ধর্মীয় বিভেদ তৈরির ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 16.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ধর্মীয় বিভেদ তৈরির ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার উদ্যোগ

ভারতের বহু জায়গার মতো বিজেপি-‌শাসিত হরিয়ানাতেও সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে৷ এর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে শুক্রবারের নামাজকে৷ তবে বিতর্কে জল ঢালতে উদ্যোগী হয়েছে ওয়াকফ বোর্ড৷ পথে নেমেছে নাগরিক সমাজও৷

হরিয়ানার গুরুগ্রাম শহরে এতদিন ১২৫টি খোলা জায়গায় নামাজ পড়তেন মুসলমানরা৷ প্রশাসন ১০০টি জায়গায় নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছে৷ মাত্র ২৫টি জায়গায় শুক্রবারের প্রার্থনা করতে পারছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন৷ মূলত ২২টি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আপত্তির জেরেই এই সিদ্ধান্ত৷ ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে৷ গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৩-তে ওয়াজিরাবাদে এক সরকারি জায়গায় একদল যুবক আচমকাই নামাজের জন্য জড়ো হওয়া মানুষদের বাধা দেয়৷ তাদের নামাজ ভন্ডুল করে দেয়৷ ভয়ে, অনেকেই ফিরে যান৷ ওই যুবকদের বক্তব্য ছিল, ‘‌প্রকাশ্যে নয়, নামাজ পড়তে হবে শুধুমাত্র মসজিদ বা দরগাতেই৷'‌

এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে শহরের ওয়াজিরাবাদ-‌সহ সাইবার পার্ক, বখতাওয়ার, আতুল কাটারিয়া চক এবং সাউথ সিটি এলাকাতেও৷ নামাজে আপত্তি তকোলা সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু ক্রান্তি দল, গো-রক্ষক দলের মতো ২২টি সংগঠন৷ তারা ‘‌সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি'‌ তৈরি করেছে৷

কিন্তু সমস্যাটা হলো, গুরুগ্রামে যথেষ্ট মসজিদ নেই৷ অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলায় বাধ্য হয়েই খোলা জায়গায় নামাজ পড়তে হচ্ছে তাদের৷ হরিয়ানা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান রহিশ খানের বক্তব্য, ‘‘‌‌গুরুগ্রাম শহরে বোর্ডের ২০টি জায়গা চিহ্নিত করেছি আমরা৷ এর মধ্যে অনেক জায়গা জবরদখল হয়ে রয়েছে৷ এখন সরকার যদি জবরদখলকারীদের হঠাতে সাহায্য করে, তাহলে যেখানে মুসলিমরা জুম্মার নামাজ পড়তে পারবেন৷'‌'‌ প্রসঙ্গত গুরুগ্রামে ১২,০০০ সম্পত্তি আছে বোর্ডের, যার মধ্যে ৪,০০০ জবরদখলকারীদের হাতে৷

লোকসভার সাংসদ ইদ্রিস আলি বলেন, ‘‌‘‌বিষয়টা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক৷ যাঁরা জুম্মার নামাজে বাধা দিচ্ছেন, তাঁরা নামাজ কী জিনিস তা-‌ই জানেন না৷ বোঝেনও না৷ ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ৷ সংবিধানে সব ধর্মের মানুষকে নিজের নিজের ধর্মাচরণের অধিকার দেওয়া আছে৷ সেসব না জেনেই বিশেষ উদ্দেশ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে৷ কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এইসব করছে৷ আমাদের সমাজ ও দেশে নামাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না৷'‌'‌

অডিও শুনুন 05:00

‘যাঁরা জুম্মার নামাজে বাধা দিচ্ছেন, তাঁরা নামাজ কী জিনিস তা-‌ই জানেন না’

বেছে বেছে মুসলিমরা কেন? অন্যান্য ধর্মের মানুষরাও তো ধর্মাচরণ করেন৷ সে বিষয়ে তাঁর পালটা প্রশ্ন, ‌‘‘হিন্দুদের দেব-‌দেবী পুজোতেও তো পথ আটকে প্যান্ডেল হয়৷ অনেকের অসুবিধআ হয়৷ কিন্তু সব ধর্মের মানুষ তো সেটা মানিয়ে নেয়৷ তাহলে এক্ষেত্রে এমন আচরণ করা হচ্ছে কেন?‌''

এত সবের মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর হিন্দুত্ববাদীদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন৷ তাঁর সাফ কথা‘‘সরকারি জমি নমাজ পড়ার জায়গা নয়৷ নামাজ পড়া উচিত ইদগাহ বা মসজিদের ভেতর৷''

খট্টর বলেন, ‘‌‘আইন-‌শৃঙ্খলা বজায় রাখা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব৷ ইদানীং খোলা আকাশের নীচে, জনবহুল এলাকায় নমাজ পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ সরকারি জায়গার বদলে মসজিদ বা ইদগাহে নামাজ পড়লেই তো হয়৷''

বলা বাহুল্য, বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত৷ তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৫ মে পর্যন্ত সমস্ত সরকারি কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে সরকার৷ উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনাও চলছে৷

তবে দেশটার নাম ভারত৷ মুসলিমদের ওপর অন্যায় হলে এগিয়ে আসেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন হিন্দুরাই৷ ঠিক যেমনটা হয়েছে গুরুগ্রামেও৷ সেখানকার নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 01:01

‘নামাজে হামলা রোখার আর্জি জানানো হয়েছে’

সংগঠনের কর্ণধার রাহুল রায় বলছেন, ‘‌‘‌আমরা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে গুরুগ্রামের পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি৷ নামাজে হামলা রোখার আর্জি জানানো হয়েছে৷ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে৷ শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে৷ গুরুগ্রাম অত্যন্ত বড় ও জনবহুল শহর৷ এখানে মাত্র ১৫টি মসজিদ আছে৷ এত মানুষ কোথায় যাবেন?‌ একটি ধর্মের মানুষের এই সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে৷ পুলিশ কমিশনার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন৷''

গুরুগ্রামের পুলিশ কমিশনার সন্দীপ খিরবারের বক্তব্য: ‘‘চিন্তা করবেন না৷ আমরা এলাকায় কোনো অশান্তি বরদাস্ত করব না৷ ধর্মীয় কোনো সমস্যা হলে আলাপ-‌আলোচনার মাদ্যমে তা মিটিয়ে নেওয়া হবে৷''

সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির অধ্যক্ষ রাজীব মিত্তলের প্রশ্ন, ‌‌‘‘এতদিন আমরা আপত্তি তুলিনি, কারণ এতদিন রাস্তায় নেমে কেউ নামাজ পড়েনি৷ এখন হঠাৎ করে অন্যের সমস্যা তৈরি করে খোলা জায়গায় নামাজ পড়া হচ্ছে৷ আচমকা একটি সম্প্রদায়ের এত মানুষ কোথা থেকে এলেন?‌''

সংগঠনের মহামন্ত্রী মহাবীর ভরদ্বাজ তো আরও একধাপ এগিয়ে অভিযোগ করেছেন: ‘‌‘রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিমরা গুরুগ্রামে এসে উঠেছে গুরুগ্রামে৷ সংখ্যাটা নাকি প্রায় চার লক্ষ৷ কারও সঙ্গে বিরোধ নেই৷ সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে মাত্র৷ সরকার জল আর দুধ আলাদ করুক৷''

স্থানীয় বাসিন্দা মৌলানা রিজওয়ান সাকলাইন যদিও বলছিলেন, ‘‘‌‌দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মুসলমান সম্প্রদায়ের বহু মানুষ এই শহরে কাজের সন্ধানে আসেন৷ বেশিরভাগই গরিব শ্রমিক৷ শহরে মসজিদ খুবই কম৷ ফলে জুম্মার নামাজের জন্য বাধ্য হয়েই কোনো ফাঁকা জায়গায় যেতে হয়৷''

‘‌‘কাউকে বিরক্ত করা, কারও সমস্যা তৈরি করা ‌নামাজের উদ্দেশ্য নয়৷ এখন গুরুগ্রামে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার শান্তিপূর্ণ সমাধানই কাম্য৷ ওয়াকফ বোর্ড যে প্রস্তাব দিয়েছে তা সাধুবাদের যোগ্য৷ বোর্ডের সম্পত্তি দখলমুক্ত করুক সরকার৷ তাতে উভয়েরই সুবিধা হবে৷ রাজ্য সরকার ও বোর্ড বৈঠক করে সমাধান করুক৷'‌'‌

প্রসঙ্গত, ভারতের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি হাব হিসেবে ধরা হয় গুরুগ্রাম শহরকে৷ এখানে বহুজাতিক কোম্পানি, সুবিশাল অট্টালিকার সারি এবং বিশ্বখ্যাত সব শপিং মলের ভিড়৷ দেশের এই শহর ‘‌মিলেনিয়াম সিটি'‌ নামেও পরিচিত৷ এর আগে শহরটির নাম ছিল গুড়গাঁও৷ ২০১৬ সালের এপ্রিলে হিন্দু পুরাণ মহাভারতের চরিত্র গুরু দ্রোনাচার্যের নামে শহরের নাম পরিবর্তণ করে নতুন নামকরণ করা হয় গুরুগ্রাম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন