নগর পরিকল্পনা তাজা বাতাস প্রবাহের চাবিকাঠি | অন্বেষণ | DW | 26.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

নগর পরিকল্পনা তাজা বাতাস প্রবাহের চাবিকাঠি

বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বড় শহরগুলিতে অসহনীয় উত্তাপ বড় সমস্যা হয়ে উঠছে৷ শীতল বাতাসের ছোঁয়া পেলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে৷ বিজ্ঞানীদের মতে নগর পরিকল্পনার সময়ে বাড়িঘরের আদর্শ অবস্থান থাকলে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারবে৷

বাধার মুখে বাতাসের প্রবাহের আচরণ কী হয়? সুইজারল্যান্ডের আন্দ্রেয়াস রুবিন গবেষণাগারে একটি খালের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন৷ বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি আলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে পানির মধ্যে ভাসমান সাদা কণা দৃশ্যমান করে তুলছেন৷ ফলে খালি চোখেই প্রবাহের গতিপথ দেখা যাচ্ছে৷ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুবিন বলেন, ‘‘এখানে প্রবাহ বিনা বাধায় এগিয়ে চলেছে৷ তারপর সেটি একটি ভবনে ধাক্কা খাচ্ছে৷ দেখা যাচ্ছে বাড়ির সামনে ঘূর্ণি সৃষ্টি হচ্ছে এবং উপর দিয়ে পানির প্রবাহ চলে যাচ্ছে৷ পেছনে এক ‘সোয়ার্ল জোন’ তৈরি হচ্ছ৷ এই ভবনটির গায়ে এভাবে প্রবাহে পরিবর্তন ঘটছে৷ এখানে একটিমাত্র ভবনে এমনটা ঘটছে৷ শহরে অসংখ্য বাড়ির কারণে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রবাহ দেখা যাবে৷’’

কোনো ভবনের উপর অথবা সেটির আশেপাশে শীতল বাতাসের প্রবাহ কেমন হয়? রুবিন সেই প্রবাহও দৃশ্যমান করে তুলেছেন৷ কিন্তু পথে বাধা সৃষ্টি হলে বাস্তবে ঠিক কী ঘটে? তিনি বলেন, ‘‘ভবনটি বাতাসের গতির দিকে থাকলে অবশ্যই প্রস্থ ও উচ্চতার উপর বাধা নির্ভর করে৷ ভবন যত উঁচু হবে, বাধাও তত বেশি হবে৷ এবার আমি আরও একটি বাধা সৃষ্টি করছি৷ দুটি বাধার মধ্যে জায়গায় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল হচ্ছে না৷ কারণ সামনে থেকে বাতাস এলে দুটি বাড়ির উপর দিয়ে চলে যাবে৷ মাঝের অংশে বাতাস চলাচল কম হবে৷ সেই প্রভাব দূর করতে আমরা বাতাসের যাত্রাপথ বরাবর তৃতীয় একটি বাড়ি বসিয়েছি৷ ফলে বাতাস এখন বাড়ির কাছ দিয়ে বয়ে যেতে পারছে৷’’

এই পরীক্ষা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবন কোন দিকে মুখ করে থাকবে, নগর পরিকল্পনারসময়ে সে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে৷ পাহাড়ের ধারে বাড়ি হলে শীতল বাতাস আটকে যাবে এবং বেশিদূর যেতে পারবে না৷ বাড়িগুলির আড়াআড়িভাবে উপত্যকার দিকে বসানো হলে সব দিকেই শীতল বাতাস বয়ে যাবে৷ বিষয়টি এতই সহজ৷

এমনকি বহুতল ভবনগুলিও শহরে বাতাস চলাচল তরান্বিত করতে অবদান রাখতে পারে৷ আন্দ্রেয়াস রুবিন বলেন, ‘‘বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে যেটা ঘটে, সেটা হলো বাতাসের প্রবাহ প্রথম ভবনের উপর দিয়ে বয়ে গিয়ে দ্বিতীয় ভবনের সামনে নীচে নেমে আসে৷ ফলে মাঝের অংশে ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়৷ এভাবে শহরের মাঝে বাতাসের প্রবাহের উপর প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব৷ ভবনগুলির বিন্যাস অনুযায়ী শহরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব৷’’

বড় ভবন ছোট ভবন ঢেকে দিলে অবশ্য ছোট ভবনটি শীতল হতে পারে না৷ দূরত্ব বেশি রাখলে তবেই সেটা সম্ভব হয়৷

ক্রিস্টিয়ান সেভাল্ড/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন