ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি | আলাপ | DW | 20.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি

বাংলাদেশে এখন নতুন করে আলোচনায় ‘ধর্ম ব্যবসা'৷ সম্প্রতি পরিচিত ধর্মীয় বক্তাদের একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে জমা দিয়েছে জাতীয় গণতদন্ত কমিশন৷ এরপরই এ বিষয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে অনলাইনে, অফলাইনে৷

গণতদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এক হাজার কওমি মাদ্রাসার একটি তালিকাও দেয়া হয়েছে, যেগুলো হেফাজত নিয়ন্ত্রিত বলে দাবি করা হয় সেখানে৷

গণতদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এক হাজার কওমি মাদ্রাসার একটি তালিকাও দেয়া হয়েছে, যেগুলো হেফাজত নিয়ন্ত্রিত বলে দাবি করা হয় সেখানে৷

রিপোর্টটি দুদকে যে কমিশন দিয়েছে, সেই গণতদন্ত কমিশনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ঐ বক্তারা মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ করে থাকলে, দুদক যাতে সেটি খতিয়ে দেখতে পারে, সেই জন্যই তারা দুদককে তালিকাটি দিয়েছেন৷

উচ্চ আদালতে দুদকের পক্ষে নিয়মিত আইনি লড়াই করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়মিত অনেক আবেদন আসে৷ কমিশন সেটাই নিতে পারবে, যেটা তার এখতিয়ারভুক্ত৷ যেমন, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, ঘুস, মানিলন্ডারিং-এগুলো পারবে৷ তিনি বলেন, ‘‘যে অভিযোগগুলো আসে, সেগুলো কমিশন প্রথমে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখে৷ খতিয়ে দেখার পর তার শিডিউলভুক্ত হলে প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়৷ নয়ত নথিভুক্ত করে রাখে৷''

এক প্রশ্নের জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, মানি লন্ডারিং দেশের ভেতরেও হতে পারে, দেশের বাইরেও হতে পারে৷ ডেসটিনি মামলায় বিদেশে পাচার নেই, সব দেশের ভেতরেই ঘটেছে৷ ইউনিপে টু ইউ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, পদ্মা ব্যাংক-এগুলো সব দেশের ভেতরে কাজ করেছে৷ অর্থ আত্মসাৎ বা অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করলেও লন্ডারিং হবে৷

অন্য প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা তুলে কেউ সেটা অন্যত্র সরিয়ে নিলে সেটা লন্ডারিং হবে৷ 

খুরশীদ আলম খান বলেন, কর ফাঁকি দেয়ার বিষয়টি দেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড৷ তবে কর ফাঁকি দিতে গিয়ে কেউ মানি লন্ডারিং করলে তখন সেটা দুর্নীতি দমন কমিশন দেখতে পারে৷

এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে তুরিন আফরোজ জানিয়েছেন, তাদের তালিকায় থাকা ধর্মীয় বক্তাদের কেউ কর ফাঁকি দিয়ে থাকলে যাতে ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে কারণে শ্বেতপত্রটি তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও দেবেন৷

শ্বেতপত্র রাজস্ব বোর্ডের কাছেও দেয়া হবে: তুরিন আফরোজ

কত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ?

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মিজানুর রহমান আজহারী, মাহমুদুল হাসান গুনবী, জুনায়েদ আল হাবিব, কাজী ইব্রাহিম, গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, হাসান জামিল, তারেক মনোয়ার, ইলিয়াসুর রহমান জিহাদী, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, মুহিব খানের মতো তুমুল জনপ্রিয় বক্তারা রয়েছেন এই তালিকায়৷

শ্বেতপত্রে ‘ওয়াজের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিস্তার এবং ৪০ জন বক্তার পরিচিতি' শিরোনামে একটি অধ্যায় রয়েছে৷ সেখানে গিয়েই ৩৫ জনের বিবরণ পাওয়া গেছে৷

কেবল এদের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন তুরিন আফরোজ৷

তবে এই শ্বেতপত্রের শুরুর দিকে সারাংশ ও সুপারিশ নামে ‘ওয়াজের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিস্তার' নামে একটি অংশ রয়েছে৷ এতে বলা হয়, বর্তমান গণকমিশন ১১৬ জন উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক ইসলামি বক্তার তালিকা তৈরি করেছে৷ তারা ইউটিউবে ওয়াজের নামে সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন৷ ‘‘ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তাদের ভুল ব্যাখ্যায় বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে৷ সারা দেশে কওমিপন্থি প্রায় ১০০ জন, জামায়াতপন্থি ১০০ জন, মাজারপন্থি ৫০ জন, আলিয়াভিত্তিক ৫০জন এবং আহলে হাদিসের ৫০ জন বক্তা হিসাবে পরিচিত৷'' প্রতিবেদনে এভাবে থাকলেও এখন ৩৫-৪০ জনের বিষয়টাকেই সামনে আনতে চাচ্ছে গণতদন্ত কমিশন৷

এক প্রশ্নের জবাবে তুরিন আফরোজ বলেন, ১১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, জনপ্রিয় বক্তা হিসাবে৷ সেখান থেকে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের বিবরণ দেয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশে ‘ইসলামকেন্দ্রিক দুনিয়া'

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা পরিসরে চলে ইসলামকেন্দ্রিক নানা কার্যক্রম৷ মুসলমানদের প্রাত্যহিক ধর্মীয় কাজের অন্যতম কেন্দ্র মসজিদ৷

২০০৮ সালে করা ইসলামি ফাউন্ডেশনের একটি জরিপকে উদ্বৃত করে কয়েক বছর আগে সংসদে জানানো হয়েছিল, ‘দেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬টি৷ এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই রয়েছে ২ হাজার ৭৭৭টি মসজিদ৷'

দেশে ইসলামকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বড় আরেকটি অংশ পরিচালিত হয় মাদ্রাসাকে ঘিরে৷ বাংলাদেশে দুই ধরণের মাদ্রাসা রয়েছে৷ সরকারি সিলেবাসের মাদ্রাসা এবং কওমি মাদ্রাসা৷ ২০২০ সালে সংসদকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, দেশে সেই সময়ে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৭ হাজার ৬২৪টি এবং এমপিওবিহীন মাদ্রাসার সংখ্যা এক হাজার ৯১২টি৷ এর বাইরে জাতীয়করণকৃত কয়েকটি সরকারি মাদ্রাসাও রয়েছে৷ এ সব মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনসহ নানা খরচের যোগান দেয় সরকার৷

চলতি বছর সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ১৯ হাজার ১৯৯টি৷ এরা ভারতের দেওবন্দের সিলেবাসে পরিচালিত হয়৷ মানুষের দানের অর্থ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের উৎস৷

ইসলামি বিধিবিধানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা রকমের প্রতিষ্ঠান৷ রয়েছে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন৷ দেশব্যাপী পীরদের আস্তানা এবং ওলি আউলিয়াদের কবর ও মাজারকে কেন্দ্র করে রয়েছে আরেকটি বিস্তৃত কার্যক্রম৷

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রায় ডজনখানেক রাজনৈতিক দল ইসলামকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চালায়৷ তবে এর বাইরে হেফাজতে ইসলামের মতো নিজেদেরকে অরাজনৈতিক দাবি করা এবং জামায়াত ইসলামের মত নিবন্ধন হারানো প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলও রয়েছে বাংলাদেশে৷

ইসলামকে কেন্দ্র সরকারেরও রয়েছে নানা কার্যক্রম৷ সরকারের রয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, ইসলামি ফাউন্ডেশন৷ শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী পরিচালিত নানা কার্যক্রম রয়েছে৷ সম্প্রতি সরকার বিভিন্ন উপজেলায় মডেল মসজিদ তৈরি করছে৷ হজ ব্যবস্থাপনা আরো বড় একটি ধর্মীয় কার্যক্রম৷

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ ভুল ওয়াজের বিরুদ্ধে ফল আনবে না: আলী রীয়াজ

উপরের নানা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর চলে ওয়াজ মাহফিল৷ এর কোনো কোনোটিতে লাখ লাখ মানুষও জড়ো হয়৷ এ সব ওয়াজে ধর্মীয় বক্তব্য দিয়ে বক্তারা লাখ লাখ টাকাও নেন৷

গণতদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এক হাজার কওমি মাদ্রাসার একটি তালিকাও দেয়া হয়েছে, যেগুলো হেফাজত নিয়ন্ত্রিত বলে দাবি করা হয় সেখানে৷

ধর্মীয় কার্যক্রমের অর্থনীতি

ধর্মীয় এ সব কাজের সাথে জড়িয়ে আছে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমও৷ অবশ্য এর পূর্ণ কোনো হিসাব খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আবুল বারাকাত৷

২০১৫ সালে প্রকাশিত মৌলবাদের অর্থনীতি বিষয়ক তার একটি গবেষণায় বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ঔষধ শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ পরিবহন, রিয়েল এস্টেট, সংবাদ মাধ্যম, তথ্য প্রযুক্তি, বেসরকারি সংস্থা, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন প্রভৃতি থেকে বছরে দুই হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়৷

গণতদন্ত কমিশনের সদস্য সচিব তুরিন আফরোজ ‘ধর্ম ব্যবসা' শব্দবদ্ধটিকে প্রাথমিকভাবে খারাপ হিসাবে দেখতে রাজি নন৷ তার মতে, আইনের জ্ঞানকে ব্যবহার করে উপার্জনের কারণে যেমনি তার পেশাকে আইন ব্যবসা বলা হয়৷ একইভাবে কেউ ধর্মপ্রচারকে জীবিকা হিসাবে নিলে সেটাকেও ব্যবসা বলা যাবে৷

এই আইনজীবী বলেন, ‘‘আমরা জানি লাখ লাখ টাকা এ সব ওয়াজের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে৷ যদি এটা ট্রেডই হয়ে থাকে, তাহলে ট্রেডটিকে অর্থনৈতিক জবাবদিহিতার আওতায়তো আনতে হবে৷ আমি যদি ট্যাক্স দেই, ওনাদেরকেও দিতে হবে৷''

বিশ্লেষকদের বক্তব্য

সাংবাদিক ও গবেষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভিক্ষুক থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সবাই ধর্মকে ব্যবহার করে৷ যখন নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য কেউ ধর্মকে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত কাজে ব্যবহার করে, তখনই ধর্মকে ব্যবসায়িক উপায় হিসাবে ব্যবহার করা হয়৷ তার মতে, ‘‘একজন ভিক্ষুক ধর্মের কথা বলে উপার্জন করছে৷ একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীও কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করছে বা রাজনৈতিক দল অথবা তারা ধর্মকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আমরা ব্যবহার করতে দেখেছি৷ ডেফিনেটলি, দিস ইজ অলসো ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস৷''

আজাদ বলেন, সোভিয়েত আমলের আফগানিস্তান ফেরত যোদ্ধারা আরাকানে একটি যুদ্ধ পরিচালনা করতে চেয়েছিল৷ পাকিস্তান জামায়াত থেকে জামায়াতের বিবর্তনও আমরা জানি৷ তারাও ধর্মকে ব্যবহার করে৷ ‘‘আরো অনেকে ধর্মকে ব্যবহার করে, তাদের ব্যবহারের ধরন ভিন্ন৷ যেমন আমরা জানি, বাম সংগঠনগুলোর ধর্মীয় স্ট্যান্ডটা কেমন?'' বলেন তিনি৷

রাশেদ খান মেনন এবং হাসানুল হক ইনুর হজ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আজাদ বলেন, ‘‘তাদের কিন্তু হজ করার কথা না৷ তারা যখন বুঝতে পেরেছে, এখান থেকে তারা বেনিফিট পাবে৷ ধর্মের একটা লেবাস লাগালে বিভিন্ন রকমের সুবিধা হতে পারে৷ তখন সেটা তারা করেছে৷''

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘ধর্মের এই বাণিজ্যগুলো নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো তদারকি নেই৷ ট্যাক্স-ভ্যাটের সিস্টেম এখানে নাই৷ আমরা জানি বাংলাদেশের ভেতর থেকে এবং দেশের বাইরে কয়েকটি রাষ্ট্র থেকে বিশেষ করে, ইংল্যান্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার না হলেও শত শত কোটি টাকা আসে, ইন দ্য নেম অব চ্যারিটি, পেশাবখানা, অজুখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা এগুলো উপলক্ষ্যে৷''

সাংবাদিক ও গবেষক আজাদ বলেন, ‘‘এটা নিয়ে তদন্ত করতে গেলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে৷ সবাই ট্যাক্স-ভ্যাট দিলে তারা কেন দেবে না? তারা না দিলে কী হয়? এই টাকাগুলোর অনেক নয়-ছয় হয়৷ এই টাকাগুলো অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে ব্যবহৃত হয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানি যে, বাইরে থেকে চ্যারিটির নামে যে ডোনেশন আসে, এর একটা অংশ জঙ্গি অর্থায়নে ব্যবহার হয়েছে৷ এখনো হয়৷''

ধর্মীয় স্পর্শকাতরতার কারণেই এদেরকে ধরা হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন আজাদ৷

উপমহাদেশের ধর্মীয় রাজনীতি ও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে গবেষণা করেছেন বাংলাদেশি অ্যামেরিকান রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ৷

তিনি ধর্ম ব্যবসা এবং ধর্মীয় রাজনীতি বিষয়টাকে আলাদা হিসাবেই দেখতে চান৷

আলী রীয়াজ বলেন, যে-কোনো সমাজে ধর্মের উপস্থিতি থাকে৷ বাংলাদেশের সমাজেও দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম নানাভাবে উপস্থিত থেকেছে৷ রাজনীতিতেও থেকেছে৷ ‘‘রাজনৈতিকভাবে ধর্মকে আদর্শ হিসাবে বিবেচনা করাটা নতুন নয়৷ কেবল ধর্মভিত্তিক দলগুলোই এটা করে এমন নয়৷ বরং যারা নিজেকের সেকুলার বলে দাবি করে, তাদের ক্ষেত্রেও আমরা এই প্রবণতা দেখতে পেয়েছি৷ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে স্বল্প মেয়াদী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও ধর্মকে ব্যবহার করেছে৷ আমি অবশ্য এটাকে ব্যবহার বলি না৷ কার্যকর থাকা বলি,'' বলেন তিনি৷

আলী রীয়াজ বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সমাজে ধর্মের ভূমিকা কতটুকু? ব্যক্তি জীবনে কতটুকু? সমাজ জীবনে কতুটুক? ব্যক্তি জীবনেরটা আপনার পছন্দের বিষয়৷ কিন্তু সমাজ জীবন কিন্তু কেবল ব্যক্তির পছন্দের বিষয় নয়৷ সমাজে ধর্ম একটা প্রতিষ্ঠান হিসাবে, আদর্শ হিসাবে, এক ধরনের নীতি নৈতিকতার নির্দেশক হিসাবে আছে, থাকবে৷''

‘‘যারা ধর্ম ব্যবসার কথা বলে, সেটা ভিন্ন জিনিস৷ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার আর ধর্মকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার দুইটা ভিন্ন জিনিস৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমি যদি অন্যায়ভাবে কোনো কিছু ব্যবসা হিসাবে ব্যবহার করি, সেটা ধর্মের কথা আপাতত বাদ দিন৷ তাহলে তার জন্য আইনতো আছে৷ সমাজে সেগুলোর অগ্রহণযোগ্যতাও আছে৷ সকলকে আমরা গ্রহণ করি না৷ রাজনীতিতে ধর্মের বিষয় এক, সমাজে ধর্মের বিষয় এক, রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্কের প্রশ্ন এক, আর কথিত ধর্ম ব্যবসা অন্য জিনিস৷''

আলী রীয়াজ বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ধর্মের প্রচার করছেন, তারা আর্থিকভাবে কোনো আইন ভাঙছেন কী না৷ সেটা দেখার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আছে, দুদক আছে৷ তারা নিজস্ব উদ্যোগেই যে-কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে উদ্যোগী হতে পারেন৷ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে না তোলার কারণে, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে আজ এই প্রশ্ন উঠেছে৷

চেইঞ্জ মেকার তৈরি করতে হবে, তাদের মধ্য থেকে: মুবাশ্বার হাসান

কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ করে এ বিষয়ে উৎসাহী হয়ে উঠলেন কেন?

গণতদন্ত কমিশনের দিকে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আলী রীয়াজ অভিযোগের আঙুল তুললেন ইসলামী বক্তাদের দিকেও৷

তিনি বলেন, ইসলাম প্রচারের নামে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিকর বিষয় তারা প্রচার করছেন৷ ক্ষেত্রবিশেষে এগুলো ভুল ও মিথ্যা৷ তারা অপপ্রচারও করছেন৷ তাদের বিরুদ্ধে যদি আপনি ব্যবস্থা নিতে চান, তাহলে কোথায় ত্রুটি, তার বিরুদ্ধে কথা বলুন৷

‘‘দেশে সামগ্রিকভাবে কথা বলার দরজা বন্ধ রেখে কতিপয় ব্যক্তি একদিকে প্রচার করবেন তাদের ইচ্ছেমত৷ অন্যদিকে রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার নামে তাদেরকে কিছুই করা হবে না৷ আমি বলছি কথিত ইসলাম প্রচারকদের কথা৷''

‘‘অন্যদিকে কিছু ব্যক্তি চাইবেন, তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আগামী নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া যায়৷ এগুলো দেশের জন্য ভালো না৷ এগুলো সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমি মনেই করি না৷''

প্রবাসী গবেষক মুবাশ্বার হাসানডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের প্রথমে এটা মেনে নিতে হবে, বাংলাদেশে ফেক নিউজ, হেট স্পিচ, কর ফাঁকি, বিভিন্নভাবে অর্থের যোগান আসা-এই সবকিছু বিভিন্ন সেক্টরে হচ্ছে৷ কেবল ধর্মীয় সেক্টরে না৷ এই সেক্টরটা সমাজের বাইরে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আপনি যদি হেট স্পিচের কথা দেখেন, সম্প্রতি ড. ইউনূসকে পানিতে ‍চুবানোর কথা বলা হলো, তারপর বলা হলো, খালেদা জিয়াকে ব্রিজ থেকে ফেলে দেয়া উচিত৷ এই ধরনের মন্তব্যগুলোর স্পিরিট হেট কি-না, এটা আপনি চিন্তা করবেন৷''

‘‘এই জিনিস কিন্তু সব জায়গায় আছে৷ যদি কারো সাথে মতের মিল না হয়, সে রাজাকার, সে এই, সে সেই-মানে ইনটলারেন্স ইজ এমবেডেড ইন আওয়ার সোসাইটি এন্ড পলিটিক্স৷ ফর দ্যাট রিজন, রিলিজিয়ন ইজ নট ডিটাচড ফ্রম সোসাইটি৷ একারণে এক ধরনের গ্রুপ আছে, যারা মাইনোরিটির বিরুদ্ধে…৷''

‘‘ফেক নিউজের ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন, ফেসবুক অনেকগুলো গ্রুপ বন্ধ করে দিয়েছে, যেগুলো যে দলটা প্রাধান্য বিস্তার করে আছে, তার সাথে সম্পৃক্ত৷ সুতরাং এটাতো দুইপাশেই চলছে৷ এগুলো এক সাইডে থাকে না৷ ধর্মের ক্ষেত্রেতো কোনো রেগুলেশন নেই, যে যার ইচ্ছামতো কে ইসলামিক, কে নন ইসলামিক এগুলো বলতে পারে৷''

‘‘সমস্যা হচ্ছে যদি কেবল একটা সেক্টরকে আইডেন্টিফাই করেন, তাহলে পুরো সমাজের চিত্রটা উঠে আসে না৷''

‘‘কর ফাঁকির বিষয়টাও আমাদের সামাজের একটা এলিমেন্ট৷ যেহেতু আমরা ধর্মকে ভালোবাসি৷ তাই অনেকে আশা করে, তারা এই কাজটা করবেন না৷ কিন্তু তারাও এটা করে থাকেন৷''

‘‘ইন জেনারেল আমি যেটা মনে করি, যদি সমাজ রেসপেক্টফুল হয় টু পিপল, টু দ্য ইনস্টিটিউট অব দ্যা স্টেট, এন্ড রুল অব ল৷ তাহলে এরাও এই পথে আসবে৷ আদারওয়াইজ, এটা চলতেই থাকবে৷''

‘‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে নানা রকম ইন্টারভেনশন হয়েছে, সেগুলো কিন্তু ওই সেক্টরের লোকজনকে নিয়ে করতে হয়েছে৷''

‘‘তাদেরকে আলাদা করে টার্গেট করলে জিনিসটা আসলে পাওয়া যাবে না৷ আমার ধারণা, রেজিস্টেন্স হবে৷ সো দে নিড টু বি মোটিভেটেড, দে নিড টু বি এনকারেজড টু কাম অন বোর্ড টু এড্রেস দিজ ইস্যু৷''

‘‘চেইঞ্জ মেকার তৈরি করতে হবে, তাদের মধ্য থেকে৷''

সংশ্লিষ্ট বিষয়