ধর্ম ও জাতপাতের সহিংসতা বেড়েই চলেছে | বিশ্ব | DW | 21.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ধর্ম ও জাতপাতের সহিংসতা বেড়েই চলেছে

ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক অপরাধের হার ভারতে উদ্বেগজনক৷ বছরের প্রথম ছ’মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর ১০০টির বেশি অপরাধের ঘটনা ঘটে৷ তালিকার শীর্ষে আছে উত্তর প্রদেশ৷ জানাচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতে ১০০টিরও বেশি ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষজনিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে যাকে বলে ‘হেট ক্রাইম'৷ সবথেকে বেশি হয় বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশে এই ধরনের ১৮টি ঘটনা ঘটেছে৷ তারপর মোদী রাজ্য গুজরাটে ১৩টি৷ এছাড়া রাজস্থানে ৮টি আর বিহারে ঘটেছে ৭টি৷ গত বছর এই সংখ্যাটা ছিল দুশ'র মতো৷ এই তো সমীক্ষা চলাকালীন গত মাসেই উত্তরপ্রদেশের হাপুর শহরে মোহাম্মদ কাশিম নামে এক মুসলিম গরু জবাই করেছে সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়৷ একই সন্দেহে ২০১৫ সালে উত্তরপ্রদেশের দাদরি এলাকায় ঘরে গরুর মাংস রাখার অপরাধে মোহাম্মদ আখলাখকে পিটিয়ে মারার ঘটনার পর মানবাধিকার সংস্থা এই সমীক্ষা শুরু করে৷ তখন থেকে এ পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৬০৩টি হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ‘বিদ্বেষ থামাও' নামে এই সমীক্ষা শুরু করে৷ সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬৭টি দলিত ও আদিবাসী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে৷ এর মধ্যে গো-সন্ত্রাস এবং অনার কিলিং সবথেকে বেশি৷ জাতিভেদ এবং ধর্মীয় হিংসার কেন্দ্রভূমি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা. এবং দক্ষিণী রাজ্য কেরালা৷

অডিও শুনুন 02:44

‘আইনের শাসন যদি না থাকে, তাহলে নতুন আইন বানিয়ে লাভ কী?’

 সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, বুলন্দশায়েরের এক গ্রাম পঞ্চায়েত ৪৪ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে ডেকে পাঠিয়ে মারধর করে এবং তারপর নিজের থুথু নিজেকে চাটতে বাধ্য করে৷ তাঁর অপরাধ, তাঁর ছেলে অন্য জাতের মেয়েকে বিয়ে করেছে৷ কেরালায় এক খ্রিস্টান যুবক এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করার পর তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়৷ এই হুমকি লাগাতার চলছে৷ তবে ঐ তরুণ-তরুণী নিজেদের ধর্ম পরিত্যাগ করেনি৷ দলিতদের ওপর হিংসার কারণ যথেষ্ট মর্মান্তিক৷ দলিতরা ঘোড়ায় চাপলে সেটা অপরাধ৷ সেই অপরাধে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়৷ দলিত মহিলারা হামেশাই গণধর্ষণের শিকার হয় এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মারার নজিরও কম নেই৷

অ্যামনেস্টির রিপোর্টে বলা হয়েছে, অন্যান্য অপরাধ থেকে হেট ক্রাইমকে আলাদা গণ্য করা দরকার৷ এর পেছনে আছে জাতপাত ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক মানসিকতা৷ এর তদন্ত ও শাস্তিও হওয়া উচিত আলাদাভাবে৷ প্রচলিত আইনে সাধারণত হেট ক্রাইমকে পৃথক অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়৷ এই প্রসঙ্গে এখন সরব হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চের রায়, গণপ্রহারকে পৃথক আইনি অপরাধ গণ্য করে তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সংসদে বিশেষ আইন আনা৷ গণপ্রহার, গণহিংসাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না৷ কখনো কখনো ভুয়া খবরও অসহিষ্ণুতার জন্ম দেয়৷ জনতাকে হিংসায় উন্মত্ত করে তোলে৷ তাই  মোদী সরকারকে গো-সন্ত্রাস বা গণপিটুনির মতো অপরাধ দমনের দায়িত্ব নিতে হবে৷ দায়িত্ব নিতে হবে হেট-ক্রাইম এবং তথাকথিত অনার-কিলিং দমনের৷ গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এই মর্মে বার্তা দিয়েছে মোদী সরকারকে৷ পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলির জন্যও একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কেউই এই দায়িত্ব এড়াতে পারে না৷ এড়াতে পারে না সুশীল সমাজও৷ সমাজে ভেদাভেদ সৃষ্টির অভিযোগে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে এফআইআর করতেই হবে৷ প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট স্তরের একজন অফিসারের উপর থাকবে ধর্ম ও জাতপাত সংক্রান্ত অপরাধ রোখার দায়িত্ব৷ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ পুলিশ-প্রশাসনের কাজে গাফিলতি দেখা গেলে কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এইসব মামলার বিচার হবে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে৷ নির্যাতিতদের আইনি সাহায্য, মেডিকেল সুবিধা, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা দিতে হবে৷

দক্ষিণ এশিয়া মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক মীনাক্ষি গাঙ্গুলি এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি, গোরক্ষার নামে যাঁরা হামলা চালালো, পুলিশ তাঁদের না ধরে যাঁরা হামলার শিকার, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করলো৷ এই পরিবেশে যখন আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়ে, তখন একটা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এই ধরনের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয়৷ তাই সরকারকে প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে এই পরিবেশ তৈরির জন্য কারা দায়ী৷ কড়া শাস্তি দেওয়া হলে এটা বাড়তো না৷ অনেক সময়ে এটা সংগঠিতভাবে হয়৷ কড়া আইন প্রণয়ন সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষি গাঙ্গুলির বক্তব্য, নতুন আইন তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন তার প্রয়োগ ঠিকভাবে হবে৷ এখন তো আমরা দেখছি, চলতি আইনে যেটুকু হতে পারে তা-ও করা হয় না৷ এই তো দেখুন না, কয়েকদিন আগে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী স্বামী অগ্নিবেশকে বিজেপি শাসিত ঝাড়খন্ডে কিভাবে মারধর করা হলো৷ সরকার বলছে, যারা এই কাজ করেছে, তারা আমাদের লোক নয়৷ আইনের শাসন যদি না থাকে, তাহলে নতুন আইন বানিয়ে লাভ কী?  আবার এটাও ঠিক, সবক্ষেত্রে শুধু পুলিশকে দায়ী করলেই ব্যাপারটা শেষ হয়ে যায় না৷ পুলিশ বলে, আমরা কী করবো, উপরতলা থেকে চাপ আসে, অ্যাকশন নিতে পারি না৷ অনেক সময়ে পুলিশদের মধ্যেও একটা ধারণা কাজ করে যে, রাজনৈতিক নেতারা যখন কম-বেশি জড়িত, তখন দায়িত্বটা দেশের৷''

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? মন্তব্য লিখুন, নীচের ঘরে৷

বিজ্ঞাপন