নতুন বছরে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ | বিশ্ব | DW | 05.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

নতুন বছরে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ

চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের অমীমাংসিত সমস্যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বড় চ্যালেঞ্জ৷ চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান নৈকট্য দিল্লির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে থাকবে৷ কাশ্মীর ইস্যু জিইয়ে রাখার ইন্ধন জোগাবে এই নৈকট্য৷

ভারত-মার্কিন সহযোগিতার করমর্দনে দিল্লিকে হাত বাড়াতে হবে সতর্কভাবে, মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা৷ বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক থাকবে অটুট৷

বহু-কেন্দ্রিক নতুন বিশ্ব পরিস্থিতি শীতল যুদ্ধের পর ক্রমশই জোরালো হচ্ছে৷ এর প্রধান কারণ, শক্তিধর দেশগুলির নিজেদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, উগ্র-দক্ষিণন্থি রাজনৈতিক দলগুলির উত্থান, মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং জঙ্গিবাদ দমনে আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার আঁচ ভারতের সামনে এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে নতুন বছরে৷ ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের পর ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যাবে৷ অন্যদিকে ভারতের সিকিম, চীনের তিব্বত এবং ভূটানের ত্রিমুখী সংযোগস্থলে স্ট্র্যাটেজিক ডোকলাম এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল সীমান্তে চীনের তৎপরতা বৃদ্ধিতে ভারত-চীন সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ এশিয়া, তথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ওপর চীনের চাপ অব্যাহত থাকবে, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মহল৷

অডিও শুনুন 01:21
এখন লাইভ
01:21 মিনিট

‘দিল্লির উচিত সম্পর্কের ভারসাম্য রেখে মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা’

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেটা যাবে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালটিস্তানের মধ্য দিয়ে৷ যুক্ত করবে করাচির পশ্চিম উপকূলের গদর বন্দরকে চীনের সিংজিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে৷ অর্থনৈতিক করিডরের নিরাপত্তা রক্ষা করতে যদিও পাকিস্তান বারো হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করবে, কিন্তু কালক্রমে গিলগিট-বালটিস্তানের নিরাপত্তার ভার নেবে চীনের লাল ফৌজ৷ পাকিস্তানে ব্যাপক সংখ্যায় লালফৌজের উপস্থিতি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিপদের কারণ হতে পারে বলে ধারণা কূটনৈতিক মহলের৷ বালুচিস্তান, সিন্ধ ও গিলগিট-বালটিস্তানে জঙ্গিবাদ নতুন করে মাথা তুলছে৷ দেখা দিচ্ছে তালিবানিকরণ, বাড়ছে জাতিগত উত্তেজনা এবং ফলে ভেঙে পড়ছে অর্থনৈতিক কাঠামো৷ পরিণামে ঐ অঞ্চলে বাড়বে রক্তপাতের আশংকা৷ এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে নতুন বছরে ভারতের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ দ্বিতীয়ত, চীন-পাকিস্তান করিডরের পেছনে আছে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ রাশিয়ার সমর্থন৷ শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক মহড়াতেও যোগ দেয় রাশিয়া৷ আগ্রহ প্রকাশ করে সমরাস্ত্র বিক্রি করতে৷ সেটাও হবে ভারতের স্বার্থের পরিপন্থি৷

কাজেই অ্যামেরিকাকে পাশে নিয়ে রাশিয়াকে কিভবে হাতে রাখা যায়, সেটাও হবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্র এবং কূটনীতির পক্ষে এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ ভারতের পাকিস্তান নীতিতে কোনো পরিবর্তনের আশা দেখা যাচ্ছে না৷ তবে কাশ্মীর নীতিকে আরও শান্তিমুখী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে৷ ডোনাল্ড প্রশাসনের পাকিস্তান বিরোধী নীতি, বিশেষ করে সন্ত্রাসে মদত দেবার অভিযোগে পাকিস্তানকে যেভাবে তুলোধোনা করা হয়েছে, তাতে ভারতের কাশ্মীর, তথা পাকিস্তান নীতির নৈতিক জয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ অবশ্য আপাতদৃষ্টিতে সেটা মনে হলেও এখনই এই নিয়ে উদ্বেলিত হবার কারণ নেই৷ ট্রাম্পের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে চীন৷ এই অবস্থায় দিল্লিকে আরও সতর্কভাবে পা ফেলতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের মতে, দিল্লির উচিত হবে ভারত-চীন-আ্যামেরিকার মধ্যে এক ত্রিস্তরীয় কূটনৈতিক পরিসর তৈরি করা৷ তবে সেটাকে কিভাবে করা হবে সেটাই হবে দিল্লির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ৷

 পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কুলভূষণ যাদবের ফাঁসি আটকাতে ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে কুলভূষণের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারলে নিঃসন্দেহে সেটা হবে বড় কূটনৈতিক সাফল্য৷ ভারতের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান স্তম্ভ বলা বাহুল্য লুক-ইস্ট নীতি৷ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতাভিত্তিক সুসম্পর্ক অটুট রাখা৷ সেই লক্ষ্যে নতুন বছরের প্রথমেই দক্ষিণ-পূর্ব আশিয়ান দেশগুলি সফরে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ দশটি আশিয়ানভুক্ত দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানাবেন দিল্লিতে ২৬শে জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে৷ পাশাপাশি সার্ক দেশগুলির গুরুত্ব ক্রমশই ক্ষীয়মান৷ ভবিষ্যতে ভারতীয় উপমহাদেশে, তথা দক্ষিণ এশিয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা বিশেষ থাকবে বলে মনে হচ্ছেনা৷ কাজেই ভারতের লক্ষ্য হবে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক-স্তরে সহযোগিতা আরও মজবুত করা৷

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক ত্রিদিব চক্রবর্তী অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করে ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘নতুন বছরে ভারতের পররাষ্ট্র নীতির সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক৷ তারমধ্যে বড় চ্যালেঞ্জ পাকিস্তান৷ অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে লাগাতার সমরাস্ত্র জুগিয়ে এসেছে৷ এখন চাকা ঘুরে গেছে৷

পাকিস্তান এখন চীনের কাছে হাত পেতেছে৷ চীনের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে ইসলামাবাদ৷ যেমন, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর৷ দ্বিতীয়ত, চীন যেভাবে দ্রুত উন্নতি করছে সব ক্ষেত্রে, ভারতকেও তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে৷ কারণ, ভারতের দিক থেকে সবথেকে বড় হুমকি চীন৷ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক সন্দেহাতীত৷ তবে বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণঅর্থী ইস্যু দু'দেশের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে৷ দিল্লির উচিত মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রেখে মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা, যাতে ঢাকার শরণার্থী সমস্যার সুরাহা হয়৷'' অধ্যাপক চক্রবর্তী ডয়চে ভেলেকে আরও বললেন যে, অ্যামেরিকা এখন ভারতের দিকে হাত বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভুললে চলবে না, অত্যধিক মার্কিন নির্ভরশীলতা কাম্য নয়৷ অতীত অভিজ্ঞতা অন্তত তা-ই বলছে৷ ওয়াশিংটন ভারতকে এখন কাছে টানছে নিজের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে৷ চীনকে আটকাতে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন