নতজানু রাষ্ট্রীয় নীতি কারণে বন্ধ হচ্ছে না সীমান্ত হত্যা | বিশ্ব | DW | 12.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নতজানু রাষ্ট্রীয় নীতি কারণে বন্ধ হচ্ছে না সীমান্ত হত্যা

নতজানু রাষ্ট্রীয় নীতির কারণে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া৷ রাষ্ট্র চাইলে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যাওয়ারও সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি৷

সীমান্ত হত্যা বন্ধে ২০১১ সালে বিজিবি ও ভারতের বিএসএফের মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছিল৷ চুক্তিতে বলা হয়, সীমান্ত পারাপারে মানুষ হত্যায় অস্ত্র ব্যবহার করবে না এই দুটি দেশ৷ চুক্তি করেও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা৷

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ৷  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ সালে ২৪, ২০১২ সালে ২৪, ২০১৩ সালে ১৮, ২০১৪ সালে ২৪, ২০১৫ সালে ৩৮, ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ ও ২০১৮ সালে ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে৷

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ''যেসব সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল আনা-নেয়া হচ্ছে সেখানে তো সীমান্তরক্ষীর বাহিনীর গুলিতে কেউ মারা যাচ্ছে না৷ আবার মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনা-নেয়ার সময়ও গুলিতে কেউ মরছে না৷ ''

অডিও শুনুন 05:29

‘যেসব সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হচ্ছে সেখানেই মানুষ মারা যাচ্ছেন’

‘‘যেসব সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হচ্ছে সেখানেই মানুষ মারা যাচ্ছেন৷ এখন তো গরু চোরাচালান অনেকটাই বন্ধ হয়েছে৷ তারপরও কেন সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামছে না?''-প্রশ্ন রাখেন আইনজীবী জ্যোতির্ময়৷

তিনি  আরো বলেন, ‘‘আমরা তো এর আগে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের বলতে শুনেছি, গুলিতে যে মারা গেছে সে গরু চোরাকারবারি৷ অথচ আমরা আমাদের গ্রামে ঢুকে তাদের মারতে দেখেছি৷ এখন ওরা বড় দেশ৷ আমরা অনেক ছোট৷ কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রীয় পলিসি তো শক্ত হতে হবে৷ নতজানু পলিসির কারণে আমরা এটা বন্ধ করতে পারছি না৷ আমরা তো প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই৷ ফলে রাষ্ট্র আইসিসিতেও যাবে না৷'

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকার বলেছেন, সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে৷ তার আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর৷ ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পিলখানায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলন উদ্বোধন করে তিন বলেছিলেন, ‘‘আমি আশা করবো এই বৈঠকের পর সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসবে৷ আমরা সীমান্তে আর কারো মৃত্যু দেখতে চাই না৷''

অডিও শুনুন 02:00

‘দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, তাহলে গ্যাপটা কোথায়? ’

তারও আগে, ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের সঙ্গে বৈঠক করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন৷ বৈঠক শেষে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অনেক কমেছে বলে দাবি করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ আর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন তার এই বক্তব্য শুনে সীমান্তে হত্যা ‘শূন্যে' নামিয়ে আনতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান৷

এ প্রসঙ্গে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, তাহলে গ্যাপটা কোথায়? সেটা আসলে আমরা বুঝে উঠতে পারছি না৷ একটা হতে পারে আমরা ছোট দেশ, আর ওরা বড় দেশ৷ এ কারণে ওরা আমাদের কথা গুরুত্বই দিচ্ছে না৷ এই কারণে আমি বলি, আলোচনাটা আরো বাড়াতে হবে৷ শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলতে হবে৷ তাহলে যদি সমস্যাটার সমাধান করা যায়৷ অন্য কোন পথ তো আমি দেখি না৷'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন