ধর্ষকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি পুলিশের | বিশ্ব | DW | 17.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ধর্ষকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি পুলিশের

এই প্রথম বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে ঢাকাসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ হয়েছে৷ শনিবার সারাদেশে ছয় হাজারেরও বেশি সমাবেশ হয়৷ সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন৷

বাংলাদেশে পুলিশের মোট ৬৪৭টি থানা আছে৷ এই থানাগুলোতে পুলিশের মোট বিট ছয় হাজার ৯১২টি৷ পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সবগুলো বিটেই শনিবার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ হয়েছে৷ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ অনেকেই অংশ নেন৷

এসব সমাবেশ থেকে ভুক্তভোগীদের নির্ভয়ে থানায় অভিযোগ করা আহ্বান জানানো হয়৷ সাধারণ মানুষ যেন ধর্ষকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পুলিশকে ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়তা করেন, সে আহ্বানও জানানো হয়৷

‘‘আমরা সারাদেশে এই সমাবেশের আয়োজন করেছি একটি বার্তা দিতে, তা হল ধর্ষণ করে রেহাই পাওয়া যাবে না৷ ধর্ষককে শাস্তির আওতায় আসতেই হবে,'' বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান৷

অডিও শুনুন 06:28

ধর্ষণ করে রেহাই পাওয়া যাবেনা: সাজ্জাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঢাকা শাহবাগ থানার সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি৷ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘‘ধর্ষণ এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়৷ মানুষ ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতন হচ্ছে৷ আমরা ধর্ষণের শিকার নারীদের পাশে আাছি৷ আমাদের কথা হলো কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হবে না৷ আর কোনো মায়ের সন্তান যেন ধর্ষক না হয়৷''

এই সমাবেশে অংশ নেয়া রেহানা পারভীন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ধর্ষণের শিকার যারা হন তারা ঠিকমত পুলিশের সহযোগিতা পান না৷ সহযোগিতা পেলে ধর্ষণ কমবে৷''

তার মতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করায় এখন ধর্ষকরা ভয় পাবে৷ ফলে ধর্ষণ কমে আসবে৷ তবে মানুষের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি৷ সমাজের পুরুষদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আমরা তো আপনাদেরই মা-বোন-স্বজন৷ আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন তাহলে ধর্ষকরা আর অপরাধ করতে সাহস পাবে না৷''

সমাবেশে উপস্থিত খায়রুল আলম বলেন, ‘‘আমাদের নারীদের প্রতি সহনশীল হতে হবে৷ তাদের শুভাকাঙ্খী হিসেবে পাশে থাকতে হবে৷ তাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে৷ এই সমাজে তাদেরও সমান অধিকার এটা আমাদের মনে রাখতে হবে৷''

অডিও শুনুন 02:16

নারী ওসি হওয়ায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারি: নাজনীন

এদিকে, পুলিশের দাবি ধর্ষণ বাড়েনি, বরং আগের থেকে সংবাদমাধ্যমে এর প্রচার বেশি হচ্ছে৷ ডিএমপির রমনা জোনের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘‘সংবাদ মাধ্যমে কখনো ছেলেধরা, কখনো গণপিটুনির রিপোর্ট বেশি হয়৷ ধর্ষণের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে৷ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে যখন আলোচনা হয় তখনই আমরা সক্রিয় হই এই অভিযোগও ঠিক নয়, আমরা সব সময় সক্রিয় আছি৷''
ধর্ষণ মামলায় তাহলে শাস্তির হার এত কম (শতকরা ৩-৪ ভাগ) কেন? তদন্তে ত্রুটি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের তদন্তে ত্রুটি আছে বলে মনে হয় না৷ শাস্তি আদালতের বিষয়৷ কেন হয় না আদালতই বলতে পারবেন৷''
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের থানা এলাকায়ও ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ হয়েছে পুলিশের উদ্যোগে৷ ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের চারটি ইউনিয়নে চারটি সমাবেশ হয়েছে৷ এই থানার ইন্সপেক্টর নাজনীন খানম বাংলাদেশের থানাগুলোতে যে কয়জন হাতে গোনা নারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছেন তাদের একজন৷
তিনি বলেন, ‘‘সমাবেশে আমরা সবাইকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে তাদের ভয় নেই৷ আমরা পাশে আছি৷ ধর্ষককে আমরা ছাড়বো না৷''

তবে তিনি মনে করেন, ধর্ষণ সারাদেশে বাড়েনি৷ বেড়েছে কিছু এলাকায়৷ তিনি দাবি করেন, ধর্ষণের শিকার নারীদের থানা থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হয়৷ তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘ধর্ষণ মামলায় বিচার হয় না কেন তা যারা বিচার করেন তারাই বলতে পারবেন৷ আমরা বলতে পারবনা৷''
তিনি যোগ করেন, ‘‘আমার থানা এলাকায় আমি নারী ওসি হওয়ার কারণে তাদের সাথে সরাসরি কথা বলি৷ তারা সবকিছু আমাকে খুলে বলেন, তাদেরও সুবিধা হয়, আমারও বুঝতে সুবিধা হয়৷ এই ধরনের ব্যবস্থা বাড়ানো যেতে পারে৷''
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন