‘ধর্মীয় এই সংকট কূটনীতি বা বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলবে না’ | আলাপ | DW | 30.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘ধর্মীয় এই সংকট কূটনীতি বা বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলবে না’

‘কোন রাষ্ট্র কোন ধর্মের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না৷ আবার ধর্মের বিপক্ষেও দাঁড়াবে না৷ ফরাসি রাষ্ট্র ধর্মের পক্ষেই দাঁড়িয়েছে৷ তার পরিণতি হয়েছে একটা বড় অংশের মানুষ ফরাসি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে৷’

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আলী রীয়াজ৷

অধ্যাপক ড. রীয়াজের মতে, ধর্মীয় এই বিভেদকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক বাণিজ্য বা রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে যাবে আমি তার কোন ইঙ্গিত দেখতে পাই না৷ এমনকি এটা দিয়ে কূটনীতি নির্ধারিত হবে এমনও কোন ইঙ্গিত দেখি না৷

ডয়চে ভেলে : ধর্ম ও সহনশীলতার সম্পর্ক কি?

অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ : যে কোন ধর্মই সহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার কথা বলে৷ আপনি যদি ইসলাম, খ্রিষ্টান বা হিন্দু যে ধর্মের কথা বলেন না কেন, অন্য ধর্মের মানুষদের  আক্রমণ করতে হবে, উগ্র আচরণ করতে হবে এমন কথা কিন্তু নেই৷ বরং বলা হচ্ছে, অন্যের ধর্মের প্রতি, বিশ্বাসের প্রতি সহনশীলতা থাকতে হবে৷ ফলে প্রত্যেক ধর্মেই সহনশীলতার কথা বলা আছে৷ প্রত্যেকের মানবিক মর্যাদার কথা বলা আছে৷প্রত্যেককে তৈরি করেছে কে? আপনি যদি ইসলাম ধর্মাবলম্বী হন তাহলে বলবেন আল্লাহ৷ আপনার বিশ্বাসের জন্য জবাবদিহি কার কাছে? আল্লাহর কাছে বা ইশ্বরের কাছে, তাই তো৷ তাহলে মেনেই নেওয়া হচ্ছে এক ধরনের সহনশীলতা থাকতে হবে, সহিষ্ণুতা থাকতে হবে৷

অডিও শুনুন 12:50

‘আমি কিন্তু ধর্মীয় কোন সংকট দেখতে পাচ্ছি না’

ধর্ম কি সহনশীলতা বাড়ায় না কমায়? 

আপনি যদি ধর্মকে আত্মস্থ করেন তাহলে ধর্ম আপনাকে সহনশীলতা বাড়াতেই সহায়তা করবে৷ আপনি যদি এই বিশ্বাস করেন যে, অন্য ধর্মের মানুষ থাকবে, তাহলে তো আপনি সহনশীলই হবেন৷ কিন্তু সবসময় তা হয় না তারও কারণ আছে৷ ধর্মের মধ্যে আপনি এমন উপাদানও পাবেন, মানে সেটা যে কোন ধর্মই পাবেন- বিশেষ কোন ধর্মের কথা আমি বলছি না যেখানে অন্যকে আপনার ধর্ম বিশ্বাসে আনতে চেষ্টা করবেন৷ এই চেষ্টা করার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখা করার অবকাশ থাকে৷ একেবারে সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও যদি আপনি দেখেন তাহলে দেখবেন ব্যক্তিজীবনে ধর্ম চর্চার মধ্য দিয়ে সহনশীলতা বাড়ানো যায়৷ সেই শিক্ষাটা ধর্মে আছে৷ সেটা গ্রহণ করার বিষয়৷ আবার সহনশীলতা কমানোর অনেক কারণ আছে৷ সেখানে কিন্তু ধর্মই একমাত্র কারণ নয়৷ 

ধর্মীয় কোন সিদ্ধান্ত কি কেউ একা নিতে পারেন? যেমন ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক৷ এই সিদ্ধান্ত কী আলোচনা করে নেওয়া হয়েছে?

এই দুটো কিন্তু ভিন্ন জিনিস৷ ধর্মীয় সিদ্ধান্ত একা নিতে পারা আর ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক, এই দুটো মেলানো ঠিক হবে না৷ আপনার আত্মিক মুক্তির জন্য সেই সিদ্ধান্ত আপনি একা নিতে পারেন৷ এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ ধর্মীয় গ্রন্থের মধ্যেই আছে৷ সেটা কিন্তু আমার একার সিদ্ধান্ত৷ আবার সমাজের জন্য যখন আপনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তখন কিন্তু আপনাকে ওই বিবেচনাটা করতে হবে৷ সেটা কি? অন্য ধর্মের মানুষ যারা আছেন, তারা কিভাবে দেখবেন? আপনি যে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাকের কথা বলছেন, সেটাতে কিন্তু এক ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা আছে৷ যেমন আছে ফরাসি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে৷ এগুলো কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনা দিয়ে প্ররোচিত হয়েছে৷ ফরাসি পণ্য বয়কটের জন্য কেউ কেউ ডাক দিয়েছেন৷ যারা ডাক দিয়েছেন তাদের কি সেই অধিকার আছে? আমি বলব, হ্যাঁ আছে৷ সেই অধিকারের চর্চা করতে গিয়ে আপনি কার ক্ষতি করছেন সেই বিবেচনাও করতে হবে৷  

অনেক সময় দেখা যায়, একজন ধর্মীয় নেতা আকস্মিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন৷ যেমন ব্লগারদের হত্যার ডাক দেওয়া হল, এটা আপনি কিভাবে দেখেন? 

এগুলো কিন্তু ধর্মীয় বিবেচনার সিদ্ধান্ত নয়৷ হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার অধিকার কোন ধর্মের কারো আছে কি-না সেটা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে৷ শুধু ব্লগার নয়, কারো ক্ষেত্রেই নয়৷ যে প্রাণ আপনি দিতে পারেন না৷ আমার যতটুকু ধর্মজ্ঞান তাতে কারো প্রাণ নেওয়ার অধিকার কোন ধর্ম কাউকে দেয়নি৷ কোন একজন ব্যক্তি হয়তো কথিত ফতোয়া দিয়ে এটা বলছেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো ফতোয়া দেওয়ার অধিকার কি তার আছে? বিশেষ করে এরকম একটা বিষয়ে? আমি মনে করি নেই৷ 

বর্তমান যুগে ধর্ম কি রাজনীতিতে বেশি প্রভাব ফেলছে? 

আমি মনে করি, ফেলছে৷ গত কয়েক দশকে বৈশ্বিকভাবেই যদি আপনি দেখেন তাহলে দেখবেন প্রভাব ফেলছে৷ তার বিভিন্ন রকম কারণ আছে৷ এর বড় কারণ হলো রাজনীতি যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র যেভাবে তৈরি করা হয়েছে তার মধ্যে যে ধারণা ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক আছে৷ ধরুন পশ্চিমা বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো তৈরি হয়েছে যেভাবে ধর্মের সঙ্গে তার এক ধরনের বোঝাপড়া হয়েছে৷ এই বোঝাপড়া যে অনন্তকালের জন্য হয়েছে তা নয়৷ ফরাসি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেটা হয়েছে৷ এখন যেটা ঘটছে, তার কিছু কিছু লক্ষণ কিন্তু আমরা আগেই দেখেছি৷ এটা যে হঠাৎ করে ঘটেছে তা নয়৷ এইসব জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধর্ম এখন রাজনীতিতে বড় ধরনের গুরুত্ব নিয়ে হাজির হয়েছে৷ 

ধর্মের রাজনীতি এবং রাজনীতির ধর্ম কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কী হওয়া উচিত? 

এই দুটোও ভিন্ন জিনিস৷ ধর্মের রাজনীতি যদি আপনি বলেন তাহলে প্রশ্ন হলো রাজনীতিতে ধর্ম থাকবে কি-না?রাজনীতিতে ধর্ম থাকবে৷ সমাজে যেমন ধর্মের উপস্থিতি আছে তেমনি রাজনীতিতেও আমরা ধর্মের উপস্থিতি দেখতে পাবো৷ এখন প্রশ্ন হলো কতদূর পর্যন্ত থাকবে? আমি মনে করি, যে ধর্মের মানুষই হন রাষ্ট্রের কাজ হলো তার সুরক্ষা দেওয়া৷ ফরাসি রাষ্ট্র যে ভূমিকাটা নিয়েছে৷ আমি মনে করি, কোন রাষ্ট্র কোন ধর্মের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না৷ আবার ধর্মের বিপক্ষেও দাঁড়াবে না৷ ফরাসি রাষ্ট্র ধর্মের পক্ষেই দাঁড়িয়েছে৷ তার পরিণতি হয়েছে একটা বড় অংশের মানুষ ফরাসি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে৷ এর বড় একটা কারণ বিভিন্ন মুসলিম দেশে ফরাসিদের যে উপনিবেশিকতার ইতিহাস আছে সেগুলো উপাদান হিসেবে কাজ করেছে৷ আর রাজনীতির ধর্ম কি? এটা এক ধরনের নৈতিকতা বা নীতি৷শুনতে ভালো লাগলেও দু'টো একেবারেই আলাদা জিনিস৷ 

ধর্মীয় এই সংকট বিশ্ব বাণিজ্যে কতোটা প্রভাব ফেলতে পারে? 

আমি কিন্তু ধর্মীয় কোন সংকট দেখতে পাচ্ছি না৷ যেভাবে ফরাসি সরকার বলছে বা নীতি নির্ধারকেরা বলছেন যে,ইসলাম ধর্মের মধ্যে সংকট আছে৷ ইসলাম ধর্মের মধ্যে ফরাসিরা যেভাবে সংকট দেখছে, আমি সেভাবে বিবেচনা করি না৷ সব ধর্মের মধ্যেই ভিন্নমত আছে৷ ইসলাম ধর্ম সংকটে পড়েছে এইভাবে বলার আমি কোন কারণ দেখি না৷ পণ্য বয়কটের যে ডাক, সেটি যে ধর্মই একমাত্র কারণ সেটিও আমি মনে করি না৷ বিশ্ব বাণিজ্যে হয়ত কিছুটা প্রভাব ফেলবে৷ কিন্তু আমাদের বিবেচনা করতে হবে ফরাসিরা যে ধরনের অবস্থান নিয়েছে সেটা কতটা যৌক্তিক? ধর্ম কখনই সহিংসতার ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না৷ ধর্ম হচ্ছে আত্মিক মুক্তির বিষয়৷  

সাম্প্রতিক যে সংকট তৈরি হয়েছে সেটা কতোটা বাড়তে পারে?

এই সংকট খানিকটা বাড়বে৷ কারণ এর সঙ্গে ফরাসি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যুক্ত হয়ে পড়েছে৷ কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে যাবে বা বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে যাবে আমি তার কোন ইঙ্গিত দেখতে পাই না৷ হ্যাঁ, তুরস্ক এক ধরনের অবস্থান নিয়েছে৷ তুরস্কের এই অবস্থানের পেছনেও তো রাজনীতি আছে৷ তারা তো আসলে বৈশ্বিক মুসলিম জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে আসীন হতে চায়৷ এটাকে তারা সুযোগ হিসেবে দেখছে৷ সামনের দিনে হয়তো খানিকটা প্রভাব ফেলবে৷ কিন্তু এটা দিয়ে কূটনীতি নির্ধারিত হবে এমন কোন ইঙ্গিত আমি দেখতে পাচ্ছি না৷

বিজ্ঞাপন