‘ধ্বংস করে’ শিল্প সৃষ্টি করেন নরওয়ের শিল্পী | অন্বেষণ | DW | 15.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

‘ধ্বংস করে’ শিল্প সৃষ্টি করেন নরওয়ের শিল্পী

এমন শিল্পকর্ম, আগুন ধরিয়ে দিলে যার স্বরূপ ফুটে ওঠে৷ এমন নানা ‘ধ্বংসাত্মক’ উপায়ে নরওয়ের এক শিল্পী তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন৷ নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি রূপান্তরের মাধ্যমে সৃষ্টির কাজে মেতে রয়েছেন৷

নরওয়ের শিল্পী ডিনো টমিক আক্ষরিক অর্থেই বারুদ দিয়ে নিজের শিল্পকর্মে আগুন ধরিয়ে দেন৷ আগুন ধরে গেলেই ক্যানভাস জ্বলতে থাকে ও তাঁর আসল সৃষ্টি বেরিয়ে আসে৷ তিনি এমন অনেক অপ্রচলিত পদ্ধতি কাজে লাগান৷

বারুদ নিয়ে তাঁর অন্যতম প্রধান পরীক্ষার নমুনা একটি অফিস ভবনে শোভা পাচ্ছে৷ তাতে শিল্পীর জন্মের শহর নুটোডেন ফুটে উঠেছে৷ তিন কিলোগ্রাম বারুদ নিয়ে সেই সৃষ্টি সম্ভব করতে এক সপ্তাহ সময় লেগেছে৷ ডিনো বলেন, ‘‘অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা কাজে লাগানো হয়৷ চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা একেবারে অপ্রয়োজনীয় ও ছোট এই সব কণা৷ কিন্তু তাতে আগুন ধরিয়ে দিলে তার শিখা ও উত্তাপ ঘর আলোকিত করে৷ সব সময়ে বেশ মজা হয়৷’’

ডিনো নেল ক্লিপারের সাহায্যে ছোট্ট কণাগুলি ক্যানভাস জুড়ে ছড়িয়ে দেন৷ ঘরের পরিবেশ কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ সামান্য বাতাসও সবকিছু পণ্ড করে দিতে পারে৷ বাতাসে খুব বেশি আর্দ্রতা থাকলে চলবে না, কারণ সে ক্ষেত্রে বারুদ জ্বলে উঠবে না৷ এমনকি আগুন জ্বালানোর জন্য কাঠের টুকরোর বিন্যাসও বড় পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে৷ ডিনো টমিক জানান, ‘‘কণাগুলিকেও পরস্পরের খুব কাছে রাখতে হয়, যাতে আগুন ধরালে দানাগুলি একে অপরকে জ্বালিয়ে দিতে পারে৷ তখন গোটা ক্যানভাস জুড়ে আগুনের এক শৃঙ্খল সৃষ্টি হয়৷ কণাগুলি ক্যানভাসের মধ্যে পুড়ে গিয়ে মূল চিত্রকলা ফুটিয়ে তোলে৷’’

ভিডিও দেখুন 04:37

আগুন, বালু, পানি দিয়ে চিত্রকর্ম!

সম্প্রতি ডিনো টমিক আরও কম বিস্ফোরক ভিন্ন এক উপাদান খুঁজে পেয়েছেন৷ আর সেটা হলো ধুলা৷ এভাবে তিনি নোংরা গাড়ির কাচকে বিখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রকর সালভাদোর দালির প্রতিকৃতিতে রূপান্তরিত করেছেন৷

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির দেওয়ালচিত্র ‘লাস্ট সাপার'-ও তিনি এভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন৷ সেই কাজের জন্য পুরো এক দিন ধরে সম্পূর্ণ একাগ্রতার প্রয়োজন পড়েছিল৷ ধুলিকণা বারুদের তুলনায় অনেক সূক্ষ্ম ও হালকা৷ ডিনো মনে করিয়ে দেন, ‘‘একটা ছোট ভুল করলেই ধুলা ঝরে পড়বে৷ একটু বাতাস বইলেই সব উড়ে যাবে৷ বৃষ্টি হলে ধুইয়ে যাবে৷ গাড়ির উপর পড়া ধুলা নিয়ে কাজ৷ হাঁচি এলে, জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলেই ধুলা উড়ে যাবে৷ তাই অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়৷’’

নিজের শহরে শিল্পসৃষ্টির জন্য তিনি আরও একটি পথ খুঁজে পেয়েছেন৷ পানিতে ক্ষতি হয় না, এমন রং ব্যবহার করে তিনি ফুটপাথে বিটলস-এর মতো অনেক ছবি সৃষ্টি করেছেন৷ বেলজিয়ামের কমিক চরিত্র লাকি লিউক-ও সামান্য পানির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ সেই চিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে ডিনো টমিক বলেন, ‘‘এই অংশটিতে কোনো পানি-নিরোধক রং ব্যবহার করা হয় নি, তাই একটু অন্ধকার মনে হয়৷ সাদা অংশগুলিতে পানি-নিরোধক রং রয়েছে, তাই হালকা৷ বৃষ্টির সময় অথবা পানি ঢাললে এভাবে ছবি সৃষ্টি করা সম্ভব৷’’

অন্ধকারে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, এমন রং নিয়েও পরীক্ষানিরীক্ষা করতে ভালবাসেন ডিনো টমিক৷ একমাত্র অতিবেগুনি রশ্মির নীচে সেই ছবির দ্বিতীয় একটি স্তর চোখে পড়ে৷

থার্মোক্রোমিক পিগমেন্ট উত্তাপের ফলে রং বদল করে৷ ডিনো সেই পদ্ধতিও কাজে লাগিয়ে একাধিক ছবি একে অপরের উপরে বসিয়ে দেন৷ ডিনো মনে করেন, ‘‘আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে কার্যত সবার সঙ্গেই প্রতিযোগিতায় নামতে হয়৷ নিজের শিল্পকর্মকে বাকিদের তুলনায় আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে ভাবনাচিন্তা করতে হয়৷ তাই একই ছবির মধ্যে অদৃশ্যভাবে একাধিক ছবি রাখলে সেই বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়৷ সবকটি ছবি অবশ্য একসঙ্গে দেখা যায় না৷’’

ডিনো টমিক নিত্যনতুন আইডিয়া নিয়ে ইনস্টাগ্রামে নিজেদের ভক্তদের অবাক করে দেন৷ তাঁর অনুগামীর সংখ্যা সাত লাখেরও বেশি৷ পরের বার চৌম্বক ধুলা ব্যবহার করে তাক লাগিয়ে দিতে চান তিনি৷

প্রতিবার একটি শিল্পকর্ম শেষ করেই তিনি পরের সৃষ্টি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন৷

ডানিয়েলা স্পেট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন