ধর্ষণ: আমাদের দায় | আলাপ | DW | 15.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

ধর্ষণ: আমাদের দায়

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে রাষ্ট্রের ব্যর্থতায়৷ অপরাধের সামাজিক প্রতিরোধে ঘাটতির দায় সমাজের৷ আর ব্যক্তির দোষ অনেকটাই পরিবারের৷ ধর্ষণের দায়ও নিতে হবে তাই এ তিন পক্ষকেই৷

বিশ শতকের একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মধ্যে ছিল অনেক ধর্ষকও৷ তাদের শিকার হয় অন্তত দুই লাখ ৩০ হাজার নারী৷ নিপীড়িত এই নারীদের সম্মান জানাতে গিয়ে এদেশের বক্তার দল প্রায়ই ‘সম্ভ্রমহানি' শব্দটি প্রয়োগ করে থাকেন৷ এখানে ‘সম্ভ্রমহানি'- আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ধর্ষণের লজ্জার ভাগ নিতে হয় ধর্ষণের শিকার নারীকেই৷ অথচ অন্য যেকোনো অপরাধের বেলায় দোষ বলুন, লজ্জা বলুন- সবই অপরাধীর৷ এর জন্যেই ধর্ষণের ঘটনায় শুধু ভূক্তভোগীর নাম-ছবি-পরিচয় প্রকাশ থেকে দূরে থাকে গণমাধ্যম৷ যেদিন এমন এক সমাজ হবে, যেখানে ধর্ষণ একটি অপরাধ, তার দায় শুধুই অপরাধীর সেদিন সামাজিক লজ্জার হাত থেকে মুক্তি মিলবে অনাচারের শিকার নারীদের৷ ‘সম্ভ্রমহানি' নামের শব্দের অপ্রয়োগ বন্ধে তাই এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সমাজকে৷ এই কাজে নেতৃত্ব দিতে পারে দেশের সুশীল সমাজ৷ কিন্তু এই কালে এসে আপাতত নেই কোনো ঈশ্চরচন্দ্র বিদ্যাসাগর; যিনি নিজের পুত্রকে বিধবার সঙ্গে বিয়ে দিবেন- এমন উপমা তৈরির পর বিধবা বিবাহ প্রচলনের আন্দোলনে সাফল্য নিয়ে আসবেন৷ এমন সমাজসংস্কারক না থাকার দায় কি স্বীকার করবে জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নাগরিক সমাজ?

দুই.

যাপিত জীবনে প্রতিযোগিতা বাড়ছে৷ বাড়ছে কর্মব্যস্ততা৷ সন্তানকে সময় দেয়ার মতো সময় আজকাল অনেকের হাতেই নেই৷ তাই সন্তানকে ‘কোয়ালিট টাইম' বা ‘গুণগত সময়' দিন- এমন বক্তব্য বেশি বেশি দিতে হচ্ছে মানসিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের৷ তবু এ নিয়ে মনযোগ কম অনেক অভিভাবকেরই৷ দায় এড়াতে শৈশব বা কৈশোরে সন্তানের হাতে তারা তুলে দিচ্ছেন ল্যাপটপ, মোবাইলসহ প্রযুক্তির নানা উপকরণ৷ যা হয়তো তার পাওয়ার কথা ছিলো প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তমনস্ক হওয়ার পরে৷

অন্যদিকে সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মেশে, কী করে- এসব খবরই রাখে না অনেক মাতাপিতা৷ কখন, কোথায়, কী করতে হবে, কোন কোন বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবে- এসব বিষয়ে পারিবারিক শিক্ষারও বালাই নেই অনেক পরিবারে৷ তাই আচমকাই কিশোর অপরাধীর খাতায় নাম চলে যায় কারো কারো সন্তানের৷ কেউবা ধর্ষক হিসেবে হয় কারাবন্দী৷ তখন অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয় অপরাধীর অভিভাবকদের দিকেও৷ সন্তানকে মানুষ করতে না পারার অভিযোগ, অস্বীকার করার কোনো পথ থাকে না সেই শেষবেলায়৷

তিন.

কিশোর-যুবারা কেমন চুল রাখবে, কী পোশাক পরবে, কখন আড্ডা দিবে, কখন খেলবে- এগুলো দেখভাল করার কথা পরিবারের৷ হালের বাংলাদেশে কোনো কোনো এলাকায় এসব ঠিক করে দিচ্ছে পুলিশ৷ কিন্তু কিশোর অপরাধ বিষয়ে সম্প্রতি সতর্কবাণী দিতে গিয়ে পুলিশ-প্রধান আইজিপি বেনজীর আহমেদ যে ভাষ্য দিয়েছেন, তার মানে দাঁড়ায়- পিতামাতারা সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তার দায়দায়িত্বও তাদের নিতে হবে৷ ‘দায়দায়িত্ব নিতে না পারেন, তাহলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন কেন?'- এই প্রশ্ন বাংলাদেশের আইজিপির৷

অপরাধী সে যে বয়সেরই হোক, তাকে পাকড়াও করার দায়িত্ব পুলিশের৷ বিচার করবেন আদালত৷ তাই শুধুই মাতাপিতার দোষ খুঁজে বেড়ালেই কর্তব্যকর্ম শেষ হয়ে যায় না৷ কেননা অপরাধ হয়ে গেলে দায়িত্ব চলে আসে নিরাপত্তাপ্রশাসন ও বিচারালয়ের হাতে৷ তাই ধর্ষকের মতো অপরাধী ধরার বিষয়ে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে পুলিশকে৷ করতে হবে যথাযথ তদন্ত৷ আর অপরাধ চূড়ান্ত করবেন আদালত৷ ধর্ষকের সাজা কেমন হবে- সেটার এখতিয়ারও তাদের৷ কিন্তু অপরাধীকে যদি ধরাই না যায়; কিংবা তদন্ত ও বিচারকাজে যদি বছরের পর বছর চলে যায়, তবে তো ভুক্তভোগীর ভোগান্তির মাত্রা লম্বাই হতে থাকে৷ পুলিশ ও আদালতের বেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে রাষ্ট্রকে৷ কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় সবকিছু সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকারে৷ ধর্ষণের দায়ও তাই কোনোক্রমেই এড়াতে পারে না সে৷ কারণ ধর্ষকও তারই নাগরিক৷ তাকে সুনাগরিক করতে না পারার ব্যর্থতা পরিবার ও সমাজের শুধু নয়, রাষ্ট্রেরও বটে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন