নবজাতকের মৃত্যু কমলেই বলা যাবে শিশুমৃত্যু কমেছে | আলাপ | DW | 12.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

নবজাতকের মৃত্যু কমলেই বলা যাবে শিশুমৃত্যু কমেছে

বাংলাদেশে শিশুমৃত্যু কমেছে৷ নবজাতকের মৃত্যুর হারও কমেছে৷ তবে এখনো অনেক পথ বাকি৷ ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি হাজার নবজাতকের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১২ জনে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে৷

একজন মা গর্ভধারণকালে প্রায় ১০ মাস যে শিশুর যত্ন করেন পরম মমতায়, সেই শিশুর জীবন জন্মানোর পরপরই হুমকির মুখে পড়ে৷ নতুন পৃথিবী, নতুন আবহাওয়ায় নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পুরোটাই যখন শিশুটিকে নিজে করতে হয়, তখন টিকে থাকার লড়াইয়ে যে শিশুটি তার আশেপাশের সহায়তা পায়, সে টিকে যায় আর আশেপাশের মানুষজনের সামান্য অসতর্কতায় লড়াইয়ে হেরে যেতে হয় নবজাতককে৷

বিশেষজ্ঞরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, নবজাতকের শরীর মুছিয়ে দেওয়া, দেরিতে গোসল করানো, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, স্বল্প ওজন ও অপরিণত জন্ম হলে ক্যাঙারু মাদার কেয়ার (মায়ের দুই স্তনের মাঝখানে ত্বকের সঙ্গে রাখা), নাভিতে সংক্রমণ এড়ানো, শ্বাসজনিত সমস্যায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে রক্ষা পেতে পারে শিশুটি৷

তিন দশকের কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে নবজাতক মৃত্যুর হার কমেছে৷ ব্যাপক প্রচারণা আর সতর্কতার মধ্য দিয়েই তা সম্ভব হয়েছে৷ একসময় এসব নিয়ে আলাপই হতো না, অথচ এখন মানুষ বিষয়গুলো জানেন কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারণা চালানোর ফলেই৷ ‘কিন্তু’ আছে সেখানেও৷ এখন মানুষ জানে বলেই জানানোর কাজটি শেষ হয়ে

গেছে ভাবার সময় আসেনি৷ ভুলে গেলে চলবে না, সহস্রাব্দ উন্নয়নের চতুর্থ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নবজাতকের মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও বিশ্বের যে ১০টি দেশে সবচেয়ে বেশি নবজাতকের মৃত্যু হয়, বাংলাদেশ এখনও সেই তালিকায় আছে৷ তবে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে, তা-ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ৷ অন্য  অনেক গরিব দেশ এ সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে৷

কেমন ছিল আগে? আর এখনইবা কেমন আছে পরিস্থিতি? হিসাব বলছে, ১৯৯০ সালে এদেশে প্রতি হাজারে মারা যেতো ৬৪ দশমিক ২টি নবজাতক৷ এখন মারা যাচ্ছে ২০ দশমিক ১টি৷

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জনবহুল বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে দুই লাখ ৪১ হাজার মারা যায় প্রথম মাস পুরো হওয়ার আগেই৷ অথচ ২০১৬ সালে সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৬২ হাজারে৷

অনেক কমেছে বটে, কিন্তু ৬২ হাজার সংখ্যাটি এখনও ভীতিকর৷ এটা গেল নবজাতকের হিসেব৷ বাংলাদেশ যে অনেক পথ এগিয়েছে, সেটি কিন্তু পাঁচ বছরের নীচের শিশু মৃত্যু কমাতে পারার কারণেই বেশি৷ এত শিশুর মৃত্যুও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ সেই পাঁচ বছরের শিশুমৃত্যুর হারের পরিস্থিতি আগে কেমন ছিল, এখনইবা কেমন?

ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে মারা যেতো গড়ে ১৪৪ জন৷ সেটি কমে ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে প্রতি হাজারে গড়ে ৩৪ জন৷ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার শিশু পাঁচ বছর বয়সে মারা গেছে৷ এর ৪৬ শতাংশ মারা গেছে জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে৷ এইসব বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন নবজাতকের মৃত্যু আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে৷

ভিডিও দেখুন 00:50
এখন লাইভ
00:50 মিনিট

বিশ্বে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে

বাংলাদেশের এই সাফল্য কীভাবে এলো?

বাংলাদেশ সরকার শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার বিষয়ে যখন থেকে কাজ শুরু করেছে, তাদের প্রচারণা এবং শিশূর মৃত্যুর কারণগুলো চিহ্নিত করে কমিয়ে আনার বিষয়ে শক্ত মনিটরিং ছিল৷ শুরুতে যতটা শক্তভাবে নিয়মিতভাবে কাজটি করা হতো, তাতে দ্রুত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে এগিয়ে যায় দেশ৷ আর এই পথে মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে, নবজাতক মৃত্যুর বড় কারণ ছিল চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান প্রসব৷ অপ্রশিক্ষিত দাইয়ের মাধ্যমে বাসায় সুরক্ষিত নয় এমন পরিবেশ শিশু জন্মের কারণে প্রথম ২৮ দিনের যে সমস্যাগুলো শিশুরা ভোগ করে সেগুলো কমানো সম্ভব হচ্ছে না৷ এই পথে ২০১০ সালের পর সরকার নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়৷ এখন বাড়িতে শিশু প্রসব অর্ধেকে নেমে এসেছে৷

যে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে

২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি হাজার নবজাতকের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১২ জনে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে বাংলাদেশ৷ কীভাবে সেটি সম্ভব তা জানার আগে মৃত্যুর কারণগুলো যদি আমরা একবার দেখে নিতে পারি৷ ১২টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রায় ৪০ হাজার মৃত্যু বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বুলেটিনে৷ জেলা হাসপাতালের প্রায় ১৯ হাজার মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু নবজাতকের জন্ম-পরবর্তী শ্বাসকষ্ট (১০ শতাংশ), উপজেলা হাসপাতালে প্রায় ৩৯ হাজার মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে মৃত্যুর প্রধান কারণ অ্যাজমা (১ দশমিক ৪ শতাংশ)৷

Bangladesch Udisa Islam, Journalistin

উদিসা ইসলাম, সাংবাদিক

এখন করণীয় কী?

এখন যেটা বড় সমস্যা, সেটা হলো অনেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রাতে প্রসবের কোনো ব্যবস্থা নেই৷ এ ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে৷

এই অর্জনে এখনই করণীয় যে বিষয়গুলো, সেগুলো হচ্ছে –

১. ঘরে নয়, সেবাদানকেন্দ্রে প্রসবের হার বাড়ানো

২. একজন ভবিষ্যৎ মা-র জন্য কিশোরী বয়স থেকে পুষ্টির যথাযথ ব্যবস্থা করা

৩. গর্ভবতী অবস্থায় প্রয়োজনীয় সেবা, সুযোগ ও পুষ্টির জোগান দেওয়া

৪. প্রসবের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে থাকলে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সহযোগিতা নেয়া

৫. নবজাতককে সকল ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা

একদিন বাংলাদেশ এই সবকয়টি থেকেই তার নবজাতককে রক্ষা করতে পারবে৷ নানা প্রতিবেদন যখন বলছে, দারিদ্র্যকবলিতদেশগুলোয় শিশুমৃত্যু হার বেশি, তখন বাংলাদেশ তার এগিয়ে চলায় আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারবে, যদি করণীয়গুলো নির্ধারণে সতর্ক থাকে৷ লক্ষ্য অর্জনের আগে গত এক দশকে এগিয়ে চলা ক্যাম্পেইন সামান্য থিতু হলে অর্জিত লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়ার ভয় থাকে, সেদিকটি মনিটরিং করতে পারলে বাংলাদেশ প্রকৃত রোল মডেল হয়ে উঠবে৷ শিশুদের হাসিমুখই শেষ কথা হোক৷

আপনার পরিচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর চিত্রও কি এমনই? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন