ধর্ষণের মামলা করায় হত্যা, এখনো আসামি খুঁজছে পুলিশ! | বিশ্ব | DW | 29.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ধর্ষণের মামলা করায় হত্যা, এখনো আসামি খুঁজছে পুলিশ!

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের কিশোরী বিউটি আক্তারকে প্রথমে যৌন হয়রানি, সেই অভিযোগ করায় তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ৷ ধর্ষণের অভিযোগ করায় সর্বশেষ তাকে  হত্যা করা হয়৷ তাই প্রশ্ন উঠেছে এমন দুর্বৃত্তকেও কেন আগেই গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ?

আর এই প্রশ্নের জবাবে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান এখন ওই কিশোরীর ওপরই দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন৷ তিনি দাবি করছেন, ‘‘এর আগে ওই কিশোরী বাবুল মিয়ার ঘরে স্বেচ্ছায় চলে গিয়েছিল৷ এখন যেহেতু হত্যা হয়েই গেছে তাই আমরা বাবুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি৷''

নিহত বিউটি আর অভিযুক্ত বাবুল মিয়া শায়েস্তাগঞ্জের একই গ্রাম ব্রাহ্মনডোড়ার বাসিন্দা৷ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই তাকে যৌন হয়রানি করে আসছিল৷

অডিও শুনুন 02:02
এখন লাইভ
02:02 মিনিট

ওই মেয়ের সাথে ওই ছেলের সম্পর্ক ছিল: ওসি আনিসুর রহমান

এ কারণে স্কুল ছেড়ে বিউটি একটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়৷ তারপরও সে রেহাই পায়নি৷ যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে গত ২১ জানুয়ারি বিউটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল ও তার সহযোগীরা৷ এরপর অজ্ঞাত স্থানে এক মাস আটকে রেখে বিউটিকে ধর্ষণ করে বাবুল৷ পরে গত ২১ ফেব্রুয়ারি কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে বাবুল পালিয়ে যায়৷ এরপর ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চানকে আসামি করে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন৷ ৪ মার্চ আদালত শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে এ মামলার আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়৷

বিউটির নিরাপত্তার কথা ভেবে গত ১৬ মার্চ  তার বাবা সায়েদ আলী বিউটিকে তার নানার বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেন৷ ওই দিন রাতেই  নানা বাড়ি থেকে আবার বিউটিকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল৷

অডিও শুনুন 00:12
এখন লাইভ
00:12 মিনিট

আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই: বিউটির মা

পরদিন ১৭ মার্চ সকালে হাওরে বিউটির লাশ পাওয়া যায়৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তাকে৷  লাশ উদ্ধারের পরদিন শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বাবুলসহ দু'জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়৷ মামলা দায়েরের পর পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও ঈসমাইল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে৷ কিন্তু মূল আসামি বাবুল মিয়া এখনো গ্রেপ্তার হয়নি৷

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘ওই মেয়ের সাথে ওই ছেলের সম্পর্ক ছিল৷ ২১ জানুয়ারি মেয়েটি বাবুলের সঙ্গে চলে যায়৷ ১৮ দিন ঘর-সংসার করার পর মেয়েকে তার মা-বাবা নিয়ে আসে৷ এরপর তারা থানায় আসেনি৷ গ্রামে কোনো সমাধান পায়নি৷ তারপর ৪ মার্চ তারা মামলা করে৷

মামলার পর আমরা সময় পেয়েছি ১২ দিন৷ আমরা এরমধ্যে আসামি ধরার চেষ্টা করেছি৷ মেয়ের মেডিক্যাল করিয়েছি৷ মেয়েটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে যে, স্বেচ্ছায় চলে গিয়েছিল৷ এরপর ১৬ মার্চ  অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে৷ এখন যেহেতু হত্যা হয়েই গেছে এখনতো আমরা আসামি ধরার চেষ্টা করছি৷''

অডিও শুনুন 00:42
এখন লাইভ
00:42 মিনিট

বাবুল অনেক বড় সন্ত্রাসী, তার টাকা আছে, তাই তাকে পুলিশ ধরতে পারেনি: বিউটির বাবা

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি৷ পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ তদন্তে অবহেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷’’

এদিকে ওই কিশোরীর মা হোসনে আরা ডয়চে ভেলেকে বলেম, ‘‘আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই৷'' আর বিউটির সায়েদ আলী বলেন, ‘‘১৬ মার্চ বিউটিকে তুলে নেয়ার পরই আমরা পুলিশকে জানিয়েছি৷ পুলিশ পরের দিন লাশ উদ্ধার করেছে৷ কিন্তু বাবুলকে পায় নাই৷ বাবুল অনেক বড় সন্ত্রাসী৷ তার টাকা আছে৷  মদ-গাঞ্জা খায়৷’’

মানবাধিকার কর্মী এবং  আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন৷

অডিও শুনুন 02:04
এখন লাইভ
02:04 মিনিট

হবিগঞ্জের ঘটনায় স্পষ্ট যে পুলিশ প্রতিকার প্রার্থীর জন্য কাজ করেনি: সুলতানা কামাল

একজন মানুষ একটি  অপরাধের শিকার হলো৷ সে রাষ্ট্রের কাছে প্রতিকার চাইলো৷ রাষ্ট্র তো প্রতিকার দিলোই না, নিশ্চয়ই অপরাধীর জন্য এমন পরিবেশ তৈরি ছিল যে সে আরেকটি অপরাধ করলো৷ অভিযোগকারীকে হত্যা করলো৷ রাষ্ট্র একজন অপরাধীকে নিরস্ত্র করতে পারলো না৷ তাহলে রাষ্ট্রের পুলিশ, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা , বিচার ব্যবস্থা কিসের জন্য? অপরাধীদেরর রক্ষার জন্য?''

তিনি আরো বলেন, ‘‘হবিগঞ্জের ঘটনায় স্পষ্ট যে, পুলিশ প্রতিকার প্রার্থীর জন্য কাজ করেনি৷ তাদের রক্ষক হয়নি৷ তারা ধর্ষকের সহযোগী কিনা তা এখন তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন৷’’

বাংলাদেশে  বার বার ধর্ষকদের ঔদ্ধত্য বা ক্ষমতার প্রকাশ দেখা গেছে৷ ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ভিক্টেরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ এবং হত্যা করা হয়৷ কিন্তু দুই বছরেও এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তার করা হয়নি৷

অডিও শুনুন 01:16
এখন লাইভ
01:16 মিনিট

ব্যক্তিগত সম্পর্ক, যোগাযোগ বা বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া কেউ সুরক্ষা পাননা: ড. মিজানুর রহমান

রাঙামাটির বিলাইছড়িতে ২১ জানুয়ারি রাতে দুই মারমা সহোদরা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হন৷ অভিযোগ ‘আর্মির পোশাক পরা’ লোকজন ঘটনাটি ঘটিয়েছে৷ কিন্ত ওই ঘটনায় মামলা বা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি এখনো৷

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হবিগঞ্জে যা ঘটেছে তাতে প্রমাণ হয় ন্যূনতম জবাবদিহিতা নেই৷ থাকলে এরকম হতে পারতো না৷ নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কোনো জায়গা নেই৷ বিচারহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে৷ ব্যক্তিগত সম্পর্ক , যোগাযোগ বা বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া কেউ সুরক্ষা পান না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়