দলের সংসদীয় গোষ্ঠীর সভাপতি রেনাটে ক্যুনাস্ট অবশ্য শুধুমাত্র ‘কেন্দ্রীকরণে' বিশ্বাসী নন৷ তিনি বলেন:

‘‘শুধুমাত্র কেন্দ্র সৃষ্টি, কেন্দ্রীকরণের অর্থ হবে কোনোমতে হাত দিয়ে চোখ ঢেকে সমস্যাটাকে না দেখা, বিদায় করা৷ সেক্ষেত্রে আমি বলব, প্রতিটি বিভাগে খোঁজখবর হওয়া চাই, ঠিক কি ঘটেছে অথবা না ঘটেছে, তার তদন্ত হওয়া চাই৷''

ক্যুনাস্ট বলছিলেন সুইকাও'এর নব্য নাৎসি, ও পর্যায়ক্রমে হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও তারা এতোদিন পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তরের নজর এড়িয়ে থাকতে পারল কি করে, তার কথা৷ জার্মানিতে দক্ষিণপন্থি প্রবণতা এবং সেই সংক্রান্ত সমস্যাবলি অনেকদিনের৷ কিন্তু সেই প্রবণতার প্রতি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ের ব্যাপারটা এযাবৎ অভাবনীয় ছিল৷ কাজেই বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বৈকি৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী
সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন