ধর্ম নিয়ে মন্তব্যে কারাগারে বাংলাদেশের বয়াতি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ধর্ম নিয়ে মন্তব্যে কারাগারে বাংলাদেশের বয়াতি

মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরান নিয়ে মন্তব্য করায় বাংলাদেশের টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক বয়াতিকে৷ তিনদিনের রিমান্ড শেষে শরিয়ত সরকারকে জেল হাজতে নেয়া হয়েছে৷

শরীয়ত সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ এ আইনে অপরাধ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর শাস্তির বিধান রয়েছে৷

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক এলাকায় পীর হযরত হেলাল শাহ্ পীরের ১০ম বার্ষিক পালাগানের অনুষ্ঠানে শরিয়ত বয়াতি গানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

পরবর্তীতে তার গান ও বক্তব্য ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে কোরান ও মহানবী হযরত মোহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু হয়৷ গানের মধ্যে বক্তব্যের মধ্যে এক পর্যায়ে শরীয়ত সরকার বলেন, কোরানে কোথাও গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা হয়নি৷ এমনকি কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে তাকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার চ্যালেঞ্জও জানান বয়াতি৷

টাঙ্গাইলের মাওলানা ফরিদুল ইসলাম মীর্জাপুর থানায় ডিসেম্বরেই এ মামলা করেন৷ মীর্জাপুর থানার পুলিশ প্রধান সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, বয়াতির বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার' অভিযোগ আনা হয়েছে৷

বিতর্কিত আইন

২০১৮ সালে পাস হওয়ার আগে থেকেই এই আইনের নানা দিক ও এর অপব্যবহারের শঙ্কায় বিরোধীতা হয়েছে নানা পক্ষ থেকে৷ বিশেয করে এ আইনকে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে বলে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়৷ কিন্তু সরকার বরাবরই এসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে৷

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার' এর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত' এর জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এই আইনে৷

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে গত বছর অন্তত ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে এই আইনের আওতায়৷ একই ধরনের অভিযোগে গত বছরের মে মাসে বরিশালে নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়েছিল কবি হেনরি স্বপনকে৷

হুমকির মুখে সুফিরা

বাংলাদেশ সুফি ভাবধারার অনুসারিদের কাছে শরিয়ত সরকার বেশ জনপ্রিয় একটি নাম৷ তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ কেবল মত প্রকাশের জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করার নিন্দা জানাচ্ছেন তারা৷

সুফি গান নিয়ে কাজ করা সায়মন জাকারিয়াও তেমনই মনে করেন৷ তিনি বলেন, সামাজিক নানা সমস্যার কথা তুলে ধরতে গিয়ে সুফিবাদিরা প্রায়ই ইসলাম থেকে উদ্ধৃতি দেন৷ ফলে বাংলাদেশে অনেকেই এটাকে ভাল চোখে দেখেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘মঞ্চে যা গাওয়া হয়, তার আক্ষরিক অনুবাদ না করাই ভালো৷ গায়কদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত৷''

বাংলাদেশে সুফি ঘরানার সংস্কৃতির ইতিহাস বেশ পুরোনো৷ কিন্তু ‘মূল ধারার ইসলাম থেকে বিচ্যূত', এমন অভিযোগে সম্প্রতি উগ্রবাদি ইসলামিক গোষ্ঠীর নানা ধরনের হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা৷  ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ ডেইলি মেইল জানায়, ২০১৩ সাল থেকে অন্তত ১৪ জন সুফি মতাদর্শীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে৷ প্রতিটি ঘটনাতেই পুলিশ স্থানীয় জঙ্গী সংগঠনগুলোকে এর জন্য দায়ী করেছে৷

এডিকে/কেএম (এএফপি, আল জাজিরা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন