‘নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না’ | আলাপ | DW | 20.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না’

বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে ঢাকা৷ ঢাকাকে কি তবে বাসোপযোগী করা সম্ভব নয়? উত্তর দিচ্ছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বাবিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ৷

ডয়চে ভেলে: নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য কী? 

অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ: নগর উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নগরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এবং মানুষের সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর রেখে যে ভূমি ব্যবহার, সেই ভূমি ব্যবহারটাকে নিশ্চিত করা৷ এখানে বাসস্থান, পরিবহণ থেকে শুরু করে অন্যান্য যে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা আছে, সেগুলো যাতে মানুষের চাহিদা মতো তাদের কাছে দেয়া যায়, সে কারণেই পরিকল্পনা প্রয়োজন৷

একটা সুন্দর নগর গড়ে তোলার জন্য আসলে কী কী থাকা দরকার?

কয়েকটা ‘বেসিক’ জিনিস থাকতেই হবে৷ যেমন বাসস্থান৷ সেটা শুধু থাকলেই হবে না, সেটা যেন মানসম্পন্ন হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে৷ তাছাড়া পরিবহণব্যবস্থা যেন জনবান্ধব হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ অনেক সময় আমরা পরিবহণের যে ব্যবস্থা করি, সেটা জনবান্ধব হয় না৷ এছাড়া অনেক সামাজিক ব্যবস্থা আছে, যেমন খেলার মাঠ, স্কুল-কলেজ, হেলথ সেন্টার – একটি শহরে সেগুলিও থাকতে হবে৷ এগুলোর বিন্যাস যেন সুষ্ঠু হয়৷ মানুষ যেন সহজেই এই সেবাগুলো নিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে৷

আমরা কি একটা যুগোপযোগী নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি?

আমাদের বিভাগীয় শহরগুলোতে ৬০-এর দশকে এবং পরে ৯০-এর দশকে কিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়৷ সময়ের বিবেচনায় তখন হয়ত ওগুলো ঠিক ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগর উন্নয়নের ধারণা পরিবর্তন হয়৷ সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নগর উন্নয়নের বিষয়গুলো এর মধ্যে আনতে হয়৷ আমরা যেটা দেখি, পরিকল্পনা যা-ই নেয়া হোক, এর বাস্তবায়ন খুবই কম৷ এ কারণে এটাকে আমরা বাস্তবে দেখতে পাই না৷ সেটা কত ভালো পরিকল্পনা ছিল, সেটা আমরা বুঝতে পারি না৷ আসলে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নের পরিমাণ খুবই কম৷

বর্তমানে ঢাকা বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় উপরের দিকে উঠে এসেছে৷ এটা আসলে কী বার্তা দিচ্ছে?

আমাদের দেশে সবকিছুই কেন্দ্রমুখী, ঢাকাকেন্দ্রিক৷ আমাদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা সবকিছুই রাজধানীমুখী৷ এমনকি রাজনীতিও৷ ফলে আমাদের সব মানুষ ঢাকামুখী হয়ে আসেন৷ এই ঢাকামুখী মানুষের অবিরাম স্রোত – আগে কখনও এটা ঢাকা সামাল দিতে পারেনি, এখনও পারছে না৷ এর অন্যতম কারণ, যে সংস্থাগুলো এর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, তিতাস – এরা শহরে যে পরিমাণ মানুষ আসেন এবং তাদের যে চাহিদা – সেটা দিতে পারেনি৷ ফলে একদিকে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি৷ সেই কারণেই মূলত আমাদের এই অব্যবস্থাপনা৷ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণটাও ঠিকমতো করতে পারিনি৷ সবকিছু মিলে আমাদের এই শহরটা বসবাসের অনুপযোগী অন্যান্য শহরের মধ্যে একেবারে উপরের দিকে উঠে এসেছে৷

অডিও শুনুন 09:15
এখন লাইভ
09:15 মিনিট

‘বিনিয়োগটা ঢাকার জন্য যেমন করতে হবে, ঢাকার বাইরের জন্যও করতে হবে’

এই তালিকা থেকে ঢাকাকে বের করার কোনো সুযোগ আছে?

এর থেকে বের হওয়ার দু’টি উপায় রয়েছে৷ প্রথমত ঢাকার বাইরে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিনিয়োগে মনোযোগ তৈরি করা৷ বিশেষ করে বিভাগীয় শহর, জেলা শহরসহ দেশে যে ৩২৮টি পৌরসভা আছে, সেখানে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য যে সেবাগুলো আছে, তার ব্যবস্থা করা৷ এই শহরগুলোকে যদি আমরা এভাবে তৈরি করতে পারি, তাহলে ঢাকার উপর যে চাপ, সেটা আপনা-আপনি কমে আসবে৷ এটা একটা পদ্ধতি৷ অন্যটা হলো, এখনো আমরা ঢাকা শহরে অনেক সমস্যা নিয়ে সংগ্রাম করছি৷ সেগুলো চিহ্নিত করে চাহিদার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধানের জন্য বিনিয়োগ করা৷ এই বিনিয়োগটা ঢাকার জন্য যেমন করতে হবে, ঢাকার বাইরের জন্যও করতে হবে৷ তাহলেই ঢাকা শহরের উন্নতিটা করা সম্ভব হবে৷

ঢাকায় যানজটের জন্য জায়গার অভাবকে দায়ী করা হয়৷ এটাই কি মূল কারণ, নাকি সঠিক পরিকল্পনার অভাব? 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

আমি মনে করি না, এটাই কারণ৷ বিশ্বের আরো অনেক শহর বা মেগাসিটি আছে, যেখানে ঢাকার মতো রাস্তার পরিমাণ কম৷ কম থাকাটা একটা বিষয়, এটা স্বীকার করি৷ তবে এটা একমাত্র কারণ না৷ অন্যান্য মেগাসিটিতে মেট্রো আছে, ট্রেন আছে, আন্ডার গ্রাউন্ড আছে৷ কোথাও কোথাও লাইট ট্রেন আছে৷ মূল কথা হলো, ভালো একটা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস থাকা৷ অর্থাৎ গণমুখী পরিবহণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন৷ আমাদের এখানে যে বাসগুলো চলে সেগুলো কিছু প্রাইভেট কোম্পানি দ্বারা বিক্ষিপ্তভাবে চলে৷ এগুলো কোনো সুশৃঙ্খল পরিবহণ ব্যবস্থা নয়৷ এ কারণে আমরা এত বেশি সমস্যার মধ্যে পড়ি৷ আমাদের ভালো পরিকল্পনার অভাব আছে, বাস্তবায়নেরও অভাব আছে৷ আমাদের ‘রিভাইস স্ট্র্যাটেজি রিভাইস প্ল্যান’ নামে একটি পরিকল্পনা আছে, সেখানেও ভালো কিছু পরিকল্পনা দেয়া আছে৷ সেগুলো যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আমাদের পরিবহণ ব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে৷

অপরিকল্পিত নগরায়নের সঙ্গে দুর্নীতির কি কোনো সংযোগ আছে? 

নিশ্চয়ই আছে৷ যেমন, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্ল্যানে যে ধরনের প্রস্তাব দেয়া থাকে, অনেক সময় তার ব্যাত্যয় ঘটে৷ মূলত দুর্নীতির কারণে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার অনেক ব্যাত্যয় ঘটে৷ সেই কারণে আমি বলব যে, দুর্নীতিও একটা কারণ৷

আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা কি নগর পরিকল্পনার বাধা হয়ে দাঁড়ায়?

এটা সারা বিশ্বের জন্য৷ বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সরকারি নীতি -নির্ধারকদের চেয়েও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে, তখন সেখানে সমস্যা হয়৷ ঢাকার ক্ষেত্রেও এটা হয়েছে৷ ঢাকায় যারা আবাসন প্রকল্প করছেন, তাদের অনেক সময় সরকারের পাস করে দেয়া প্ল্যান এড়িয়ে যেতে দেখা যায়৷ এটা মহানগরীর পূর্বাংশে আমরা দেখেছি৷ সেখানে ‘ফাস্ট ফ্লো জোন’ বা নীচু এলাকা ভরাট করে আবাসিক প্রকল্প তৈরি করতে দেখেছি৷ এগুলো তখন হয়, যখন সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী যে সংস্থাগুলো আছে, তার চেয়েও এরা ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে৷

রাজধানী ঘিরে পরিকল্পনায় সরকারের আন্তরিকতা কতটুকু?

আমরা যখন কোনো সভা-সেমিনারে বা অনুষ্ঠানে যাই, তখন আন্তরিকতার কোনো অভাব দেখি না৷ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও আমরা আন্তরিকতা দেখি৷ কিন্তু বাস্তবায়নের জায়গায় তার প্রতিফলনটা আসে না৷ কখনও কখনও আসে, তবে বেশিরভাগ সময়ই তার প্রতিফলন দেখি না৷

রাজধানীকে সুন্দর একটা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার পরামর্শ কী?

সমগ্র বাংলাদেশকে নিয়ে একটা ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা তৈরি করা এবং সেখানে সারাদেশে যে জনসংখ্যার বিন্যাশ, সেটা চিন্তা করা ও দেশের ভেতরে যে প্রকৃতিক সম্পদ আছে, যেমন বনভূমি, জলাভূমি, কৃষি এলাকা এবং নগরের এলাকা, সেগুলোকে নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা৷ এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা৷ আরেকটি বিষয় হলো, যে শহরের জন্যই আমরা যে পরিকল্পনা করি না কেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যেন সেই পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হয়৷ এটা করা গেলে সারাদেশেই দৃশ্যমান একটা পরিবর্তন আসবে, বিশেষ করে নগরায়নের ক্ষেত্রে৷

আপনার কোন মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়