নকলের কাছে আসল কোণঠাসা? | আলাপ | DW | 30.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নকলের কাছে আসল কোণঠাসা?

হেলেনা জাহাঙ্গীরের ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের' মাধ্যমে ভুঁইফোঁড় সংগঠন আবার আলোচনায়৷ কথিত ওই সংগঠনের সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করেছে র‌্যাব৷ বিএনপিতেও কম নেই এই ধরনের সংগঠন৷ তবে দল ক্ষমতায় নেই বলে তাদের নিয়ে আলোচনা নেই৷

আওয়ামী লীগের নাম ভাঙানো এরকম ভুঁইফোঁড় সংগঠনের সংখ্যা এখন তিনশ'র বেশি হবে৷ তাদের কোনো অনুমোদন নেই৷ তবে আওয়ামী লীগের মধ্যেই তাদের পৃষ্ঠপোষক আছে৷ এমনকি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি সত্বেও তাদের নিবৃত্ব করা যায় না৷ আর এইসব সংগঠনের নানা অনুষ্ঠানে আওয়মী লীগের নেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের দেখা যায়৷ হেলেনা জাহাঙ্গীরের প্রসঙ্গে তাই সামনে চলে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নাম৷


আওয়ামী লীগ টানা ১২ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায়৷ এই ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে অনেকেই অনেক সুবিধা নিতে এইসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন তৈরি করেন৷

আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "এমনকি তারা মূল দলেও ঢুকে পড়েছেন৷ হেলেনা জাহাঙ্গীর কীভাকে আওয়ামী লীগের উপ- কমিটির সদস্য হয়েছিলেন সেটাই একটা বিস্ময়৷ রিজেন্ট শাহেদও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ- কমিটির সদস্য ছিলেন৷”


আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে আটটি সহযোগী ও তিনটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রয়েছে৷ সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে- যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ ও আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ৷ ভ্রাতৃপ্রতিম তিনটি সংগঠন হলো- ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগ৷ কিন্তু এইসব সংগঠনের নেতারা এখন ভুঁইফোঁড়দের কাছে অসহায়৷ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত তারা তৎপর৷ আর অনেক নেতাও তাদের স্বার্থে ভুঁইফোঁড়দের কাছে টেনে নেন৷ ফলে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা অনেকটাই অসহায়৷”


সংগঠনের নামের আগে-পরে শুধু আওয়ামী বা লীগ শব্দ জুড়ে দিয়েই শেষ নয়, বঙ্গবন্ধু, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম বসিয়েও ভুঁইফোঁড় সংগঠন তৈরি হয়েছে৷


যেমন একটি সংগঠনের নাম ‘সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ'৷ সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে এক পোস্ট দেন এই সংগঠনের ব্যাপারে৷ আবার ওলামা লীগ বলে আওয়ামী লীগের কোনো সংগঠন নেই বলে বা বার বিবৃতি দেয়ার পরও তারা সক্রিয়৷ ২০১৮ সালে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, নেতা মোদের শেখ মুজিব' স্লোগান শুনে মঞ্চে থাকা শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে বলে ওঠেন, ‘‘এটা কী? এটা আবার কবে হলো? আগে তো শুনিনি!''


নানা নামে একম শতাধিক ভুঁইফোঁড় সংগঠন আছে৷ এমন আরেকটি সংগঠনের নাম ‘জননেত্রী পরিষদ' ৷ বহুল আলোচিত ভুঁইফোঁড় সংগঠনের নাম ছাড়াও আলোচনায় আছে বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, জনসেবা লীগ, বাউল লীগ, গাড়ী চালক লীগ, স্বাধীনতা লীগ, তরুণ জনতা লীগ, তরুণ লীগ, বাংলাদেশ ইলেকট্রিক লীগ,  নাপিত লীগ, ফকির লীগ, প্রবীণ লীগ ও নবীন লীগসহ বাহারি নামের আরো অনেক সংগঠন৷


আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন ,"আমরা বারবার বিবৃতি দিয়ে এইসব ভুঁইফোঁড় লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি৷ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর৷ আর নেতারা যারা তাদের অনুষ্ঠানে যান তাদের জানার কথা নয় যে সংগঠনগুলো কী করে, তাদের বৈধতা আছে কিনা৷ তবে এই সব সংগঠন নিয়ে আমরা বিব্রত৷”


বিএনপিতে যত...


বিএনপির একজন তরুণ নেতা সৈয়দ রুমি বলেন, দল ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপিতে অনেক ভুঁইফোঁড় সংগঠন ছিল৷ তখন তাদের দাপটে আমরা ছিলাম কোণঠাসা৷ দল ক্ষমতার বাইরে থাকায় এখন তারা তেমন আর সক্রিয় নয়৷ কেউ কেউ ব্যানার পরিবর্তন করে আবার আওয়মী লীগের নামের সাথে মিলিয়ে ভুঁইফোঁড় সংগঠন তৈরি করেছে৷ এরা এরকমই, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের কাছে থাকতে চায়৷ শুধু তাই নয়, বিএনপির অনেক সুসময়ের নেতা এখন আওয়ামী লীগে ভিড়েছেন৷ তারা বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ও সুবিধা নিয়েছেন এখন আওয়ামী লীগের কাছ থেকেও সুবিধা নিচ্ছেন৷


বিএনপির পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে বিবৃতি দিয়ে বলা হয় ‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ' নামের সংগঠনটির সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই৷ সম্প্রতি এই সংগঠনটির নানা তৎপরতা বিএনপিকে বিব্রত করে৷


জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও সর্বোপরি জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির নামের সাথে মিলিয়ে ভুঁইফোঁড় সংগঠন আছে৷ জিয়া পরিবার বা বিএনপির নাম ব্যবহার করে দেশের বাইরে ও অনেক সংগঠন খোলা হচ্ছে


এরকম শতাধিক সংগঠনের মধ্যে আছে দেশনেত্রী পরিষদ, জিয়া ফোরাম, তারেক জিয়া ফোরাম, নাগরিক দল, মানবাধিকার ফোরাম, সেবাদল, বাস্তুহারা দল, প্রজন্ম দল, তৃণমূল দল, ভূমিহীন দল, বন্ধুদল, বাউল দল, জাতীয়তাবাদী তরুন দল প্রভৃতি৷
আরো আছে জিয়া নাগরিক ফোরাম, জিয়া সেনা, জিয়া ব্রিগেড, দেশনেত্রী পরিষদ, খালেদা জিয়া পরিষদ, তারেক জিয়া ফোরাম, তারেক জিয়া মুক্তি পরিষদ, তারেক পরিষদ প্রভৃতি৷


বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, "এই সব সংগঠনের কোনো অনুমোদন দেয়নি বিএনপি৷ তবে সব সংগঠনই যে খারাপ তা নয়৷ এরমধ্যে ভালো সংগঠনও আছে৷ আর সংগঠন করা নাগরিকদের অধিকার৷ যারা নানা সংগঠন করে বেআইনি কাজ করেন সেটা দেখার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর৷ আমরা দলের পক্ষ থেকে বারবার বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি৷''


তিনি আরো বলেন, অনেকে সুবিধা পাওয়ার আশায় এই ধরনের সংগঠন তৈরি করেন, যা অনেক সময়ই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে৷''