‘নদী হত্যা মানুষ হত্যার মতোই অপরাধ′ | বিশ্ব | DW | 02.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘নদী হত্যা মানুষ হত্যার মতোই অপরাধ'

নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট৷ ফলে এখন থেকে নদী দখল, ভরাট, নদী দূষণ ফৌজাদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে৷

আইনজীবীরা বলছেন, ‘‘এখন মানুষ হত্যা করলে যে বিচার, নদী হত্যা করলেও সেই বিচার হবে৷ তার আগে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে আইন পরিবর্তন করতে হবে৷''
তুরাগ নদী নিয়ে করা একটি রিটের রায় দেয়া হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি৷ সোমবার এর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়৷ এতে স্পষ্ট হয়েছে যে শুধু তুরাগ নয় দেশের সব নদ-নদীকেই জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে৷ রায় বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৭ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে৷ হাইকোর্ট চায় রায়টি যেন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হোক৷
তুরাগ নদী নিয়ে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ'-এর করা এক রিটে এই রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও মো. আশরাফুল কামালের বেঞ্চ৷
হাইকোর্ট যে ১৭ দফা আদেশ দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো:
১. সরকারকে নদী দখল ও দূষণকারীদের একটি তালিকা করে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে৷
২. নদী দখল ও দূষণকারীদের নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে৷

৩. বাংলাদেশ ব্যাংক নোটিশ জারি করে সব ব্যংককে নদী দখল ও দূষণকারীদের ঋণ দেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে৷
৩. নদী দখল ও দূষণের জন্য দায়ীদের অর্থেই নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে৷
৪. নদী ও জলাধার সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে নদী কমিশনের ছাড়পত্র লাগবে৷
৫. নদী রক্ষায় জাতীয় নদী কমিশন সব নদীর আইনগত অভিভাবক৷

অডিও শুনুন 03:15

দখল, ভরাট বা দূষণসহ নদীর বিরুদ্ধে অপরাধ ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে: মঞ্জিল মোরশেদ

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই রায়ে নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা স্বীকৃতি দেয়ায় নদীর বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো৷ আর আদালত যে ১৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে তা ৬ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে৷''
তিনি বলেন, ‘‘দখল, ভরাট বা দূষণসহ নদীর বিরুদ্ধে যে-কোনো ধরনের অপরাধ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে৷ নদীর অস্তিত্ব বিনাশ করা নদী হত্যার শামিল অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে৷ এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করতে বলেছেন আদালত৷''

অডিও শুনুন 05:37

নদীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে দখলদার ও দূষণকারীদেরই টাকা দিতে হবে:শেখ রোকন


রিভারাইন পিপল-এর মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, ‘‘হাইকোর্টের এই রায়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নদী কমিশনকে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রনালয়, অধিদপ্তর সবাই সহায়তা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য৷ আগে এই ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিলো না৷আর এটি ছিল নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের অধীনে একটি কমিশন৷ আরো একটি বিষয় হলো, আমরা সাধারণভাবে দেখি সরকার বা জনগণের টাকায় নদীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়৷ এখন দখলদার ও দূষণকারীদেরই ওই কাজে টাকা দিতে হবে৷''
সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফর্মেশন সার্ভিসেস(সিইজিআইএস)-এর হিসাব অনুযায়ী বাংলদেশে এখন নদীর সংখ্যা ৪৪৫টি৷ আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে নদী ৪০৫টি৷ রিভারাইন পিপল জানায়, নদীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি৷ শেখ রোকন বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অন্তত ৩৮টি বড় নদী দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত৷ আর এই দখল দূষণের সঙ্গে যারা জড়িত তারা রাজনৈতিক এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী৷ রজনৈতিক ক্ষমতার বদল হলেও দখল অব্যাহত থাকে৷ আর সরকারিভাবে যাদের এই নদীগুলো রক্ষা করার কথা, তারা দখলে সহায়তা করে৷''
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘এর আগে ভারতে গঙ্গাকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ ইউরোপেও কিছু নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করা হয়৷ বাংলাদেশেও করা হলো৷ মানুষ হত্যা করলে যে বিচার, এখন নদী হত্যা করলেও সেই অপরাধে বিচার হবে৷ এজন্য আইন পরিবর্তন করতে হবে৷ আদালত এ কারণেই আইন পরিবর্তনের কথা বলেছেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন