নতুন পরিবহণ আইনে শাস্তি নিয়ে অস্পষ্টতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 06.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নতুন পরিবহণ আইনে শাস্তি নিয়ে অস্পষ্টতা

নতুন সড়ক পরিবহণ আইনে দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড৷ আর হত্যাকাণ্ড প্রমাণ হলে মুত্যুদণ্ড৷ কীভাবে হত্যাকাণ্ড প্রমাণ হবে এবং ৩০২ ধারায় মামলা হবে, তা স্পষ্ট নয়৷

সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া সড়ক পরিবহণ আইনে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে৷

বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ আহত হলে বা প্রাণহানি ঘটলে এই আইনে মামলা হবে৷ তবে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালানো হয়েছে বলে মনে হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৩০২ ধারায় মামলা হবে৷ তদন্ত করে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে দুর্ঘটনার প্রকৃতি কী ছিল৷ যদি তদন্তে মনে হয়, হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাহলে সড়ক পরিবহণ আইনের ১০৩ ধারায় মামলা হবে৷ এই ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর জেল, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে৷

এছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড৷ কিন্তু এই ৩০২ ধারা নতুন কোনো ধারা নয়৷ এটা বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে আগে থেকেই আছে৷ এখন প্রশ্ন হলো, মামলাটি শুরুতে কোন আইনে হবে৷ কারণ ৩০২ ধারা সড়ক পরিবহণ আইনের কোনো ধারা নয়, এটা দণ্ডবিধির৷

অডিও শুনুন 01:53

‘আইনের মারপ্যাঁচে আর হত্যা মামলায় রূপান্তর সম্ভব হবে না’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইনে বলা হয়েছে তদন্তকালীন সময় যদি হত্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে হত্যার অভিযোগ আসবে৷ আসলে এটা সম্ভব নয়৷ কারণ মামলার শুরুতেই আপনাকে ঠিক করতে হবে কোন আইনে মামলা করবেন৷ সড়ক দুর্ঘটনা আইনে না প্রচলিত আইনে হত্যা মামলা করবেন আপনি৷ যে আইনে করা হবে মামলার তদন্ত সেই আইনেই হবে৷ আর এ নিয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান না থাকলে আইনের মারপ্যাঁচে আর হত্যা মামলায় রূপান্তর সম্ভব হবে না৷''

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এরশাদের সময় প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ তারপর তা কমিয়ে করা হয় সাত বছর৷ এরপর আরো কমিয়ে করা হয় তিন বছর৷ কিন্তু হাইকোর্ট সম্প্রতি এক পর্যবেক্ষণে সাত বছর করতে বলেছিল৷ কিন্তু হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুসরণ না করে নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে পাঁচ বছর৷''

অডিও শুনুন 02:26

‘হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুসরণ না করে সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে পাঁচ বছর’

তিনি বলেন, ‘‘৩০২ ধারায় হত্যা মামলার সঙ্গে এই আইনের কোনো সম্পর্ক নেই৷ এটা পেনাল কোডে আগেও ছিল৷ তাই হত্যা প্রমাণ হলে হত্যামামলা হবে, এটা আসলে কোনো গ্রহণযোগ্য কথা নয়৷ এর মধ্যে ফাঁকি আছে৷ আমরা যে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলাম, তা হয়নি৷ ছাত্ররা যে দাবি করেছিল, সেটাও মানা হয়নি৷ সরকার পরিবহণ মালিক এবং কথিত শ্রমিক নেতাদের চাপে এই আইন করেছে৷ এই আইনে জনস্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এখানে যে পাঁচ বছর শাস্তির বিধান করা হয়েছে,  আগে তা ছিল সাত বছর (এরশাদের সময় সাত বছর, এখন তিন বছর)৷ আর এখন করা হয়েছে পাঁচ বছর৷ তাহলে তো আরো কমানো হয়েছে৷''

নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে৷ চালকের সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে৷ সহকারী হতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে৷ গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে৷ আর পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর৷ নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনধিক ছ'মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে৷

চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়৷

অডিও শুনুন 00:29

‘আমরা অফিস করার সময় বাড়িয়ে দিয়েছি’

চালকদের জন্য পয়েন্ট সিস্টেম থাকবে৷ মোট ১২ পয়েন্ট যদি শূন্য হয়ে যায় তাহলে লাইসেন্স বাতিল হবে৷

আইন অনুযায়ী মোটরযান মালিককে ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুসারে মোটরযান চালকের সঙ্গে লিখিত চুক্তিপত্র করতে হবে৷

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গড়ির কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট করার হিড়িক পড়েছে৷ বিআরটিএ-র উপ পিরচালক মাসুদ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে৷ এ জন্য আমরা অফিস করার সময় বাড়িয়ে দিয়েছি৷ এখন আমাদের অফিস সাকাল ৯টা থেকে ৫টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে৷ শনিবারও গাড়ির কাগজপত্র  হালনাগাদ করার জন্য বিআরটিএ অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷''

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন