ধর্ষণের অপরাধে কুড়ি বছরের জেল রাম রহিমের | বিশ্ব | DW | 28.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ধর্ষণের অপরাধে কুড়ি বছরের জেল রাম রহিমের

একাধিক সাধিকা ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিমকে কুড়ি বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর বিশেষ আদালত৷

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মোড়া হরিয়ানা রাজ্যের রোহতকের সুনারিয়া জেলে ‘ডেরা সাচ্চা সৌদা' নামের এক ধর্মীয় সংগঠনের প্রধান গুরমিত রাম রহিমকে তাঁর আশ্রমের একাধিক সেবিকাকে ধর্যণ করার অপরাধের দুটি মামলায় দশ বছর করে মোট কুড়ি বছরের কারাদন্ড দেন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিং৷ 

নিরাপত্তার কারণে পাঁচকুলা থেকে হেলিকপ্টারে বিচারককে নিয়ে যাওয়া হয় ঐ জেল চত্বরে৷ জেলের লাইব্রেরি রুমে সাজা ঘোষণার আগে আরেক প্রস্থ সংক্ষিপ্ত সওয়াল-জবাব হয় আসামি পক্ষের এবং সরকার পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে৷ তারপর বিচারক সাজা ঘোষণা করলে ডেরা প্রধান কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং মার্জনা ভিক্ষা করেন৷ বিচারক সেকথায় কান না দেওয়ায় রাম রহিম জেলের বিচারকক্ষে বসে থাকেন৷ তখন কারারক্ষীরা জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যায়৷ জেলের বাইরে ত্রি-স্তরীয় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি৷ রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড৷

গুরমিত রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ১৯৯৯ সালে৷ ধর্ষিতা দু'জন সেবিকা বা সাধিকা গোপনে চিঠি লিখে সরকারকে সেকথা জানিয়েছিলেন৷ সেই চিঠির ভিত্তিতে সিবিআই ২০০২ সালে মামলা দায়ের করে ডেরা প্রধানের বিরুদ্ধে৷ সেই মামলায় তিনি গত শুক্রবার দোষী সাব্যস্ত হন৷ সোমবার, ২৮শে অগাস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হলো৷

স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু রাম রহিমের বর্ণময় চরিত্রের রয়েছে নানা রূপ৷ একদিকে সাধু পুরুষ, অন্যদিকে স্পোর্টসম্যান, অভিনেতা, চিত্র পরিচালক, সুরকার, লেখক, সমাজকর্মী এবং সবশেষে ‘ডন'৷ সাধিকাদের সঙ্গে ব্যাভিচারে লিপ্ত থাকার একাধিক অভিযোগ সত্বেও কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পেতো না৷ বছর ষোল আগে এক সাংবাদিক এ বিষয়ে মুখ খোলাতে তাঁকে খুন করা হয়৷ 

এত অভিযোগের পরেও রাম রহিমের ভক্ত ও অনুগামীর সংখ্যা কয়েক কোটি৷ এ এক অদ্ভুত বৈপরীত্য৷ কেউ কেউ মনে করেন, অনেকে তার কাছে উপকৃতও হয়েছে৷ হরিয়ানার সিরসায় ৭০০ একর জমি নিয়ে ডেরা সাচ্চা সৌদার বিশাল আশ্রম৷ এটাই ডেরার সদর দপ্তর৷ এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আরও আশ্রম আছে৷ কোটি কোটি টাকা কথিত আশ্রমের খাজাঞ্চিখানায়৷ জনশ্রুতি আছে, বহু রাজনৈতিক নেতাই নাকি  তার আশীর্বাদধন্য৷

সাজা ঘোষণার দিন হাঙ্গামার আশংকা করে হরিয়ানা সংলগ্ন দিল্লি, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা৷ বিমানবন্দর রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত সতর্কতা৷ হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের নয়ডা ও গাজিয়াবাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখা হয়৷ উল্লেখ্য, গত শুক্রবার পাঁচকুলায় ডেরা প্রধান গুরমিত রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার দিনে হরিয়ানা জুড়ে তার ভক্ত ও অনুগামীদের সহিংস তান্ডবে মারা যায় ৩৮ জন৷ কিন্তু বিজেপি শাসিত হরিয়ানা সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিরোধী দলগুলি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে৷ তারা অভিযোগ তুলে বলেছে, গত নির্বাচনে ডেরা সাচ্চা সৌদার কাছ থেকে বিপুল সাহায্য পেয়েছিল বিজেপি৷ তাই কঠোর হাতে দমন করেনি৷ সাজা ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতির উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন৷

ভারতে এইসব স্বঘোষিত ধর্মগুরুদের নিয়ে না কেচ্ছা কাহিনী রয়েছে৷ গুজরাটের স্বঘোষিত প্রৌঢ় ধর্মগুরু আশারাম বাপুর বিরুদ্ধেও একই ধরণের মামলা ঝুলছে আদালতে৷ ১২ বছর ধরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ঝুলছে৷ আশ্রমের বাসিন্দা দুই বোনকে আশ্রমের ভেতরেই ধর্ষণ করা হয়৷ আজও কেন সাজা ঘোষণা হয়নি, সুপ্রীম কোর্ট গুজরাট আদালতের কাছে তা জানতে চেয়েছেন. এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা যখন সামনে আসে তখন সমাজের ধর্মবোধে কালি লাগে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন