ধর্ষণের সাজা না দেয়ায় স্পেনজুড়ে বিক্ষোভ | বিশ্ব | DW | 27.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

স্পেন

ধর্ষণের সাজা না দেয়ায় স্পেনজুড়ে বিক্ষোভ

স্পেনের একটি আদালত বৃহস্পতিবার পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে৷ তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, তরুণীটি আসলে গণধর্ষণের শিকার৷

২০১৬ সালের জুলাই মাসে স্পেনের পাম্পলোনায় বাৎসরিক ষাঁড়ের দৌড় উৎসবের সময় আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছিল৷ মামলার সাক্ষ্য বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ১৮ বছরের ঐ তরুণীকে তাঁর গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল৷ তবে তা না করে সাত মিনিট পর অভিযুক্তরা তরুণীটিকে জোর করে পাশের এক ভবনে নিয়ে গিয়েযৌন নিপীড়ন চালায়৷ সেই সময় তারা ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে৷ যাওয়ার সময় মেয়েটির ফোনও নিয়ে যায় অভিযুক্তরা৷

এরপর অভিযুক্তরা হোয়াটস অ্যাপের একটি গ্রুপে সেদিনের সেই ঘটনার ভিডিও সগর্বে শেয়ার করেছিল বলেও জানা গেছে৷ অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন, যাকে পরে বরখাস্ত করা হয়৷ একজন সাবেক সেনাসদস্যও রয়েছে অভিযুক্তদের মাঝে৷ অভিযুক্তরা একে অপরের বন্ধু এবং সবাই সেভিয়ার বাসিন্দা৷

ঘটনার দিন দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করেন৷ সেই সময় মেয়েটি কাঁদছিল৷

মামলা চলার সময় অভিযুক্তরা জানায়, যৌনমিলনে মেয়েটির সম্মতি ছিল৷ অভিযুক্তদের আইনজীবী ঘটনার পর মেয়েটির আচরণ, যার মধ্যে এক পার্টিতে তাঁর অংশগ্রহণের ভিডিও-ও আছে, নিয়ে কিছু প্রমাণ আদালতে উপস্থিত করেন৷ এক গোয়েন্দার মাধ্যমে এই প্রমাণ জোগাড় করা হয়েছিল৷ এমন গোয়েন্দা থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি আদালত গ্রহণ করতে সম্মত হওয়ায় সেই সময় বিভিন্ন নারীবাদী গোষ্ঠী প্রতিবাদও জানিয়েছিল৷

বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণার সময় পাম্পলোনার আদালত প্রাঙ্গনে অনেকে জড়ো হয়েছিলেন৷ আদালত ঐ অভিযুক্তদের গণধর্ষণের অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়ার ঘোষণা দিলে রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়৷ এই সময় লোকজন ‘‘এটি যৌন নিপীড়ন নয়, ধর্ষণ'' বলে শ্লোগান স্পেনদিতে থাকে৷

উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেয়া যৌন নিপীড়নের রায়ের অর্থ হচ্ছে, ঐ ঘটনার সঙ্গে ‘সহিংসতা ও ভয় দেখানোর' কোনো বিষয় ছিল না৷

আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার স্পেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে৷ দেশটির বিচারমন্ত্রী রাফায়েল কাতালা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা যৌন নিপীড়ন আইনের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করার এখনই সময়৷ উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিচারকদের রায়কে সম্মান করতে হবে, তবে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখন থেকেই চিন্তা-ভাবনা শুরু করতে হবে৷

উল্লেখ্য, মেয়েটির পক্ষের আইনজীবীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২২ বছরের সাজা চেয়েছিলেন৷ কিন্তু আদালত তাঁদের নয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে৷ পাশাপাশি মেয়েটিকে ৫০ হাজার ইউরো দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে৷

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন